০২:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
জাপানে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি উজান আসামে বন্যার ভয়াবহতায় জীবন বাঁচাতে দিনরাত উদ্ধারকর্মীরা ১৮০ বছর পর আসামের পাহাড়ে বিরল ফুলের উদ্ভিদ, টিকে আছে মাত্র ৪০টি আসামে বন্যার পানি নামতেই বাড়ছে রোগের শঙ্কা, নিরাপদ পানি ও মশা নিয়ন্ত্রণে সতর্কতার আহ্বান আসামের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত তিন জেলায় বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজের দাবি আগস্টে ত্রিপুরা-মিজোরাম সীমান্ত বিরোধ মেটাতে ফের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আসামে ১০ বছরে ৬,২১১ শিশুশ্রমিক শনাক্ত, পুনর্বাসন হয়েছে ৬,১২৩ জনের আজাদ কাশ্মীর নির্বাচনে বড় জয় নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এনের, ১৩ আসনের ৯টিই দখল সৌদি আরবের তেল পরিবহন ব্যবস্থায় হুতিদের হামলার দাবি, বাড়ছে বিশ্ববাজারে উদ্বেগ চীনের চিপ প্রতিযোগিতার ভয়ে এশিয়ার প্রযুক্তি বাজারে বড় ধস

প্রকৃতিই প্রযুক্তি: কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির নতুন শক্তি হিসেবে প্রকৃতিকে দেখার আহ্বান

প্রযুক্তি বলতে সাধারণত আধুনিক যন্ত্র, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা অত্যাধুনিক উদ্ভাবনের কথাই মনে আসে। অন্যদিকে প্রকৃতিকে অনেক সময় প্রযুক্তির বিপরীত কিছু হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। বরং প্রকৃতিই মানবসভ্যতার প্রাচীনতম প্রযুক্তি, যা হাজার বছরের বিবর্তনে অর্থনীতি, জীবিকা ও মানবজীবনের ভিত্তি গড়ে তুলেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রকৃতি এখনো সবচেয়ে সহজলভ্য ও কার্যকর প্রযুক্তিগুলোর একটি। উপকূল রক্ষাকারী ম্যানগ্রোভ বন, মাটির উর্বরতা ধরে রাখা কৃষিবনায়ন ব্যবস্থা কিংবা প্রাকৃতিক জলচক্র—সবই এমন এক ধরনের প্রাকৃতিক অবকাঠামো, যা আধুনিক অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করে।

কর্মসংস্থানের বড় সম্ভাবনা

বিশ্বব্যাংকের মতে, আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রায় ১২০ কোটি তরুণ কর্মক্ষম বয়সে পৌঁছাবে। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করতে হলে শুধু শিল্প বা প্রযুক্তিখাত নয়, প্রাকৃতিক সম্পদভিত্তিক খাতেও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

বিশ্লেষণে পাঁচটি বড় খাতকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—অবকাঠামো ও জ্বালানি, কৃষিভিত্তিক ব্যবসা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন এবং মূল্য সংযোজনভিত্তিক উৎপাদনশিল্প। এসব খাত প্রকৃতিনির্ভর হওয়ায় সহজে অন্য দেশে স্থানান্তর করা যায় না এবং দীর্ঘমেয়াদে বড় আকারে কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে।

কৃষি ও বনভিত্তিক অর্থনীতির গুরুত্ব

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষি এখনো কোটি মানুষের জীবিকা ও অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি। বন, মৎস্য ও জলজ চাষে বিনিয়োগ উৎপাদন বৈচিত্র্য বাড়ায় এবং মানুষের আয় স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে। বিশেষ করে বনভূমি কৃষির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিম্ন আয়ের দেশগুলোর প্রায় ৪০ শতাংশ বৃষ্টিপাত আসে বনাঞ্চলের মাটির আর্দ্রতা থেকে। ফলে বন ধ্বংস হলে কৃষি উৎপাদনও কমে যায়।

একই সঙ্গে বন ও প্রাকৃতিক সম্পদ পুনরুদ্ধার করা গেলে খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন ও আয়ের সুযোগ বাড়তে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও জ্বালানিতে প্রকৃতির ভূমিকা

বিশ্লেষণে স্বাস্থ্যখাতেও প্রকৃতির সরাসরি প্রভাবের কথা বলা হয়েছে। অনেক আধুনিক ওষুধের মূল উপাদান এসেছে প্রকৃতি থেকে। পাশাপাশি বায়ুদূষণ, রাসায়নিক দূষণ ও বিষাক্ত উপাদান কমাতে পারলে জনস্বাস্থ্য ব্যয় কমবে এবং শ্রম উৎপাদনশীলতা বাড়বে।

