মধ্য আফ্রিকায় আবারও ভয়াবহ আকার নিচ্ছে ইবোলার প্রাদুর্ভাব। এবার উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তুলনামূলক কম পরিচিত এক ভাইরাস ধরন ‘বুন্ডিবুগিও ইবোলাভাইরাস’। কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া বর্তমান ইবোলা সংক্রমণের প্রধান কারণ হিসেবে এই ভাইরাসকেই চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দ্রুত পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় রোগী শনাক্ত, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খোঁজ এবং চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
বিরল কিন্তু প্রাণঘাতী ভাইরাস
বুন্ডিবুগিও ইবোলাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় ২০০৭ সালে উগান্ডার পশ্চিমাঞ্চলের বুন্ডিবুগিও জেলায়। অঞ্চলটি কঙ্গো সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি সবসময়ই বেশি ছিল। এরপর ২০১২ সালে কঙ্গোতেও একই ধরনের সংক্রমণ দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভাইরাসের মৃত্যুহার প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। এটি ইবোলার আরও পরিচিত জাইর প্রজাতির মতোই মারাত্মক। তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।
বর্তমান পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ
গত ২১ মে পর্যন্ত কঙ্গোতে ৮৩ জনের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে এবং মারা গেছেন অন্তত ৯ জন। এছাড়া ৭৪৬টি সন্দেহভাজন সংক্রমণের মধ্যে ১৭৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে চারজন স্বাস্থ্যকর্মীও রয়েছেন।
এদিকে কঙ্গোতে কর্মরত এক মার্কিন সার্জনের শরীরেও ইবোলা শনাক্ত হয়েছে। অস্ত্রোপচারের সময় তিনি ভাইরাসটির সংস্পর্শে এসেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে তাকে জার্মানিতে পৃথক চিকিৎসা ব্যবস্থার মধ্যে রাখা হয়েছে।

উপসর্গ কী কী
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংক্রমণের শুরুতে তীব্র মাথাব্যথা, উচ্চ জ্বর, শরীর ব্যথা এবং প্রচণ্ড দুর্বলতা দেখা দেয়। পরে রোগের অবস্থা খারাপ হলে বমি, ডায়রিয়া এবং শরীরের ভেতরে রক্তক্ষরণের মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে।
ভাইরাসটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আক্রমণ করে তীব্র প্রদাহ সৃষ্টি করে। এতে অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে।
টিকা তৈরির দৌড়
বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা এখন দ্রুত টিকা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, নতুন একটি টিকার ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে শুরু হতে পারে।
এছাড়া মহামারি প্রতিরোধে কাজ করা আন্তর্জাতিক জোটগুলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আফ্রিকা সিডিসি এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে টিকা উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।
আফ্রিকা-ভারত সম্মেলন বাতিল
সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত ভারত-আফ্রিকা ফোরাম সম্মেলনও বাতিল করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যে কঙ্গোতে ইবোলার ঝুঁকির মাত্রা ‘উচ্চ’ থেকে বাড়িয়ে ‘অত্যন্ত উচ্চ’ করেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে এটি শুধু আফ্রিকাই নয়, আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকিতে পরিণত হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















