নিকোবার দ্বীপপুঞ্জে ভারত সরকারের বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্র সরকার দাবি করেছে, গ্রেট নিকোবারের mega প্রকল্পের কারণে স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রা বা বসবাসে কোনো প্রভাব পড়বে না। কিন্তু কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও প্রবীণ নেতা জয়রাম রমেশ এই দাবিকে সরাসরি “মিথ্যা” বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রকল্পের প্রভাবের ফলে আদিবাসী পরিবারদের স্থানান্তরের জন্য একটি খসড়া পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে, যা সরকারের অতীতে করা প্রতিশ্রুতির সম্পূর্ণ বিপরীত।
স্থানীয় সম্প্রদায়ের উদ্বেগের প্রতি বেদরকারী মনোভাব
রমেশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেছেন, “বুলডোজারটি এগিয়ে যায়, স্থানীয় সম্প্রদায়ের উদ্বেগ ও চাহিদার প্রতি কোনো মনোযোগ দেয় না।” তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যদি প্রকল্প আদিবাসীদের উপর কোনো প্রভাব ফেলে না, তবে স্থানান্তর পরিকল্পনার প্রয়োজন কেন? এই দ্বন্দ্বপূর্ণ পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে সরকারের দাবিকে অসঙ্গতিপূর্ণ ও মিথ্যা হিসেবে প্রমাণ করে।

খসড়া স্থানান্তর পরিকল্পনা ও উদ্বিগ্ন সম্প্রদায়
প্রকল্পের প্রভাবিত সম্প্রদায়ের জন্য স্থানীয় প্রশাসন একটি খসড়া “Comprehensive Tribal Welfare Plan” তৈরি করেছে। এতে বলা হয়েছে, আদিবাসীদের পূর্বপুরাতন বনভূমিতে ফেরত স্থানান্তর করা হতে পারে, যেখানে তারা ২০০৪ সালের সুনামির পর স্থানচ্যুত হয়েছিলেন। পরিকল্পনার খসড়ায় ২৪ মাসের মধ্যে ৪২.৫২ কোটি টাকার ব্যয় ধরা হয়েছে। প্রকল্পের খসড়া এবং বাস্তবায়নের বিস্তারিত না জানায় স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ বেড়েছে।
আর্থ-পরিবেশ-সামাজিক বিতর্ক
গ্রেট নিকোবারের এই mega প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে একটি ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর, বিমানবন্দর, পাওয়ার প্লান্ট ও নতুন শহর। তবে প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় আদিবাসীদের সম্মতি এবং বন অধিকার সম্পর্কিত প্রশ্ন উঠেছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, কেন্দ্র সরকার আদিবাসীদের অধিকার এবং পরিবেশগত প্রভাব যথাযথভাবে বিবেচনা না করে প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, যা আদিবাসীদের জীবনযাত্রার জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে এবং সরকারের প্রতিশ্রুতি মিথ্যা প্রমাণিত হচ্ছে।
![]()
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















