ভারতের আসাম রাজ্যে গত ১০ বছরে ৬ হাজার ২১১ জন শিশুশ্রমিক শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ হাজার ১২৩ শিশুকে পুনর্বাসনের আওতায় আনা হয়েছে বলে রাজ্য বিধানসভায় জানিয়েছেন শ্রমকল্যাণমন্ত্রী রমেশ্বর তেলি।
বিধানসভায় শিশুশ্রমের তথ্য
সোমবার বিধানসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে কংগ্রেসের বিধায়ক মহিবুর রহমানের প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, শনাক্ত হওয়া শিশুশ্রমিকদের অধিকাংশকেই একই সময়ে পুনর্বাসন করা হয়েছে।
তবে রাজ্যে শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা ও অধিকারসংক্রান্ত বিষয়ও রয়েছে। বর্তমানে ৪৪৮টি শ্রমবিরোধের মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে বলে বিধানসভায় জানানো হয়।
চাকরিপ্রত্যাশীর সংখ্যা ১৫ লাখের বেশি
আসাম সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে বর্তমানে নিবন্ধিত চাকরিপ্রত্যাশীর সংখ্যা ১৫ লাখ ৪৩ হাজার ৩৫০ জন। তাদের মধ্যে ১৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৭১ জন দক্ষ এবং ৭৬ হাজার ১৭৯ জন অদক্ষ কর্মপ্রার্থী।

এদিকে রাজ্যে বর্তমানে ১ হাজার ৩৭টি ইটভাটা চালু রয়েছে। এসব ইটভাটায় মোট ৬১ হাজার ৭৯২ জন শ্রমিক কাজ করছেন।
নির্মাণশ্রমিকও ৭ লাখের বেশি
অন্য এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে শ্রমকল্যাণমন্ত্রী জানান, আসামে নিবন্ধিত নির্মাণশ্রমিকের সংখ্যা ৭ লাখ ২৪ হাজার ৮৯৭ জন। রাজ্যের শ্রমবাজারে নির্মাণ খাতের বড় ভূমিকার পাশাপাশি এসব শ্রমিকের অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
হাসপাতালেও শিশুশ্রমের অভিযোগ
শিশুশ্রমের বিষয়টি সম্প্রতি নতুন করে আলোচনায় আসে গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজে নিয়োজিত থাকার অভিযোগ ওঠার পর। ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়।

এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি সংস্থা ওই শিশুদের কাজে নিয়োগের অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মীকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়। ভবিষ্যতে কোনো শিশুকে শ্রমে নিয়োজিত করা হবে না—এ মর্মে সংস্থাটির কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকারও নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
শিশুশ্রম বন্ধে আইন ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি বাস্তবে নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, বিপুলসংখ্যক শিশুকে পুনর্বাসনের আওতায় আনা হলেও শিশুদের শ্রমে ঠেলে দেওয়ার সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণগুলো দূর করাও সমান জরুরি।
আসামে গত এক দশকে ৬ হাজারের বেশি শিশুশ্রমিক শনাক্ত এবং তাদের অধিকাংশকে পুনর্বাসনের তথ্য তাই একদিকে সরকারি উদ্যোগের চিত্র তুলে ধরছে, অন্যদিকে শিশুশ্রম পুরোপুরি বন্ধে আরও কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তাও সামনে আনছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