জ্বালানি খাতেও প্রকৃতিনির্ভর সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এখনো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি। সেখানে জৈবজ্বালানিসহ প্রকৃতিভিত্তিক জ্বালানি মানুষের প্রধান শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব বিকল্প অনেক ক্ষেত্রে বড় বিদ্যুৎ অবকাঠামোর তুলনায় কম ব্যয়বহুল।

Are New Technologies Changing the Nature of Work? The Evidence So Far

পর্যটন ও উৎপাদনশিল্পে নতুন সুযোগ

বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অ্যাডভেঞ্চার, ওয়েলনেস ও প্রকৃতিনির্ভর পর্যটন এখন বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল পর্যটন খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে। সঠিক ব্যবস্থাপনা থাকলে এসব খাত স্থানীয় মানুষের আয় বাড়াতে এবং বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে।

একই সঙ্গে প্রাকৃতিক সম্পদভিত্তিক উৎপাদনশিল্প, বিশেষ করে পুনর্ব্যবহার ও সম্পদ সাশ্রয়ী অর্থনীতি, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। প্রতিবেদনে আফ্রিকার উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, শিল্প কাঠের চাহিদা দ্রুত বাড়লেও সরবরাহে বড় ঘাটতি রয়েছে, যা স্থানীয় আসবাবশিল্প ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করতে পারে।

বিশ্লেষণের শেষ অংশে বলা হয়েছে, প্রকৃতি অর্থনৈতিক উন্নয়নের বাধা নয়, বরং প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের অন্যতম চালিকাশক্তি। তাই প্রাকৃতিক সম্পদকে শুধু সংরক্ষণের বিষয় হিসেবে নয়, অর্থনৈতিক পরিকল্পনার মূল অংশ হিসেবেও দেখতে হবে।

প্রকৃতিনির্ভর প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে টেকসই উন্নয়ন ও দারিদ্র্য কমানোর নতুন পথ তৈরি করা সম্ভব বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকৃতিনির্ভর অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান

প্রকৃতিকে প্রযুক্তি হিসেবে দেখার নতুন ধারণা নিয়ে বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ। কর্মসংস্থান, কৃষি, স্বাস্থ্য ও জ্বালানিতে প্রকৃতির গুরুত্ব বাড়ছে।

প্রকৃতি শুধু পরিবেশ নয়, ভবিষ্যৎ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের অন্যতম বড় শক্তি—বিশ্বব্যাংকের নতুন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এমনই বার্তা। কৃষি, স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও পর্যটনে প্রকৃতিনির্ভর বিনিয়োগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি

প্রকৃতিই প্রযুক্তি: কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির নতুন শক্তি হিসেবে প্রকৃতিকে দেখার আহ্বান

০৮:৫৬:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

প্রযুক্তি বলতে সাধারণত আধুনিক যন্ত্র, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা অত্যাধুনিক উদ্ভাবনের কথাই মনে আসে। অন্যদিকে প্রকৃতিকে অনেক সময় প্রযুক্তির বিপরীত কিছু হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। বরং প্রকৃতিই মানবসভ্যতার প্রাচীনতম প্রযুক্তি, যা হাজার বছরের বিবর্তনে অর্থনীতি, জীবিকা ও মানবজীবনের ভিত্তি গড়ে তুলেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রকৃতি এখনো সবচেয়ে সহজলভ্য ও কার্যকর প্রযুক্তিগুলোর একটি। উপকূল রক্ষাকারী ম্যানগ্রোভ বন, মাটির উর্বরতা ধরে রাখা কৃষিবনায়ন ব্যবস্থা কিংবা প্রাকৃতিক জলচক্র—সবই এমন এক ধরনের প্রাকৃতিক অবকাঠামো, যা আধুনিক অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করে।

কর্মসংস্থানের বড় সম্ভাবনা

বিশ্বব্যাংকের মতে, আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রায় ১২০ কোটি তরুণ কর্মক্ষম বয়সে পৌঁছাবে। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করতে হলে শুধু শিল্প বা প্রযুক্তিখাত নয়, প্রাকৃতিক সম্পদভিত্তিক খাতেও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

