১০:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
বইয়ের দোকান এখন শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়, গড়ে উঠছে নতুন সামাজিক পরিসর মালয়ালম সিনেমার আলাদা পথচলা, সমাজ বদলের ইতিহাসেই লুকিয়ে তার শক্তি প্রকৃতিই প্রযুক্তি: কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির নতুন শক্তি হিসেবে প্রকৃতিকে দেখার আহ্বান তাপপ্রবাহ আসলে কী, কেন হঠাৎ বাড়ছে গরমের দাপট ভারতের স্বাস্থ্যব্যবস্থার নতুন চিত্র, বাড়ছে বেসরকারি চিকিৎসার খরচ বিসিসিআই আরটিআইয়ের বাইরে, তথ্য জানার অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্ক কঙ্গো-উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়ছে বিরল ইবোলা, আতঙ্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য মহল তরুণদের ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক সংগঠনের ওয়েবসাইট বন্ধ, সরব দেশজুড়ে বিতর্ক ভারতে সোনার দামে রেকর্ড উল্লম্ফন, একমাত্র চালু খনিতে মুনাফার বন্যা কর্ণাটকে গড়ে উঠছে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রিকেট স্টেডিয়াম

বিসিসিআই আরটিআইয়ের বাইরে, তথ্য জানার অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্ক

ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড বিসিসিআইকে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আনা যাবে না বলে রায় দিয়েছে কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন। সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত ঘিরে আবারও প্রশ্ন উঠেছে, দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী ক্রীড়া সংস্থাগুলোর জবাবদিহি কতটা নিশ্চিত হচ্ছে।

কমিশনের মতে, বিসিসিআই একটি বেসরকারি সংগঠন হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ায় তাকে “জন কর্তৃপক্ষ” হিসেবে গণ্য করা যায় না। ফলে তথ্য অধিকার আইনের অধীনে সংস্থাটিকে তথ্য প্রকাশে বাধ্য করার সুযোগ নেই।

কেন বিতর্ক তৈরি হলো

দীর্ঘদিন ধরেই বিসিসিআই দাবি করে আসছে, তারা স্বশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। তাই সরকারি সংস্থা হিসেবে তাদের বিবেচনা করা ঠিক নয়। তথ্য অধিকার আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী, শুধুমাত্র সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকা বা সরকারের উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তা পাওয়া সংস্থাগুলো এই আইনের আওতায় পড়ে।

বিসিসিআইয়ের যুক্তি হলো, তারা তামিলনাড়ু সোসাইটি নিবন্ধন আইনের অধীনে নিবন্ধিত একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বা নির্ভরশীলতা না থাকায় তাদের ওপর আরটিআই আইন প্রযোজ্য নয়।

আগের অবস্থান কী ছিল

২০১৮ সালে কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশনের এক বেঞ্চ বলেছিল, বিসিসিআই জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে এবং তাই তাদের আরটিআইয়ের আওতায় আনা উচিত। সেই সময় কমিশন বোর্ডকে তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগ ও তথ্য প্রকাশ কাঠামো তৈরির নির্দেশও দিয়েছিল।

তবে বিসিসিআই সেই সিদ্ধান্তকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করে। পরে আদালতের নির্দেশে বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করা হয়। সর্বশেষ রায়ে কমিশন আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ

কমিশন তাদের রায়ে সুপ্রিম কোর্টের পুরোনো এক সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করেছে। সেখানে বলা হয়েছিল, শুধু সরকারি নজরদারি বা নিয়ন্ত্রণ থাকলেই কোনো প্রতিষ্ঠান সরকারি সংস্থা হয়ে যায় না।

যদিও বিসিসিআই ভারতীয় ক্রিকেট পরিচালনায় বিশাল ভূমিকা রাখে, তবুও সরকারের গভীর ও সরাসরি নিয়ন্ত্রণ না থাকায় তাকে সাংবিধানিকভাবে “রাষ্ট্র” হিসেবে ধরা যায় না বলে মত দেওয়া হয়েছিল।

অর্থ ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন

কমিশন আরও বলেছে, বিসিসিআইয়ের আয় মূলত সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ ও বাণিজ্যিক চুক্তি থেকে আসে। কর ছাড় বা সুবিধা পাওয়া মানেই সরকারি অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীলতা নয়।

তবে সমালোচকদের মতে, দেশের ক্রিকেট পরিচালনা, খেলোয়াড় নির্বাচন, টুর্নামেন্ট আয়োজন ও বিপুল অর্থনৈতিক প্রভাবের কারণে বিসিসিআইয়ের কার্যক্রমে আরও স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন। তথ্য অধিকার আইনের আওতায় এলে আর্থিক ব্যয় থেকে শুরু করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পর্যন্ত অনেক বিষয় জনসমক্ষে আসতে পারত।

নতুন আইনে কী আছে

জাতীয় ক্রীড়া প্রশাসন আইন ২০২৫ অনুযায়ী, কোনো ক্রীড়া সংস্থা শুধুমাত্র সরকারি অনুদান ব্যবহারের ক্ষেত্রেই জন কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ সরকারি অনুদানের বাইরে থাকা সংস্থাগুলো কার্যত আরটিআইয়ের বাইরে থেকে যাচ্ছে।

