ভারতের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে সাম্প্রতিক জাতীয় সমীক্ষায় উঠে এসেছে আশাব্যঞ্জক কিছু তথ্য, পাশাপাশি সামনে এসেছে বেশ কিছু উদ্বেগও। মাতৃসেবা, স্বাস্থ্যবিমা এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেলেও সাধারণ মানুষের জন্য বেসরকারি চিকিৎসার বাড়তি খরচ বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন রাজ্যে অসুস্থতার হার নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
মাতৃসেবায় ইতিবাচক অগ্রগতি
সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রায় ৯৮ শতাংশ নারী গর্ভকালীন চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন এবং ৯২ শতাংশের বেশি নারী সন্তান জন্মের পর চিকিৎসা সহায়তা পেয়েছেন। দেশের ৯৫ শতাংশেরও বেশি সন্তান প্রসব এখন হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব মা ও শিশুর মৃত্যুহার কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে বেসরকারি হাসপাতালে প্রসবের খরচ অনেক বেশি। শহরাঞ্চলে প্রায় অর্ধেক এবং গ্রামে প্রায় ২৯ শতাংশ প্রসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে হচ্ছে। সেখানে গড় খরচ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৭ হাজার ৬৩০ রুপি।
কেরল, পশ্চিমবঙ্গ ও অন্ধ্রপ্রদেশ নিয়ে প্রশ্ন
সমীক্ষায় অসুস্থতার হার সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে কেরল, পশ্চিমবঙ্গ এবং অন্ধ্রপ্রদেশে। কেরলে সব বয়সের মানুষের মধ্যে অসুস্থতার প্রবণতা বেশি, আর পশ্চিমবঙ্গ ও অন্ধ্রপ্রদেশে তা মূলত ৬০ বছরের বেশি মানুষের মধ্যে বেশি দেখা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চিত্র কিছুটা বিস্ময়কর। কারণ জনস্বাস্থ্যের সূচকে কেরল সাধারণত দেশের অন্যতম সেরা রাজ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই প্রশ্ন উঠছে, মানুষ অসুস্থতাকে কীভাবে দেখছে, তথ্য সংগ্রহে কোনো ত্রুটি আছে কি না, নাকি অন্য কোনো সামাজিক কারণ এর পেছনে কাজ করছে।
বাড়ছে জীবনধারাজনিত রোগ
সমীক্ষায় দেখা গেছে, সংক্রমণজনিত রোগ সব বয়সের মানুষের মধ্যেই সাধারণ সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। অন্যদিকে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো জীবনধারাজনিত রোগ ৪০ বছর বয়সের পর দ্রুত বাড়ছে।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, ১৫ বছর বয়সের পর থেকে দুর্ঘটনা ও আঘাতজনিত সমস্যা অসুস্থতার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর বড় অংশই প্রতিরোধযোগ্য।
সরকারি হাসপাতালের ব্যবহার কম
শহরে মাত্র ৩৫ শতাংশ এবং গ্রামে ২৫ শতাংশ মানুষ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আগের সমীক্ষার তুলনায় এই চিত্রে খুব বেশি পরিবর্তন আসেনি।
একই সময়ে স্বাস্থ্যবিমার আওতায় মানুষের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। আগে যেখানে গ্রামে মাত্র ১৪ শতাংশ এবং শহরে ১৯ শতাংশ মানুষ বিমার আওতায় ছিলেন, এখন তা বেড়ে যথাক্রমে ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ৪৪ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছেছে।
তবুও সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমেনি। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে বেসরকারি চিকিৎসার গড় খরচ এখন ৫০ হাজার রুপির বেশি। নিম্ন আয়ের মানুষদেরও প্রায় ২৫ হাজার রুপি পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে। ফলে চিকিৎসা ব্যয় এখনো ঋণগ্রস্ততার বড় কারণ হয়ে আছে।
তথ্যে অসঙ্গতি নিয়েও প্রশ্ন
সমীক্ষার কিছু তথ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যেমন, কিছু রাজ্যে দাতব্য হাসপাতালের খরচ বেসরকারি হাসপাতালের চেয়েও বেশি দেখানো হয়েছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। আবার পুরুষদের বিভাগে প্রসূতি চিকিৎসার তথ্যও যুক্ত হয়েছে, যা স্পষ্টতই অস্বাভাবিক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব তথ্য যাচাই ও বিশ্লেষণ জরুরি। একই সঙ্গে পুরো কাঁচা তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হলে গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের জন্য তা আরও কার্যকর হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