বিশ্লেষণে পাঁচটি বড় খাতকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—অবকাঠামো ও জ্বালানি, কৃষিভিত্তিক ব্যবসা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন এবং মূল্য সংযোজনভিত্তিক উৎপাদনশিল্প। এসব খাত প্রকৃতিনির্ভর হওয়ায় সহজে অন্য দেশে স্থানান্তর করা যায় না এবং দীর্ঘমেয়াদে বড় আকারে কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে।

কৃষি ও বনভিত্তিক অর্থনীতির গুরুত্ব

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষি এখনো কোটি মানুষের জীবিকা ও অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি। বন, মৎস্য ও জলজ চাষে বিনিয়োগ উৎপাদন বৈচিত্র্য বাড়ায় এবং মানুষের আয় স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে। বিশেষ করে বনভূমি কৃষির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিম্ন আয়ের দেশগুলোর প্রায় ৪০ শতাংশ বৃষ্টিপাত আসে বনাঞ্চলের মাটির আর্দ্রতা থেকে। ফলে বন ধ্বংস হলে কৃষি উৎপাদনও কমে যায়।

একই সঙ্গে বন ও প্রাকৃতিক সম্পদ পুনরুদ্ধার করা গেলে খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন ও আয়ের সুযোগ বাড়তে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও জ্বালানিতে প্রকৃতির ভূমিকা

বিশ্লেষণে স্বাস্থ্যখাতেও প্রকৃতির সরাসরি প্রভাবের কথা বলা হয়েছে। অনেক আধুনিক ওষুধের মূল উপাদান এসেছে প্রকৃতি থেকে। পাশাপাশি বায়ুদূষণ, রাসায়নিক দূষণ ও বিষাক্ত উপাদান কমাতে পারলে জনস্বাস্থ্য ব্যয় কমবে এবং শ্রম উৎপাদনশীলতা বাড়বে।

জ্বালানি খাতেও প্রকৃতিনির্ভর সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এখনো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি। সেখানে জৈবজ্বালানিসহ প্রকৃতিভিত্তিক জ্বালানি মানুষের প্রধান শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব বিকল্প অনেক ক্ষেত্রে বড় বিদ্যুৎ অবকাঠামোর তুলনায় কম ব্যয়বহুল।

Are New Technologies Changing the Nature of Work? The Evidence So Far

পর্যটন ও উৎপাদনশিল্পে নতুন সুযোগ

বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অ্যাডভেঞ্চার, ওয়েলনেস ও প্রকৃতিনির্ভর পর্যটন এখন বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল পর্যটন খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে। সঠিক ব্যবস্থাপনা থাকলে এসব খাত স্থানীয় মানুষের আয় বাড়াতে এবং বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে।

একই সঙ্গে প্রাকৃতিক সম্পদভিত্তিক উৎপাদনশিল্প, বিশেষ করে পুনর্ব্যবহার ও সম্পদ সাশ্রয়ী অর্থনীতি, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। প্রতিবেদনে আফ্রিকার উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, শিল্প কাঠের চাহিদা দ্রুত বাড়লেও সরবরাহে বড় ঘাটতি রয়েছে, যা স্থানীয় আসবাবশিল্প ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করতে পারে।

বিশ্লেষণের শেষ অংশে বলা হয়েছে, প্রকৃতি অর্থনৈতিক উন্নয়নের বাধা নয়, বরং প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের অন্যতম চালিকাশক্তি। তাই প্রাকৃতিক সম্পদকে শুধু সংরক্ষণের বিষয় হিসেবে নয়, অর্থনৈতিক পরিকল্পনার মূল অংশ হিসেবেও দেখতে হবে।

প্রকৃতিনির্ভর প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে টেকসই উন্নয়ন ও দারিদ্র্য কমানোর নতুন পথ তৈরি করা সম্ভব বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকৃতিনির্ভর অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান

প্রকৃতিকে প্রযুক্তি হিসেবে দেখার নতুন ধারণা নিয়ে বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ। কর্মসংস্থান, কৃষি, স্বাস্থ্য ও জ্বালানিতে প্রকৃতির গুরুত্ব বাড়ছে।

প্রকৃতি শুধু পরিবেশ নয়, ভবিষ্যৎ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের অন্যতম বড় শক্তি—বিশ্বব্যাংকের নতুন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এমনই বার্তা। কৃষি, স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও পর্যটনে প্রকৃতিনির্ভর বিনিয়োগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।