০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬
ডিজিটাল মুদ্রার নতুন লড়াইয়ে কেন উদ্বিগ্ন চীন চামড়ার বাজারে অস্থিরতা, মিলছে না কাঙ্ক্ষিত দাম হজের চূড়ান্ত পর্বে আরাফাত ময়দানে লাখো মুসল্লির প্রার্থনা ইন্টারনেট ফিরলেও কঠোর নিয়ন্ত্রণে ইরান, যোগাযোগে ভোগান্তি অব্যাহত আর্কটিকের বরফে হারিয়ে যাওয়া জাহাজের রহস্যে নতুন মোড়, ১৮০ বছর পর শনাক্ত তিন নাবিক এআই চিপের জোয়ারে ট্রিলিয়ন ডলারের ক্লাবে এসকে হাইনিক্স ও মাইক্রন বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও বাড়ছে খাদ্য নিরাপত্তা সংকট ভারতে কমিউনিস্ট রাজনীতির পতন, শেষ দুর্গ হারিয়ে নতুন সংকটে বামপন্থীরা রাশিয়া থেকে ৫ লাখ টনের বেশি এমওপি সার আমদানি করবে বাংলাদেশ শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত সকাল ৯টায়, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় প্রস্তুত ঐতিহাসিক ঈদগাহ

জ্বালানি সংকটে বন্ধ শত শত ট্রলার ও লাইটার জাহাজ, সাগরে মাছ ধরা বন্ধ

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরে এখন দেখা যাচ্ছে শত শত মাছ ধরার ট্রলার এবং পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত লাইটার জাহাজ অলস বসে আছে। জ্বালানি সংকটের কারণে সাগরে মাছ ধরায় নিয়োজিত ট্রলার এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথে পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত লাইটার জাহাজগুলো কার্যক্রম বন্ধের মুখে দাঁড়িয়েছে।

ডিজেল সরবরাহের ঘাটতি

মৎস্যজীবী এবং লাইটার জাহাজের মালিকরা জানান, ডিজেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় তারা সাগরে যেতে পারছেন না। সমুদ্র ও নদীতে মাছ ধরা এখন প্রায় ৭০ শতাংশ কমেছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলছেন, আনুমানিক ৩০-৪০ শতাংশ হ্রাস হয়েছে, তবে জেলে ও ট্রলার মালিকদের দাবি অনুযায়ী পরিস্থিতি আরও গুরুতর।

জ্বালানি সংকট: ঘাটে বসে আছে শত শত ট্রলার-জাহাজ

লাইটার জাহাজের কার্যক্রম ব্যাহত

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ভোগ্যপণ্য, শিল্পের কাঁচামালসহ নানা পণ্য বড় জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজে স্থানান্তরিত হয়। লাইটার জাহাজগুলোর জন্য প্রতিদিন গড়ে আড়াই লাখ লিটার ডিজেল প্রয়োজন, কিন্তু ডিলারদের কাছ থেকে মাত্র ৬০-৭০ হাজার লিটার পাওয়া যাচ্ছে। জ্বালানি সংকটে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে এবং মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাসও থমকে যাচ্ছে।

লাইটার জাহাজ মালিকদের সংগঠন দুই দফায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েও সমস্যার সমাধান পায়নি। বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেলের (বিডব্লিউটিসিসি) আহ্বায়ক সফিক আহমেদ জানান, পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় লাইটার জাহাজগুলো সময়মতো পণ্য পরিবহন করতে পারছে না।

মৎস্য ঘাট ও বাজারে প্রভাব

ফিশারি ঘাটে মাছের আগমন কমে যাওয়ায় বাজারেও দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ছোট ট্রলার ১৮০০ থেকে ২০০০ লিটার, বড় ট্রলার সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার লিটার ডিজেল নিয়ে সাগরে যায়। বর্তমানে পর্যাপ্ত তেল না থাকায় ছোট ট্রলার ৮-৯ দিন অথবা তার চেয়ে কম সময়ে ফিরে আসছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ মাছও পাওয়া যাচ্ছে না।

Bangladesh Inland Container Depots Association (BICDA) | The Daily Star

ডিপোতে প্রভাব

চট্টগ্রামের ২১টি বেসরকারি কনটেইনার ডিপোয় আমদানি ও রফতানি পণ্য ব্যবস্থাপনাও জ্বালানি সংকটে ব্যাহত হচ্ছে। বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খলিলুর রহমান জানান, দিনে ৬০-৬৫ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হলেও পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল লিমিটেড সরবরাহে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

মৎস্যখাতে সামগ্রিক প্রভাব

জেলেরা বলছেন, নদীতে মাছ আহরণ কমে যাওয়ায় উপকূলীয় মৎস্য বন্দর এবং মোকামগুলোতে কার্যক্রম প্রায় স্থবির। জেলে, আড়তদার, পাইকার, শ্রমিক, বরফকল মালিক ও পরিবহনকর্মীদের ওপর প্রভাব পড়ছে। এই খাতের ওপর নির্ভরশীল লাখো মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়েছে।

জ্বালানি সংকটে চট্টগ্রামে সাগরে হাহাকার, বিপাকে জেলে ও ট্রলার মালিকরা | The  Business Standard

আগামী ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা

এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে ৫৮ দিনের সামুদ্রিক মাছ ধরা নিষিদ্ধ হবে। জ্বালানি সংকটের মধ্যে এই নিষেধাজ্ঞা জেলেদের জন্য চরম দুশ্চিন্তার কারণ। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় ট্রলারগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে এবং ফিলিং স্টেশনগুলোকে যথাযথ নির্দেশ দেওয়া হবে।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরের এই দৃশ্য পুরো মৎস্যখাতের জন্য সংকেত দিচ্ছে যে, জ্বালানি সংকট এবং প্রাকৃতিক বিধিনিষেধ একসাথে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিজিটাল মুদ্রার নতুন লড়াইয়ে কেন উদ্বিগ্ন চীন

জ্বালানি সংকটে বন্ধ শত শত ট্রলার ও লাইটার জাহাজ, সাগরে মাছ ধরা বন্ধ

১২:৫২:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরে এখন দেখা যাচ্ছে শত শত মাছ ধরার ট্রলার এবং পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত লাইটার জাহাজ অলস বসে আছে। জ্বালানি সংকটের কারণে সাগরে মাছ ধরায় নিয়োজিত ট্রলার এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথে পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত লাইটার জাহাজগুলো কার্যক্রম বন্ধের মুখে দাঁড়িয়েছে।

ডিজেল সরবরাহের ঘাটতি

মৎস্যজীবী এবং লাইটার জাহাজের মালিকরা জানান, ডিজেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় তারা সাগরে যেতে পারছেন না। সমুদ্র ও নদীতে মাছ ধরা এখন প্রায় ৭০ শতাংশ কমেছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলছেন, আনুমানিক ৩০-৪০ শতাংশ হ্রাস হয়েছে, তবে জেলে ও ট্রলার মালিকদের দাবি অনুযায়ী পরিস্থিতি আরও গুরুতর।

জ্বালানি সংকট: ঘাটে বসে আছে শত শত ট্রলার-জাহাজ

লাইটার জাহাজের কার্যক্রম ব্যাহত

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ভোগ্যপণ্য, শিল্পের কাঁচামালসহ নানা পণ্য বড় জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজে স্থানান্তরিত হয়। লাইটার জাহাজগুলোর জন্য প্রতিদিন গড়ে আড়াই লাখ লিটার ডিজেল প্রয়োজন, কিন্তু ডিলারদের কাছ থেকে মাত্র ৬০-৭০ হাজার লিটার পাওয়া যাচ্ছে। জ্বালানি সংকটে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে এবং মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাসও থমকে যাচ্ছে।

লাইটার জাহাজ মালিকদের সংগঠন দুই দফায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েও সমস্যার সমাধান পায়নি। বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেলের (বিডব্লিউটিসিসি) আহ্বায়ক সফিক আহমেদ জানান, পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় লাইটার জাহাজগুলো সময়মতো পণ্য পরিবহন করতে পারছে না।

মৎস্য ঘাট ও বাজারে প্রভাব

ফিশারি ঘাটে মাছের আগমন কমে যাওয়ায় বাজারেও দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ছোট ট্রলার ১৮০০ থেকে ২০০০ লিটার, বড় ট্রলার সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার লিটার ডিজেল নিয়ে সাগরে যায়। বর্তমানে পর্যাপ্ত তেল না থাকায় ছোট ট্রলার ৮-৯ দিন অথবা তার চেয়ে কম সময়ে ফিরে আসছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ মাছও পাওয়া যাচ্ছে না।

Bangladesh Inland Container Depots Association (BICDA) | The Daily Star

ডিপোতে প্রভাব

চট্টগ্রামের ২১টি বেসরকারি কনটেইনার ডিপোয় আমদানি ও রফতানি পণ্য ব্যবস্থাপনাও জ্বালানি সংকটে ব্যাহত হচ্ছে। বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খলিলুর রহমান জানান, দিনে ৬০-৬৫ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হলেও পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল লিমিটেড সরবরাহে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

মৎস্যখাতে সামগ্রিক প্রভাব

জেলেরা বলছেন, নদীতে মাছ আহরণ কমে যাওয়ায় উপকূলীয় মৎস্য বন্দর এবং মোকামগুলোতে কার্যক্রম প্রায় স্থবির। জেলে, আড়তদার, পাইকার, শ্রমিক, বরফকল মালিক ও পরিবহনকর্মীদের ওপর প্রভাব পড়ছে। এই খাতের ওপর নির্ভরশীল লাখো মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়েছে।

জ্বালানি সংকটে চট্টগ্রামে সাগরে হাহাকার, বিপাকে জেলে ও ট্রলার মালিকরা | The  Business Standard

আগামী ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা

এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে ৫৮ দিনের সামুদ্রিক মাছ ধরা নিষিদ্ধ হবে। জ্বালানি সংকটের মধ্যে এই নিষেধাজ্ঞা জেলেদের জন্য চরম দুশ্চিন্তার কারণ। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় ট্রলারগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে এবং ফিলিং স্টেশনগুলোকে যথাযথ নির্দেশ দেওয়া হবে।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরের এই দৃশ্য পুরো মৎস্যখাতের জন্য সংকেত দিচ্ছে যে, জ্বালানি সংকট এবং প্রাকৃতিক বিধিনিষেধ একসাথে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে।