জুলাই অভ্যুত্থানের পেছনে দীর্ঘ ১৭ বছরের বিএনপির আন্দোলনই ভিত্তি তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, একটি গণঅভ্যুত্থান কখনো হঠাৎ করে গড়ে ওঠে না; এর পেছনে দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক সংগ্রাম থাকে। সেই বাস্তবতায় বিএনপির ধারাবাহিক আন্দোলনই জুলাই অভ্যুত্থানের ভিত্তি নির্মাণ করেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে “ন্যায়ভিত্তিক বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে বিভাজন নয়, ঐক্য” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘আমরা বাংলাদেশী’ নামের একটি সংগঠন এ সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ এহসানুল হুদা এবং সঞ্চালনা করেন তমিজ উদ্দিন টিটু।
অভ্যুত্থান ও আন্দোলনের দাবি
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় যারা নিজেদের একমাত্র আন্দোলনের দাবিদার হিসেবে তুলে ধরছেন, তাদের গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি জোটবদ্ধভাবে ও যুগপৎ আন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন রাজপথে ছিল। তাই অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব এককভাবে দাবি করা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
তিনি আরও বলেন, ১৯৮৬ সালের এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্দোলনে বর্তমান বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ছিল না বলেই বিএনপির দাবি।

নির্বাচন ও বিরোধী দল নিয়ে মন্তব্য
বিরোধী দলকে লক্ষ্য করে এ্যানি বলেন, নির্বাচনের আগে তাদের অনেক নেতার সম্পদ বৃদ্ধি এবং তাদের সহযোগীদের কাছ থেকে অর্থ উদ্ধারের খবর সামনে এসেছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, কিছু নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোট বিভক্ত হয়েছে, যার সুযোগ পেয়েছে প্রতিপক্ষ।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কয়েকটি আসনে প্রবাসী ভোটও প্রভাবিত হয়েছে। ভবিষ্যতে যেসব আসনে নতুন নির্বাচন হতে পারে, সেগুলোতে এখন থেকেই নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারের চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ মাস হয়েছে। তাই সব সমস্যার সমাধান এখনই সম্ভব হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন এবং সবাই সহযোগিতা করলে দেশের সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে দুর্নীতি, চুরি ও লুটপাটের কারণে দেশকে নানা সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও ভূমি সংকোচনের বিষয়টিও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন ভাবনার ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বেও বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ সময় তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর গোয়েন্দা পুলিশের নির্যাতনের অভিযোগও তুলে ধরেন।
অন্যান্য বক্তাদের বক্তব্য
লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, বিভাজনের পরিবর্তে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠাই হওয়া উচিত সবার লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি, তারা এখন সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিরোধী জোটে ভাঙন শুরু হয়েছে এবং তাদের সরকার পতনের ঘোষণা বাস্তবসম্মত নয়।
রাশেদ খান আরও বলেন, বিএনপি ঐক্যের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। তিনি তারেক রহমানের নেতৃত্ব, ব্যয়সংকোচন ও রাজনৈতিক কর্মকৌশলের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি ড. ইউনূস, জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপিকে ঘিরেও বিভিন্ন রাজনৈতিক মন্তব্য করেন।
সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশী’ সংগঠন একটি ঐক্যবদ্ধ, বৈষম্যহীন ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্য নিয়েই যাত্রা শুরু করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















