ভারতে তরুণদের তৈরি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সংগঠনটির সরকারি ওয়েবসাইট হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের অভিযোগ, সরকারের নির্দেশেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার সকালে সংগঠনটির ওয়েবসাইট আর খোলা যাচ্ছিল না। এর পরপরই অভিজিৎ দিপকে সামাজিক মাধ্যমে একাধিক পোস্ট করে দাবি করেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই সংগঠনের সদস্যসংখ্যা প্রায় ১০ লক্ষে পৌঁছেছিল। একই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে হওয়া একটি অনলাইন আবেদনে কয়েক লক্ষ মানুষ সই করেছিলেন বলেও তিনি জানান।
ব্যঙ্গ থেকে আন্দোলন
গত ১৬ মে সংগঠনটির সূচনা হয়। দেশের প্রধান বিচারপতির একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবেই এটি শুরু হয়েছিল। শুরুতে একটি সাধারণ অনলাইন ফর্মের মাধ্যমে তরুণদের যুক্ত করা হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই এটি বড় অনলাইন আন্দোলনে পরিণত হয়।
সংগঠনটির সামাজিক মাধ্যমের অনুসারী দ্রুত বাড়তে থাকে। তরুণদের বড় অংশ এতে যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। বিশেষ করে শিক্ষা ব্যবস্থা, পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস এবং সরকারি জবাবদিহি নিয়ে তাদের ব্যঙ্গাত্মক প্রচার দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়।

সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ
অভিজিৎ দিপকের অভিযোগ, গোয়েন্দা সংস্থার তথাকথিত নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখিয়ে সংগঠনটির কার্যক্রম সীমিত করার চেষ্টা হয়েছে। তিনি বলেন, একটি ব্যঙ্গাত্মক সংগঠনকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তিনি আরও দাবি করেন, গত কয়েক দিন ধরে তাঁর ব্যক্তিগত সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্টেও প্রবেশের চেষ্টা হয়েছে। এমনকি সংগঠনের মূল পেজেও তিনি আর প্রবেশ করতে পারছেন না বলে জানান।
তরুণদের ক্ষোভ বাড়ছে
এই ঘটনাকে ঘিরে দেশের তরুণদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ব্যঙ্গ ও সমালোচনাকেও যদি দমন করা হয়, তাহলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কোথায় দাঁড়াবে।
অন্যদিকে সংগঠনের সমর্থকেরা সামাজিক মাধ্যমে লিখছেন, ওয়েবসাইট বন্ধ হয়ে গেলেও আন্দোলন থামবে না। নতুন প্ল্যাটফর্মে আবারও সংগঠনটি ফিরে আসবে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ প্রজন্ম এখন প্রচলিত রাজনৈতিক ভাষার বাইরে গিয়ে ব্যঙ্গ, মিম এবং অনলাইন প্রচারণাকে প্রতিবাদের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে। ফলে এই ধরনের উদ্যোগকে ঘিরে ভবিষ্যতে আরও বড় রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হতে পারে।
ভারতে ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক সংগঠনের ওয়েবসাইট বন্ধ হওয়ায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও তরুণদের অনলাইন আন্দোলন নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















