আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের নির্বাচনের প্রথম ধাপে মিরপুর বিভাগের ১৩টি আসনের মধ্যে ৯টিতে জয় পেয়েছে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)। প্রাথমিক ফলাফলে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) পেয়েছে চারটি আসন।
নিরাপত্তাজনিত কারণে আজাদ কাশ্মীরের নির্বাচন তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম ধাপে সোমবার মিরপুর বিভাগে ভোট নেওয়া হয়। তবে ভোটের দিন কয়েকটি এলাকায় সংঘর্ষ, সহিংসতা এবং ভোটে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। দুই প্রধান রাজনৈতিক দল পিএমএল-এন ও পিপিপি পরস্পরের বিরুদ্ধে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগও তোলে।
মিরপুর বিভাগে পিএমএল-এনের আধিপত্য
প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, মিরপুর জেলার দাদিয়াল ও খারি শরিফ, ভিমবার জেলার বারনালা, সামাহনি ও ভিমবার এবং কোটলি জেলার নাকিয়াল, সেনহসা, চড়হোই ও খুইরাট্টা আসনে জয় পেয়েছে পিএমএল-এন।

অন্যদিকে পিপিপি মিরপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ আসনসহ মিরপুরের চাকসওয়ারি এবং কোটলির দুটি আসনে জয় পেয়েছে।
মিরপুর-১ আসনে পিএমএল-এনের আজহার সাদিক ১৫ হাজার ৪২৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মুহাম্মদ আফজাল শহিদ পেয়েছেন ৯ হাজার ৮৩২ ভোট।
মিরপুর-২ আসনে পিপিপির কাসিম মজিদ ১৩ হাজার ৩৭৮ ভোট পেয়ে জয় পেয়েছেন। মিরপুর-৩ আসনে পিপিপির ইয়াসির সুলতান ১২ হাজার ৫৯০ ভোট পেয়ে পিএমএল-এনের প্রার্থীকে হারিয়েছেন। সেখানে বিজয়ী প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ১১ হাজার ৮১ ভোট।
মিরপুর-৪ আসনে পিএমএল-এনের চৌধুরী রুখসার আহমেদ ২২ হাজার ৩৭৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী পিপিপির সোহাইব আরশাদ পেয়েছেন ১৫ হাজার ৮৫১ ভোট।
ভিমবারে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
ভিমবারের বারনালা আসনে পিএমএল-এনের ওয়াকার আহমেদ নূর ও পিপিপির চৌধুরী পারভেজ আশরাফের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৬৮৫ ভোটের ব্যবধানে জয় পান ওয়াকার আহমেদ নূর। তিনি পেয়েছেন ৩০ হাজার ২৫৯ ভোট, আর পারভেজ আশরাফ পেয়েছেন ২৯ হাজার ৫৭৪ ভোট।
সামাহনি আসনে পিএমএল-এনের চৌধুরী রাজ্জাক জয় পেয়েছেন। ভিমবার-৩ আসনে পিএমএল-এনের তারিক ফারুক ৩৭ হাজার ৬১৩ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী এবং আজাদ কাশ্মীরের সাবেক প্রধানমন্ত্রী চৌধুরী আনোয়ারুল হক পেয়েছেন ২৫ হাজার ৫৩৪ ভোট।

কোটলিতেও এগিয়ে পিএমএল-এন
কোটলি-১ আসনে পিপিপির জাফর ইকবাল ১৯ হাজার ৫৩৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। কোটলি-৩ আসনে পিপিপির আজাদ কাশ্মীর শাখার সভাপতি চৌধুরী ইয়াসিন ১২ হাজার ৩৫৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
তবে কোটলির বাকি বেশিরভাগ আসনেই পিএমএল-এন এগিয়ে রয়েছে। সোমবার সহিংসতার কারণে আলোচিত নাকিয়াল আসনে পিএমএল-এনের উমাইর নাঈম ৩০ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী পিপিপির জাভেদ বুধানভি পেয়েছেন ২৮ হাজার ৩০৯ ভোট।
কোটলি-৪ আসনে পিএমএল-এনের রাজা আসিফ এবং কোটলি-৫ আসনে দলটির নেতা রাজা রিয়াসত খান জয় পেয়েছেন। কোটলি-৬ আসনে পিএমএল-এনের রাজা আয়াজ আহমেদ ১২ হাজার ৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
সামনে আরও দুই ধাপে ভোট

আজাদ কাশ্মীরের নির্বাচন এখনো শেষ হয়নি। দ্বিতীয় ধাপে আগামী ২ আগস্ট মুজাফফরাবাদ বিভাগের ৯টি আসন এবং শরণার্থী আসনগুলোর মধ্যে ১২টিতে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। তৃতীয় ধাপে ১০ আগস্ট পুঞ্চ বিভাগের ১১টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, এবারের নির্বাচন আজাদ কাশ্মীরের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন নির্বাচনগুলোর একটি। ভোটকে ঘিরে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও রাজনৈতিক দলগুলো অনেক সময় সেগুলোকে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
মিরপুর বিভাগের প্রথম ধাপের ফলাফলে পিএমএল-এন স্পষ্টভাবে এগিয়ে থাকায় পরবর্তী দুই ধাপের নির্বাচনেও দলটির অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে বাকি আসনগুলোর ফলাফল না আসা পর্যন্ত আজাদ কাশ্মীরের সামগ্রিক নির্বাচনী চিত্র পুরোপুরি পরিষ্কার হবে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















