জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন চলাকালে নিউইয়র্কে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার ফিলিস্তিন বিষয়ক ছয় সদস্যের কমিটির বৈঠকে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, ফিলিস্তিন প্রশ্ন এখনো “ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা ও গোটা মুসলিম উম্মাহর সম্মিলিত বিবেকের কেন্দ্রবিন্দু।”
দার পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও একতরফা সংযুক্তি নীতিকে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এসব কার্যক্রম “পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীরের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও ধারাবাহিকতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।” গাজা প্রসঙ্গে তিনি জানান, যুদ্ধবিরতি চুক্তি “প্রায় প্রতিদিনই লঙ্ঘিত হচ্ছে”, যদিও যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন তিনি।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবে অনুমোদিত ব্যাপক শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দার ছয় দফা অগ্রাধিকার তুলে ধরেন, আল-আকসা মসজিদসহ পবিত্র স্থানগুলোর ঐতিহাসিক অবস্থা রক্ষা, ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও জোরপূর্বক উচ্ছেদ প্রত্যাখ্যান, পূর্ণাঙ্গ শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, ফিলিস্তিনিদের নেতৃত্বে পুনর্গঠন নিশ্চিতকরণ, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জবাবদিহি এবং ১৯৬৭-পূর্ব সীমানাভিত্তিক স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা।
তার এই বক্তব্যের সঙ্গে মিলছে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিম তীরের ২৭৫টি জনবসতিতে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ১৬০০টিরও বেশি, আর ইসরায়েল একই সময়ে ই-১ বসতি পরিকল্পনায় নতুন করে ২১৬৭টি আবাসন ইউনিট নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে বাংলাদেশেও ফিলিস্তিন প্রশ্নে জনমত বরাবরই স্পষ্ট, ফলে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার এই বৈঠক ও দারের বক্তব্য ঢাকার কূটনৈতিক অবস্থানের সঙ্গেও একধরনের সাযুজ্য তৈরি করে। শান্তি পরিকল্পনা কাগজে অনুমোদিত হলেও মাটিতে তার বাস্তবায়ন কতটা হচ্ছে, সেই প্রশ্নই এখন মুসলিম বিশ্বের কূটনীতির প্রধান পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, গাজা শান্তি পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়ে মুসলিম বিশ্বের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জরুরি হলেও ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে মতভেদ থেকেই যাচ্ছে। কিছু দেশ চাইছে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক আদালতে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে, আবার কিছু দেশ কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখে ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়ার পক্ষে। এই মতভেদের কারণেই গাজা প্রশ্নে সংস্থার যৌথ বিবৃতি প্রায়ই সাধারণ ভাষায় সীমাবদ্ধ থাকে, দৃঢ় কোনো পদক্ষেপ ছাড়াই।
দারের ছয় দফা প্রস্তাবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীরের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার প্রশ্নটি, কারণ ইসরায়েলের ধারাবাহিক বসতি সম্প্রসারণ ভবিষ্যতে দুই-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকেই কঠিন করে তুলছে। ফিলিস্তিনি নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অর্থায়ন প্রতিশ্রুতি এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি, যা নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাব বাস্তবায়নের পথে অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করছেন কূটনীতিকরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















