০৫:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
রেড সিতে জাহাজ চলাচলে নতুন ফি আরোপের চিন্তা হুথিদের, বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাড়ছে অনিশ্চয়তা যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি যৌথ হামলায় নতুন মোড়, ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধের উত্তাপ চীনের কাছ থেকে ৪০০ কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে ইরান, যুদ্ধের মাঝেই ৭০ মিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তি সোয়াতে যৌথ অভিযানে চার জঙ্গি নিহত, এলিট ফোর্সের এক কনস্টেবল নিহত সুপ্রিম কোর্টের রায়ে মৃত্যুর পরও স্বস্তি: কয়লা ব্লক মামলায় সম্পূর্ণ অব্যাহতি পেলেন ড. মনমোহন সিং রাহুল গান্ধীর বিস্ফোরক অভিযোগে লোকসভায় তুমুল হট্টগোল, অমিত শাহের বিরুদ্ধে ‘ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ’ দেওয়ার দাবি বাধ্যতামূলক ভোট: গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে, নাকি আরও দুর্বল? হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রশ্নে আবার আলোচনায় আইসিটি: ন্যায়বিচারের মানদণ্ড নিয়ে নতুন বিতর্ক জাপানের কুমামোতো ভূমিকম্পে অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা, বন্ধ কারখানা-যোগাযোগ, সরবরাহ শৃঙ্খলে সংকট গত ১৫ বছরে জাপানের বড় বড় ভূমিকম্প

উজান আসামে বন্যার ভয়াবহতায় জীবন বাঁচাতে দিনরাত উদ্ধারকর্মীরা

উজান আসামে ভয়াবহ বন্যায় যখন গ্রাম ডুবে গেছে, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে, তখন অনেকের কাছে আশার প্রথম আলো হয়ে এসেছে উদ্ধারকারী নৌকা। বন্যার পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া ঘরবাড়ির দৃশ্যের আড়ালে চলছে মানুষের জীবন বাঁচানোর এক নিরলস লড়াই।

জোরহাট, শিবসাগর ও গোলাঘাটসহ বন্যাকবলিত এলাকায় জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী, রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী, বেসামরিক প্রতিরক্ষা, জেলা দুর্যোগ মোকাবিলা দল, অগ্নিনির্বাপণ ও জরুরি পরিষেবা, পুলিশ এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা দিনরাত কাজ করছেন। তাদের মূল লক্ষ্য পানিবন্দি মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে উদ্ধার করা এবং বিচ্ছিন্ন এলাকায় খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া।

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উদ্ধার অভিযান

জোরহাটে আগে থেকেই উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। ১৯ জুলাই রাতে বিভিন্ন গ্রাম পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করলে একের পর এক বিপদের খবর আসতে থাকে। এরপর থেকেই উদ্ধারকারীরা মানুষের কাছে পৌঁছাতে শুরু করেন।

Beyond floodwaters: Inside rescue operations that kept Upper Assam afloat

এ পর্যন্ত জোরহাট ও আশপাশের বন্যাকবলিত এলাকা থেকে ৫৬৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। শুধু আটকে পড়া পরিবার নয়, ডুবে যাওয়া সড়ক দিয়ে গুরুতর অসুস্থ রোগীদেরও হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। প্রবল স্রোত ও দ্রুত পরিবর্তনশীল পানির উচ্চতার মধ্যেও চলেছে এসব অভিযান।

তেওকের প্রত্যন্ত কাউয়াইমারি মিসিং গ্রামে সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তার পর প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূর থেকে নৌকা চালিয়ে এক গুরুতর অসুস্থ বৃদ্ধাকে উদ্ধার করা হয়।

একাধিক অভিযানে মৃত্যুর মুখ থেকে মানুষকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তেওক চা-বাগানের একটি হাসপাতাল থেকেও রোগীদের উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে মাত্র ২০ দিনের একটি নবজাতকও ছিল।

উদ্ধার শেষে এখন ত্রাণ ও পুনর্বাসনে নজর

বন্যার পানি কিছুটা কমতে শুরু করার পর উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা ১৯ জুলাই রাত থেকেই মাঠে রয়েছেন। শুরুতে তাদের প্রধান দায়িত্ব ছিল মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া। পানি কমার পর এখন তারা ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসনে সহায়তা করছেন।

জোরহাটে বর্তমানে ১২ জন সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। শিবসাগরে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুতর হওয়ায় সেখানে আরও বড় দল কাজ করছে। পুরো আসামে বন্যা মোকাবিলায় ৫৩৩ জন সদস্যকে কাজে নামানো হয়েছে।

Beyond floodwaters: Inside rescue operations that kept Upper Assam afloat

পানি কমলেও কমেনি সংকট

বন্যার পানি কমে গেলেই যে উদ্ধারকাজ সহজ হয়ে যায়, বাস্তব পরিস্থিতি তার উল্টো চিত্রও দেখাচ্ছে। গভীর পানির জায়গায় এখন অগভীর জলপথ তৈরি হওয়ায় অনেক সময় উদ্ধারকারী নৌকা আটকে যাচ্ছে।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার সমস্যা। পাঁচটি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ত্রাণ ও চিকিৎসাসামগ্রী বহনকারী যানবাহন অনেক বিচ্ছিন্ন গ্রামে পৌঁছাতে পারছে না। বর্তমানে সোলমারা এলাকায় সড়কপথে পৌঁছানো সম্ভব হলেও অন্য অনেক জায়গায় যোগাযোগ এখনও কঠিন।

ফলে উদ্ধারকারী দলগুলোকে এখন নৌপথ, ভাঙা সড়ক এবং বিচ্ছিন্ন জনপদের মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করতে হচ্ছে।

নতুন বিপদের আশঙ্কায় সতর্ক উদ্ধারকর্মীরা

পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও যেকোনো সময় নতুন করে সংকট তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে উজান থেকে পানি ছেড়ে দেওয়া হলে নিম্নাঞ্চলে দ্রুত পানির চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলগুলোও তাই সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে। জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে জরুরি নির্দেশ পেলেই তারা ঘটনাস্থলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। তাদের কাছে প্রতিটি বিপদসংকেতই গুরুত্বপূর্ণ।

✓Under the direction and supervision of Shri Virendra Kumar Verma,  Commandant, 12th National Disaster Response Force (NDRF), 5 teams have been  deployed in Sivasagar for flood rescue operations. ✓So far, 2,391 people

বন্যায় ছয় শতাধিক মানুষের মৃত্যু

সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আসামের ১০টি জেলা, ২৮টি রাজস্ব চক্র এবং ৮১০টি গ্রাম এখনও বন্যার প্রভাবে রয়েছে। বন্যায় এখন পর্যন্ত ৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৬ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩৮ জন।

এখনও ২৭৪টি ত্রাণশিবির ও ত্রাণ বিতরণকেন্দ্র চালু রয়েছে। এসব কেন্দ্রে ১৮ হাজার ৯০২ জন আশ্রয় নিয়েছেন। পাশাপাশি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রের মাধ্যমে আরও ১ লাখ ২৩ হাজার ১১৪ জনকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

পানি নামলেও শেষ হয়নি লড়াই

বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও শিবসাগরের দিখৌ নদী এবং নুমালিগড়ের ধনসিঁড়ি দক্ষিণ নদী এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে দুর্যোগ মোকাবিলায় নিয়োজিত দলগুলোকে সতর্ক থাকতে হচ্ছে।

বন্যার পানি ধীরে ধীরে নামছে। কিন্তু উদ্ধারকর্মীদের দায়িত্ব এখনও শেষ হয়নি। নতুন বৃষ্টি, উজান থেকে পানি আসা কিংবা হঠাৎ কোনো বিপদসংকেত আবারও একটি গ্রামকে জরুরি পরিস্থিতির মধ্যে ফেলতে পারে। তাই মানুষের জীবন রক্ষায় নৌকা, চিকিৎসা সহায়তা, ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল নিয়ে প্রস্তুত রয়েছেন তারা।

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রেড সিতে জাহাজ চলাচলে নতুন ফি আরোপের চিন্তা হুথিদের, বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

উজান আসামে বন্যার ভয়াবহতায় জীবন বাঁচাতে দিনরাত উদ্ধারকর্মীরা

০২:২৯:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

উজান আসামে ভয়াবহ বন্যায় যখন গ্রাম ডুবে গেছে, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে, তখন অনেকের কাছে আশার প্রথম আলো হয়ে এসেছে উদ্ধারকারী নৌকা। বন্যার পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া ঘরবাড়ির দৃশ্যের আড়ালে চলছে মানুষের জীবন বাঁচানোর এক নিরলস লড়াই।

জোরহাট, শিবসাগর ও গোলাঘাটসহ বন্যাকবলিত এলাকায় জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী, রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী, বেসামরিক প্রতিরক্ষা, জেলা দুর্যোগ মোকাবিলা দল, অগ্নিনির্বাপণ ও জরুরি পরিষেবা, পুলিশ এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা দিনরাত কাজ করছেন। তাদের মূল লক্ষ্য পানিবন্দি মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে উদ্ধার করা এবং বিচ্ছিন্ন এলাকায় খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া।

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উদ্ধার অভিযান

জোরহাটে আগে থেকেই উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। ১৯ জুলাই রাতে বিভিন্ন গ্রাম পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করলে একের পর এক বিপদের খবর আসতে থাকে। এরপর থেকেই উদ্ধারকারীরা মানুষের কাছে পৌঁছাতে শুরু করেন।

Beyond floodwaters: Inside rescue operations that kept Upper Assam afloat

এ পর্যন্ত জোরহাট ও আশপাশের বন্যাকবলিত এলাকা থেকে ৫৬৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। শুধু আটকে পড়া পরিবার নয়, ডুবে যাওয়া সড়ক দিয়ে গুরুতর অসুস্থ রোগীদেরও হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। প্রবল স্রোত ও দ্রুত পরিবর্তনশীল পানির উচ্চতার মধ্যেও চলেছে এসব অভিযান।

তেওকের প্রত্যন্ত কাউয়াইমারি মিসিং গ্রামে সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তার পর প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূর থেকে নৌকা চালিয়ে এক গুরুতর অসুস্থ বৃদ্ধাকে উদ্ধার করা হয়।

একাধিক অভিযানে মৃত্যুর মুখ থেকে মানুষকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তেওক চা-বাগানের একটি হাসপাতাল থেকেও রোগীদের উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে মাত্র ২০ দিনের একটি নবজাতকও ছিল।

উদ্ধার শেষে এখন ত্রাণ ও পুনর্বাসনে নজর

বন্যার পানি কিছুটা কমতে শুরু করার পর উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা ১৯ জুলাই রাত থেকেই মাঠে রয়েছেন। শুরুতে তাদের প্রধান দায়িত্ব ছিল মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া। পানি কমার পর এখন তারা ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসনে সহায়তা করছেন।

জোরহাটে বর্তমানে ১২ জন সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। শিবসাগরে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুতর হওয়ায় সেখানে আরও বড় দল কাজ করছে। পুরো আসামে বন্যা মোকাবিলায় ৫৩৩ জন সদস্যকে কাজে নামানো হয়েছে।

Beyond floodwaters: Inside rescue operations that kept Upper Assam afloat

পানি কমলেও কমেনি সংকট

বন্যার পানি কমে গেলেই যে উদ্ধারকাজ সহজ হয়ে যায়, বাস্তব পরিস্থিতি তার উল্টো চিত্রও দেখাচ্ছে। গভীর পানির জায়গায় এখন অগভীর জলপথ তৈরি হওয়ায় অনেক সময় উদ্ধারকারী নৌকা আটকে যাচ্ছে।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার সমস্যা। পাঁচটি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ত্রাণ ও চিকিৎসাসামগ্রী বহনকারী যানবাহন অনেক বিচ্ছিন্ন গ্রামে পৌঁছাতে পারছে না। বর্তমানে সোলমারা এলাকায় সড়কপথে পৌঁছানো সম্ভব হলেও অন্য অনেক জায়গায় যোগাযোগ এখনও কঠিন।

ফলে উদ্ধারকারী দলগুলোকে এখন নৌপথ, ভাঙা সড়ক এবং বিচ্ছিন্ন জনপদের মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করতে হচ্ছে।

নতুন বিপদের আশঙ্কায় সতর্ক উদ্ধারকর্মীরা

পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও যেকোনো সময় নতুন করে সংকট তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে উজান থেকে পানি ছেড়ে দেওয়া হলে নিম্নাঞ্চলে দ্রুত পানির চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলগুলোও তাই সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে। জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে জরুরি নির্দেশ পেলেই তারা ঘটনাস্থলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। তাদের কাছে প্রতিটি বিপদসংকেতই গুরুত্বপূর্ণ।

✓Under the direction and supervision of Shri Virendra Kumar Verma,  Commandant, 12th National Disaster Response Force (NDRF), 5 teams have been  deployed in Sivasagar for flood rescue operations. ✓So far, 2,391 people

বন্যায় ছয় শতাধিক মানুষের মৃত্যু

সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আসামের ১০টি জেলা, ২৮টি রাজস্ব চক্র এবং ৮১০টি গ্রাম এখনও বন্যার প্রভাবে রয়েছে। বন্যায় এখন পর্যন্ত ৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৬ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩৮ জন।

এখনও ২৭৪টি ত্রাণশিবির ও ত্রাণ বিতরণকেন্দ্র চালু রয়েছে। এসব কেন্দ্রে ১৮ হাজার ৯০২ জন আশ্রয় নিয়েছেন। পাশাপাশি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রের মাধ্যমে আরও ১ লাখ ২৩ হাজার ১১৪ জনকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

পানি নামলেও শেষ হয়নি লড়াই

বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও শিবসাগরের দিখৌ নদী এবং নুমালিগড়ের ধনসিঁড়ি দক্ষিণ নদী এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে দুর্যোগ মোকাবিলায় নিয়োজিত দলগুলোকে সতর্ক থাকতে হচ্ছে।

বন্যার পানি ধীরে ধীরে নামছে। কিন্তু উদ্ধারকর্মীদের দায়িত্ব এখনও শেষ হয়নি। নতুন বৃষ্টি, উজান থেকে পানি আসা কিংবা হঠাৎ কোনো বিপদসংকেত আবারও একটি গ্রামকে জরুরি পরিস্থিতির মধ্যে ফেলতে পারে। তাই মানুষের জীবন রক্ষায় নৌকা, চিকিৎসা সহায়তা, ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল নিয়ে প্রস্তুত রয়েছেন তারা।