আসামে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও নতুন করে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যার পর দূষিত পানি ও মশাবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। এ অবস্থায় বন্যাকবলিত মানুষের নিরাপদ পানি পান, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং মশা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বন্যার পর পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি
বন্যার সময় অনেক এলাকায় পানীয় জলের উৎস দূষিত হয়ে যায়। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরও সেই দূষণ থেকে যেতে পারে। ফলে অপরিষ্কার বা দূষিত পানি পান করলে টাইফয়েড, জন্ডিস ও আমাশয়ের মতো রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ অনেক সময় বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়ে বাধ্য হয়ে স্থানীয় উৎসের পানি ব্যবহার করেন। তাই বন্যার পরপরই নিরাপদ পানীয় জল নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
মশাবাহিত রোগ নিয়েও সতর্কতা
বন্যার পানি সরে যাওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকতে পারে। এসব স্থির পানিতে মশার বংশবিস্তার বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়। এতে মশাবাহিত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
বন্যাকবলিত এলাকায় তাই জমে থাকা পানি দ্রুত সরানো, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং প্রয়োজনীয় মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বন্যার পর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাড়তি নজর
বন্যার পানি নেমে গেলেই দুর্ভোগ শেষ হয় না। বরং পরবর্তী সময়ে রোগের বিস্তার ঠেকানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এজন্য বন্যাদুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, স্যানিটেশন, পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।
বন্যার পর রোগ ছড়িয়ে পড়ার আগেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া গেলে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে বন্যাকবলিত মানুষকেও পানি ফুটিয়ে বা যথাযথভাবে বিশুদ্ধ করে পান করা এবং অপরিষ্কার পরিবেশ এড়িয়ে চলার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
বন্যার পানি সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাই স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
![]()
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















