পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুক্রবার দক্ষিণ দিনাজপুরে হরিরামপুরে এক জনসভায় মলদায় ঘটানো সহিংস ঘটনাকে “পরিকল্পিত ঘটনা” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, এই হামলার মাধ্যমে রাজ্যকে কলঙ্কিত করার পাশাপাশি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। বিচারিক কর্মকর্তাদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে মমতা বলেন, এই ঘটনার পেছনে স্থানীয়রা নয়, বাহ্যিক শক্তির হাত রয়েছে এবং এটি একটি বড় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ।
ঘটনার পটভূমি
মলদার মোথাবাড়িতে বুধবার বিচারিক কর্মকর্তাদের ওপর যে হামলা হয়, তা স্থানীয়দের কাজ নয় বলে মমতা স্পষ্ট করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “যারা এটা করেছে, তাদের আমাদের সিআইডি হাতে নাতে ধরেছে। স্থানীয় পুলিশ এর সাথে জড়িত ছিল না। তারা বাগডোগরা হয়ে পালানোর চেষ্টা করছিল। তারা মুম্বাই থেকে এসেছে। বিজেপি কংগ্রেসের সাহায্যে মুম্বাই থেকে সেই এআইএমআইএম/আইএসএফ গ্রুপ নিয়ে এসেছে।”
সংখ্যালঘু উস্কানির অভিযোগ
মমতা বলেন, কংগ্রেস এবং হায়দরাবাদ ভিত্তিক একটি দল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে উস্কে দেওয়ার সুযোগ নিচ্ছে। তিনি আরও জানান, “তারা সংখ্যালঘুদের প্ররোচিত করছে এবং তারপর এনআইএ, সিবিআই, ইডি ব্যবহার করে তাদের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে। গুজরাত থেকে বাসে বাইরের লোক আসছে। আমার কাছে ভয়েস রেকর্ড আছে, সঠিক সময়ে প্রকাশ করব।”
ভোট কেটে বিভাজনের অভিযোগ
আলাদা করে AIMIM নাম না করে মমতা বলেছেন, হায়দরাবাদ ভিত্তিক একটি দল সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করার চেষ্টা করছে যাতে বিজেপি উপকৃত হয়। তিনি বলেন, “ভোট কেটে দেওয়ার খেলা চলছে। হায়দরাবাদ থেকে একটি ‘ভাই’ আসছে, সঙ্গে আছে ‘দেশদ্রোহী ভাই’। যদি বন্দি শিবিরে শেষ হতে না চান, আমাদের সঙ্গে থাকুন। আমার হৃদয় বলে, বিজেপি শীঘ্রই সরে যাবে, কিন্তু এর জন্য বাংলায় আমাদের নির্বাচন জেতা অপরিহার্য।”
আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি
মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক পরিবর্তন তাঁর পরামর্শ ছাড়া করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমার থেকে সব কিছু কয়েকদিনের জন্য নেওয়া হয়েছে, কিন্তু আমরা ফিরে এসে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করব।” অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কে জয়রামন জানান, প্রচুর মহিলা ও শিশু থাকায় বিক্ষোভকারী স্থান থেকে বিচারিক কর্মকর্তাদের উদ্ধার করতে দেরি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যেই ১৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিশেষ করে বাগডোগরা বিমানবন্দরে সিআইডি ও সিলিগুড়ি পুলিশের সহযোগিতায় মফাক্কারুল ইসলাম নামে এক আইনজীবী ও তাঁর সহযোগীকে আটক করা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















