০২:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬
ডিজিটাল মুদ্রার নতুন লড়াইয়ে কেন উদ্বিগ্ন চীন চামড়ার বাজারে অস্থিরতা, মিলছে না কাঙ্ক্ষিত দাম হজের চূড়ান্ত পর্বে আরাফাত ময়দানে লাখো মুসল্লির প্রার্থনা ইন্টারনেট ফিরলেও কঠোর নিয়ন্ত্রণে ইরান, যোগাযোগে ভোগান্তি অব্যাহত আর্কটিকের বরফে হারিয়ে যাওয়া জাহাজের রহস্যে নতুন মোড়, ১৮০ বছর পর শনাক্ত তিন নাবিক এআই চিপের জোয়ারে ট্রিলিয়ন ডলারের ক্লাবে এসকে হাইনিক্স ও মাইক্রন বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও বাড়ছে খাদ্য নিরাপত্তা সংকট ভারতে কমিউনিস্ট রাজনীতির পতন, শেষ দুর্গ হারিয়ে নতুন সংকটে বামপন্থীরা রাশিয়া থেকে ৫ লাখ টনের বেশি এমওপি সার আমদানি করবে বাংলাদেশ শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত সকাল ৯টায়, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় প্রস্তুত ঐতিহাসিক ঈদগাহ

ডিজিটাল মুদ্রার নতুন লড়াইয়ে কেন উদ্বিগ্ন চীন

বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষমতার ভারসাম্য এখন আর শুধু বাণিজ্য, প্রযুক্তি বা সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করছে না। ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে, আগামী দশকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা হতে যাচ্ছে কোন দেশের মুদ্রা মানুষের সঞ্চয়, লেনদেন ও আস্থার প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠবে তা নিয়ে। সেই লড়াইয়ের নতুন রূপ দেখা যাচ্ছে ডিজিটাল ডলার ও ডিজিটাল ইউয়ানকে ঘিরে।

যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিনের নীতিগত জট কাটতে শুরু করেছে তথাকথিত “স্টেবলকয়েন” নিয়ে। এগুলো মূলত ডলারের ডিজিটাল সংস্করণ, যেগুলোর মূল্য ডলারের সঙ্গে এক-এক অনুপাতে বাঁধা থাকে। এতদিন বিতর্ক ছিল, এসব ডিজিটাল টোকেন ব্যবহারকারীদের কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা বা পুরস্কার দেওয়া যাবে কি না। ব্যাংকগুলো আশঙ্কা করছিল, মানুষ যদি ব্যাংকের আমানত তুলে স্টেবলকয়েনে চলে যায়, তাহলে প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থাই চাপের মুখে পড়বে। অন্যদিকে ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানগুলো বলছিল, ব্যবহারকারীদের জন্য প্রণোদনা না থাকলে এ খাতের বিস্তার থেমে যাবে।

এখন মনে হচ্ছে, ওয়াশিংটনে একটি সমঝোতার পথ তৈরি হয়েছে। আর সেটিই চীনের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ।

কারণ বিষয়টি শুধু প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিশ্বজুড়ে সঞ্চয়ের প্রবাহ কোন মুদ্রার দিকে যাবে সেই প্রশ্ন। যদি ডলারের ডিজিটাল সংস্করণ ব্যবহারকারীদের নিরাপদ সঞ্চয় ও বাড়তি রিটার্নের সুযোগ দেয়, তাহলে দুর্বল অর্থনীতির বহু দেশের মানুষ দ্রুত সেদিকে ঝুঁকতে পারে। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মিসর, তুরস্ক বা সুদানের মতো দেশ, যেখানে মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রার অবমূল্যায়ন মানুষের দৈনন্দিন বাস্তবতা, সেখানে স্থিতিশীল ডিজিটাল ডলার হয়ে উঠতে পারে বিকল্প ব্যাংক হিসাবের মতো।

