ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চ শুল্ক আরোপের পরও সরাসরি চীনা পণ্যের আমদানি হ্রাস পেলেও বেইজিং বিশ্ববাজারে তার আধিপত্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে চীনের শিপমেন্ট ২১.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দুই মাসে ২১৩.৬ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সরাসরি বাণিজ্যের চাপ সত্ত্বেও চীনা কোম্পানিগুলো তৃতীয় দেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পৌঁছে দিয়ে এই ঘাটতি মোকাবিলা করছে।

সরাসরি বাণিজ্যের ক্ষতি, তৃতীয় দেশের মাধ্যমে প্রভাবশালী প্রবাহ
চীনা কাস্টমস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চীনা পণ্যের সরাসরি রপ্তানি প্রায় ৩০ শতাংশ হ্রাস পেলেও তৃতীয় দেশের মাধ্যমে আমেরিকায় চীনা পণ্যের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মাধ্যমে চীনা পণ্যের আমদানি বেড়েছে, যা সরাসরি বাণিজ্য হ্রাসের প্রভাবকে আংশিকভাবে সমান করেছে। এই কৌশল শুধু চীনা কোম্পানিগুলোর জন্য নয়, আমেরিকার বাজারে পৌঁছানোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পথ হয়ে উঠেছে।
ট্রান্সশিপমেন্ট কৌশল ও শুল্ক এড়ানো
উচ্চ শুল্কের প্রভাবের কারণে চীনা উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন বাজার খুঁজছে যেখানে আমদানি শুল্ক কম। অনেক কোম্পানি উৎপাদনের দেশ বদল করে পণ্য পাঠাচ্ছে, আবার কিছু কোম্পানি তৃতীয় দেশে উৎপাদন সুবিধা স্থাপন করে পণ্যের মান বৃদ্ধি করছে। এই প্রক্রিয়াটি সরাসরি শুল্ক এড়ানোর একটি প্রভাবশালী কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও প্রতিক্রিয়া
যদিও ট্রাম্প প্রশাসন এই ট্রান্সশিপমেন্ট কৌশল নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে, তবে শুধুমাত্র এখানেই থামার সম্ভাবনা নেই। যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে তৃতীয় দেশ থেকে আমেরিকায় আসা পণ্যের চীনা উপাদান উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার নীতিমালা গ্রহণ করতে পারে। এর ফলে চীনা পণ্যের বিশ্ববাজারে কৌশলী রপ্তানি একটি নতুন বাস্তবতা হিসেবে প্রমাণিত হবে।
চীনা পণ্যের তৃতীয় দেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাহ বৃদ্ধিই এখন বাণিজ্য যুদ্ধের নতুন চিত্র।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