ফলে বিসিসিআইকে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আনার দাবি আপাতত আরও কঠিন হয়ে গেল বলেই মনে করছেন অনেকে।

ভারতে বিসিসিআইকে আরটিআইয়ের বাইরে রাখার সিদ্ধান্তে নতুন বিতর্ক। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ক্রীড়া প্রশাসন নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বইয়ের দোকান এখন শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়, গড়ে উঠছে নতুন সামাজিক পরিসর

বিসিসিআই আরটিআইয়ের বাইরে, তথ্য জানার অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্ক

০৮:৩২:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড বিসিসিআইকে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আনা যাবে না বলে রায় দিয়েছে কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন। সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত ঘিরে আবারও প্রশ্ন উঠেছে, দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী ক্রীড়া সংস্থাগুলোর জবাবদিহি কতটা নিশ্চিত হচ্ছে।

কমিশনের মতে, বিসিসিআই একটি বেসরকারি সংগঠন হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ায় তাকে “জন কর্তৃপক্ষ” হিসেবে গণ্য করা যায় না। ফলে তথ্য অধিকার আইনের অধীনে সংস্থাটিকে তথ্য প্রকাশে বাধ্য করার সুযোগ নেই।

কেন বিতর্ক তৈরি হলো

দীর্ঘদিন ধরেই বিসিসিআই দাবি করে আসছে, তারা স্বশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। তাই সরকারি সংস্থা হিসেবে তাদের বিবেচনা করা ঠিক নয়। তথ্য অধিকার আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী, শুধুমাত্র সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকা বা সরকারের উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তা পাওয়া সংস্থাগুলো এই আইনের আওতায় পড়ে।

বিসিসিআইয়ের যুক্তি হলো, তারা তামিলনাড়ু সোসাইটি নিবন্ধন আইনের অধীনে নিবন্ধিত একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বা নির্ভরশীলতা না থাকায় তাদের ওপর আরটিআই আইন প্রযোজ্য নয়।

আগের অবস্থান কী ছিল

২০১৮ সালে কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশনের এক বেঞ্চ বলেছিল, বিসিসিআই জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে এবং তাই তাদের আরটিআইয়ের আওতায় আনা উচিত। সেই সময় কমিশন বোর্ডকে তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগ ও তথ্য প্রকাশ কাঠামো তৈরির নির্দেশও দিয়েছিল।

তবে বিসিসিআই সেই সিদ্ধান্তকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করে। পরে আদালতের নির্দেশে বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করা হয়। সর্বশেষ রায়ে কমিশন আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ

কমিশন তাদের রায়ে সুপ্রিম কোর্টের পুরোনো এক সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করেছে। সেখানে বলা হয়েছিল, শুধু সরকারি নজরদারি বা নিয়ন্ত্রণ থাকলেই কোনো প্রতিষ্ঠান সরকারি সংস্থা হয়ে যায় না।

যদিও বিসিসিআই ভারতীয় ক্রিকেট পরিচালনায় বিশাল ভূমিকা রাখে, তবুও সরকারের গভীর ও সরাসরি নিয়ন্ত্রণ না থাকায় তাকে সাংবিধানিকভাবে “রাষ্ট্র” হিসেবে ধরা যায় না বলে মত দেওয়া হয়েছিল।

অর্থ ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন

কমিশন আরও বলেছে, বিসিসিআইয়ের আয় মূলত সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ ও বাণিজ্যিক চুক্তি থেকে আসে। কর ছাড় বা সুবিধা পাওয়া মানেই সরকারি অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীলতা নয়।

তবে সমালোচকদের মতে, দেশের ক্রিকেট পরিচালনা, খেলোয়াড় নির্বাচন, টুর্নামেন্ট আয়োজন ও বিপুল অর্থনৈতিক প্রভাবের কারণে বিসিসিআইয়ের কার্যক্রমে আরও স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন। তথ্য অধিকার আইনের আওতায় এলে আর্থিক ব্যয় থেকে শুরু করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পর্যন্ত অনেক বিষয় জনসমক্ষে আসতে পারত।

নতুন আইনে কী আছে

জাতীয় ক্রীড়া প্রশাসন আইন ২০২৫ অনুযায়ী, কোনো ক্রীড়া সংস্থা শুধুমাত্র সরকারি অনুদান ব্যবহারের ক্ষেত্রেই জন কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ সরকারি অনুদানের বাইরে থাকা সংস্থাগুলো কার্যত আরটিআইয়ের বাইরে থেকে যাচ্ছে।

ফলে বিসিসিআইকে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আনার দাবি আপাতত আরও কঠিন হয়ে গেল বলেই মনে করছেন অনেকে।

ভারতে বিসিসিআইকে আরটিআইয়ের বাইরে রাখার সিদ্ধান্তে নতুন বিতর্ক। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ক্রীড়া প্রশাসন নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠছে।