সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পৃথক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। তাদের দায়িত্ব পালনকালের সময়ে সংঘটিত গুম, হত্যা, নির্যাতন ও অন্যান্য গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় এসব অভিযোগ আনা হয়।
রোববার বাংলাদেশ আজাদ পার্টি এবং রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম আলাদাভাবে এসব অভিযোগ দাখিল করে।
দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ
বাংলাদেশ আজাদ পার্টির অভিযোগে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকার সময় দেশে গুম, হত্যা ও গণহত্যার মতো গুরুতর ঘটনা ঘটলেও সাবেক দুই রাষ্ট্রপতি তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর অবস্থান না নিয়ে নীরব থাকার মাধ্যমে তারা পরোক্ষভাবে সেসব কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ দাখিলের পর দলটির নেতারা সাংবাদিকদের বলেন, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালে তারা জনগণের করের অর্থ থেকে বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন। কিন্তু রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে তারা যথাযথ ভূমিকা রাখেননি।
গুম-হত্যা ও গোপন আটককেন্দ্র নিয়ে অভিযোগ
বাংলাদেশ আজাদ পার্টির পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, বিভিন্ন সময়ে দেশে গুম, হত্যা, গোপন আটককেন্দ্র বা আয়নাঘর এবং অন্যান্য গুরুতর ঘটনা ঘটলেও সাবেক দুই রাষ্ট্রপতি এর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করেননি কিংবা এসব ঘটনা ঠেকাতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি।
অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত এসব ঘটনায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিদের দায়িত্ব ও ভূমিকা তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন।
রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতার প্রসঙ্গ
অভিযোগে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে সংবিধান অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও ক্ষমতার অধিকারী। সেই ক্ষমতা ও সাংবিধানিক অবস্থান ব্যবহার করে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা এবং গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া যেত।
তবে অভিযোগকারীদের দাবি, আবদুল হামিদ ও মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন কেউই এমন কার্যকর উদ্যোগ নেননি। এ কারণে তাদের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ
অন্যদিকে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গুলি, নির্যাতন, হত্যা ও গুমের ঘটনায় সাহাবুদ্দিনের নির্দেশ, সহযোগিতা বা ভূমিকা ছিল কি না, তা তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় সাহাবুদ্দিনের কোনো আইনগত দায় বা সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে তদন্তের দাবিও জানানো হয়েছে।
অভিযোগগুলো এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে নজর তৈরি করেছে। অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলোর সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনগত দায় তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গুম, হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পৃথক অভিযোগ দাখিল হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