এই পরিস্থিতি চীনের কৌশলগত স্বার্থের পরিপন্থী। বহু বছর ধরে বেইজিং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের আধিপত্য কমানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু যদি নতুন ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থা আবারও ডলারকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, তাহলে সেই প্রচেষ্টা বড় ধাক্কা খাবে।

চীনের দুশ্চিন্তার জায়গা এখানেই। বিশ্বজুড়ে মানুষ যদি ডিজিটাল ডলারকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে দেখতে শুরু করে, তাহলে তা শুধু আমেরিকার আর্থিক প্রভাব বাড়াবে না, বরং উন্নয়নশীল দেশগুলোর ব্যাংকিং ব্যবস্থাকেও দুর্বল করতে পারে। স্থানীয় ব্যাংকে টাকা রাখার বদলে মানুষ যদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডসমর্থিত ডিজিটাল টোকেনে সঞ্চয় করতে শুরু করে, তাহলে মূলধন ধীরে ধীরে দেশীয় অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে যাবে।

এখানে যুক্তরাষ্ট্রের লাভ দ্বিমুখী। একদিকে বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের সঞ্চয় ডলারভিত্তিক সম্পদে প্রবাহিত হবে, অন্যদিকে বেসরকারি প্রযুক্তি ও ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানগুলো সেই ব্যবস্থার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিপুল মুনাফা করবে। অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় মুদ্রা ব্যবস্থার সুবিধা ধীরে ধীরে বেসরকারি কোম্পানির হাতে কেন্দ্রীভূত হবে।

চীন এই সম্ভাবনাকে আগেভাগেই বুঝেছে। তাই তারা শুধু নিজেদের বাজার রক্ষায় নয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও বিকল্প অবকাঠামো তৈরিতে মন দিয়েছে। চলতি বছর থেকে দেশটি ডিজিটাল ইউয়ানকে স্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করেছে। এখন অনেক ক্ষেত্রে ডিজিটাল ইউয়ানকে সাধারণ আমানতের মতো বিবেচনা করা হচ্ছে এবং তার ওপর সুদ দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে বেইজিং মূলত চীনা নাগরিকদের ডিজিটাল ডলারের দিকে ঝুঁকে পড়া ঠেকাতে চায়।

কিন্তু ঘর সামলালেই হবে না, বাইরের লড়াইটাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চীনের বড় উদ্বেগ তার বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলো নিয়ে। যদি এসব দেশ ধীরে ধীরে ডিজিটাল ডলারনির্ভর হয়ে পড়ে, তাহলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ইউয়ানের অবস্থান দুর্বল হবে।

এই কারণেই চীন বিকল্প আর্থিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। সীমান্তপারের লেনদেনে ডলারের বদলে ইউয়ান ব্যবহার বাড়াতে তারা ইতোমধ্যে আন্তঃব্যাংক পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করেছে। পাশাপাশি “এমব্রিজ” নামের ব্লকচেইনভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে ডিজিটাল ইউয়ানকে কেন্দ্রীয় লেনদেনমাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে। এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো, এমন একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক নেটওয়ার্ক তৈরি করা যা মার্কিন নিয়ন্ত্রিত সুইফট ব্যবস্থার বাইরে কাজ করতে পারবে।

চীনের কৌশল স্পষ্ট: উন্নয়নশীল দেশগুলোকে এমন একটি ডিজিটাল আর্থিক বিকল্প দেওয়া, যেখানে দ্রুত সীমান্তপারের লেনদেন করা যাবে, ডলারের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং একই সঙ্গে কিছু আর্থিক সুবিধাও পাওয়া যাবে।

অতএব, ডিজিটাল মুদ্রার প্রতিযোগিতা কেবল প্রযুক্তির লড়াই নয়; এটি ভূরাজনীতি, আর্থিক আধিপত্য ও বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারের নতুন অধ্যায়। যুক্তরাষ্ট্র যদি ডিজিটাল ডলারের মাধ্যমে বিশ্বের সঞ্চয় আরও গভীরভাবে নিজের অর্থনীতির সঙ্গে বেঁধে ফেলতে চায়, তাহলে চীনও পাল্টা লড়াইয়ে নামবে—এটাই স্বাভাবিক।

আগামী দশকে হয়তো যুদ্ধ হবে না বন্দুক বা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে, বরং মানুষের মোবাইল ওয়ালেটে থাকা ডিজিটাল মুদ্রাকে কেন্দ্র করেই নতুন শক্তির মানচিত্র আঁকা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিজিটাল মুদ্রার নতুন লড়াইয়ে কেন উদ্বিগ্ন চীন

ডিজিটাল মুদ্রার নতুন লড়াইয়ে কেন উদ্বিগ্ন চীন

০২:৩৮:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষমতার ভারসাম্য এখন আর শুধু বাণিজ্য, প্রযুক্তি বা সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করছে না। ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে, আগামী দশকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা হতে যাচ্ছে কোন দেশের মুদ্রা মানুষের সঞ্চয়, লেনদেন ও আস্থার প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠবে তা নিয়ে। সেই লড়াইয়ের নতুন রূপ দেখা যাচ্ছে ডিজিটাল ডলার ও ডিজিটাল ইউয়ানকে ঘিরে।

যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিনের নীতিগত জট কাটতে শুরু করেছে তথাকথিত “স্টেবলকয়েন” নিয়ে। এগুলো মূলত ডলারের ডিজিটাল সংস্করণ, যেগুলোর মূল্য ডলারের সঙ্গে এক-এক অনুপাতে বাঁধা থাকে। এতদিন বিতর্ক ছিল, এসব ডিজিটাল টোকেন ব্যবহারকারীদের কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা বা পুরস্কার দেওয়া যাবে কি না। ব্যাংকগুলো আশঙ্কা করছিল, মানুষ যদি ব্যাংকের আমানত তুলে স্টেবলকয়েনে চলে যায়, তাহলে প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থাই চাপের মুখে পড়বে। অন্যদিকে ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানগুলো বলছিল, ব্যবহারকারীদের জন্য প্রণোদনা না থাকলে এ খাতের বিস্তার থেমে যাবে।

এখন মনে হচ্ছে, ওয়াশিংটনে একটি সমঝোতার পথ তৈরি হয়েছে। আর সেটিই চীনের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ।

কারণ বিষয়টি শুধু প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিশ্বজুড়ে সঞ্চয়ের প্রবাহ কোন মুদ্রার দিকে যাবে সেই প্রশ্ন। যদি ডলারের ডিজিটাল সংস্করণ ব্যবহারকারীদের নিরাপদ সঞ্চয় ও বাড়তি রিটার্নের সুযোগ দেয়, তাহলে দুর্বল অর্থনীতির বহু দেশের মানুষ দ্রুত সেদিকে ঝুঁকতে পারে। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মিসর, তুরস্ক বা সুদানের মতো দেশ, যেখানে মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রার অবমূল্যায়ন মানুষের দৈনন্দিন বাস্তবতা, সেখানে স্থিতিশীল ডিজিটাল ডলার হয়ে উঠতে পারে বিকল্প ব্যাংক হিসাবের মতো।

এই পরিস্থিতি চীনের কৌশলগত স্বার্থের পরিপন্থী। বহু বছর ধরে বেইজিং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের আধিপত্য কমানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু যদি নতুন ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থা আবারও ডলারকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, তাহলে সেই প্রচেষ্টা বড় ধাক্কা খাবে।

চীনের দুশ্চিন্তার জায়গা এখানেই। বিশ্বজুড়ে মানুষ যদি ডিজিটাল ডলারকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে দেখতে শুরু করে, তাহলে তা শুধু আমেরিকার আর্থিক প্রভাব বাড়াবে না, বরং উন্নয়নশীল দেশগুলোর ব্যাংকিং ব্যবস্থাকেও দুর্বল করতে পারে। স্থানীয় ব্যাংকে টাকা রাখার বদলে মানুষ যদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডসমর্থিত ডিজিটাল টোকেনে সঞ্চয় করতে শুরু করে, তাহলে মূলধন ধীরে ধীরে দেশীয় অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে যাবে।

এখানে যুক্তরাষ্ট্রের লাভ দ্বিমুখী। একদিকে বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের সঞ্চয় ডলারভিত্তিক সম্পদে প্রবাহিত হবে, অন্যদিকে বেসরকারি প্রযুক্তি ও ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানগুলো সেই ব্যবস্থার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিপুল মুনাফা করবে। অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় মুদ্রা ব্যবস্থার সুবিধা ধীরে ধীরে বেসরকারি কোম্পানির হাতে কেন্দ্রীভূত হবে।

চীন এই সম্ভাবনাকে আগেভাগেই বুঝেছে। তাই তারা শুধু নিজেদের বাজার রক্ষায় নয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও বিকল্প অবকাঠামো তৈরিতে মন দিয়েছে। চলতি বছর থেকে দেশটি ডিজিটাল ইউয়ানকে স্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করেছে। এখন অনেক ক্ষেত্রে ডিজিটাল ইউয়ানকে সাধারণ আমানতের মতো বিবেচনা করা হচ্ছে এবং তার ওপর সুদ দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে বেইজিং মূলত চীনা নাগরিকদের ডিজিটাল ডলারের দিকে ঝুঁকে পড়া ঠেকাতে চায়।

কিন্তু ঘর সামলালেই হবে না, বাইরের লড়াইটাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চীনের বড় উদ্বেগ তার বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলো নিয়ে। যদি এসব দেশ ধীরে ধীরে ডিজিটাল ডলারনির্ভর হয়ে পড়ে, তাহলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ইউয়ানের অবস্থান দুর্বল হবে।

এই কারণেই চীন বিকল্প আর্থিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। সীমান্তপারের লেনদেনে ডলারের বদলে ইউয়ান ব্যবহার বাড়াতে তারা ইতোমধ্যে আন্তঃব্যাংক পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করেছে। পাশাপাশি “এমব্রিজ” নামের ব্লকচেইনভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে ডিজিটাল ইউয়ানকে কেন্দ্রীয় লেনদেনমাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে। এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো, এমন একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক নেটওয়ার্ক তৈরি করা যা মার্কিন নিয়ন্ত্রিত সুইফট ব্যবস্থার বাইরে কাজ করতে পারবে।

চীনের কৌশল স্পষ্ট: উন্নয়নশীল দেশগুলোকে এমন একটি ডিজিটাল আর্থিক বিকল্প দেওয়া, যেখানে দ্রুত সীমান্তপারের লেনদেন করা যাবে, ডলারের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং একই সঙ্গে কিছু আর্থিক সুবিধাও পাওয়া যাবে।

অতএব, ডিজিটাল মুদ্রার প্রতিযোগিতা কেবল প্রযুক্তির লড়াই নয়; এটি ভূরাজনীতি, আর্থিক আধিপত্য ও বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারের নতুন অধ্যায়। যুক্তরাষ্ট্র যদি ডিজিটাল ডলারের মাধ্যমে বিশ্বের সঞ্চয় আরও গভীরভাবে নিজের অর্থনীতির সঙ্গে বেঁধে ফেলতে চায়, তাহলে চীনও পাল্টা লড়াইয়ে নামবে—এটাই স্বাভাবিক।

আগামী দশকে হয়তো যুদ্ধ হবে না বন্দুক বা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে, বরং মানুষের মোবাইল ওয়ালেটে থাকা ডিজিটাল মুদ্রাকে কেন্দ্র করেই নতুন শক্তির মানচিত্র আঁকা হবে।