০৪:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডলি পার্টন: ভালোবাসা, গান আর মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক অনন্য জীবন নরওয়ের রাজা হারাল্ড পঞ্চমের মৃত্যু, শোকে ওসলো বিতর্ক পেরিয়ে নতুন উচ্চতায় র‍্যাচেল জেগলার, এবার ব্রডওয়েতে ইভা পেরন শিল্পের নতুন প্রভাবশালীদের খোঁজে টাইম, ৫০ বছর পর প্রচ্ছদে জীবিত চিত্রশিল্পী ৯/১১-এর ২৫ বছর: যে ক্ষত আজও বয়ে বেড়াচ্ছে এক প্রজন্ম নিজের ঘরেও পরবাসী: ‘কারা আমাদের মানুষ’—এই প্রশ্নের রাজনীতি ট্রাম্প-শির নৈশভোজে জাঁকজমক, আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের গভীর টানাপোড়েন ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ায় লাভবান তারেক রহমান, ক্ষতি বাংলাদেশের জানুয়ারিতে শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, পরীক্ষার সময় এড়িয়ে ইসির প্রস্তুতি ইতালির ব্যাংকিং খাতে নতুন শক্তি, আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান থেকে জাতীয় জায়ান্ট বিএপিইআর

ভারতে সোনার দামে রেকর্ড উল্লম্ফন, একমাত্র চালু খনিতে মুনাফার বন্যা

বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়ার প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে ভারতের একমাত্র কার্যকর স্বর্ণখনিতে। কর্ণাটকের রাইচুর জেলার হুত্তি গোল্ড মাইনস চলতি অর্থবছরে বিপুল আর্থিক সাফল্য অর্জন করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার মূল্য বৃদ্ধি এবং উৎপাদন দক্ষতা বাড়ায় প্রতিষ্ঠানটির আয় ও মুনাফা দুইই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

হুত্তি গোল্ড মাইনসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির গড় সোনা বিক্রির মূল্য প্রতি গ্রাম ১১ হাজার ৬০৩ রুপিতে পৌঁছায়। আগের অর্থবছরে যা ছিল ৭ হাজার ৬৪৫ রুপি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রতি গ্রামে দাম বেড়েছে প্রায় ৩ হাজার ৯৫৮ রুপি।

সোনার দাম বৃদ্ধিতে বড় লাভ

বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম টানা বাড়তে থাকে। এর প্রভাব ভারতীয় বাজারেও পড়ে। খুচরা বাজারে প্রতি গ্রাম সোনার দাম ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার রুপির মধ্যে ওঠানামা করেছে।

এই মূল্যবৃদ্ধির সুযোগে হুত্তি গোল্ড মাইনস অতিরিক্ত ৬৩৩ কোটি রুপির বেশি আয় করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মোট রাজস্ব আগের বছরের ১ হাজার ৩৪২ কোটি রুপি থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯১০ কোটি রুপিতে। অর্থাৎ এক বছরে রাজস্ব বেড়েছে ৪২ শতাংশেরও বেশি।

একই সঙ্গে কর-পরবর্তী মুনাফা পৌঁছেছে ৮৪৪ কোটি ৭১ লাখ রুপিতে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

উৎপাদনেও ইতিবাচক অগ্রগতি

শুধু বাজারদর নয়, উৎপাদন দক্ষতাও প্রতিষ্ঠানটির সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতি টন আকরিক থেকে গড়ে ২ দশমিক ৬১ গ্রাম সোনা উদ্ধার করা হয়েছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি মোট ১ হাজার ৬৯১ কেজির বেশি সোনা উৎপাদন করেছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫২১ কেজির বেশি সোনা বিক্রি করে বিপুল আয় আসে।

এছাড়া সোনা প্রক্রিয়াজাত করার সময় উপজাত হিসেবে প্রায় ১৪৬ কেজি রুপাও উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৩১ কেজির বেশি রুপা বিক্রি করা হয়েছে প্রতি কেজি গড়ে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫০ রুপিতে।

ভারতের চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম

ভারতে বছরে ৭০০ টনের বেশি সোনার চাহিদা থাকলেও হুত্তি গোল্ড মাইনস সেই চাহিদার ১ শতাংশেরও কম পূরণ করতে পারে। তবু দেশটির একমাত্র কার্যকর স্বর্ণখনি হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্ব অনেক বেশি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম যদি আরও বাড়তে থাকে, তাহলে আগামী বছরগুলোতেও প্রতিষ্ঠানটি একইভাবে শক্তিশালী মুনাফা ধরে রাখতে পারবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডলি পার্টন: ভালোবাসা, গান আর মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক অনন্য জীবন

ভারতে সোনার দামে রেকর্ড উল্লম্ফন, একমাত্র চালু খনিতে মুনাফার বন্যা

০৮:০৮:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়ার প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে ভারতের একমাত্র কার্যকর স্বর্ণখনিতে। কর্ণাটকের রাইচুর জেলার হুত্তি গোল্ড মাইনস চলতি অর্থবছরে বিপুল আর্থিক সাফল্য অর্জন করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার মূল্য বৃদ্ধি এবং উৎপাদন দক্ষতা বাড়ায় প্রতিষ্ঠানটির আয় ও মুনাফা দুইই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

হুত্তি গোল্ড মাইনসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির গড় সোনা বিক্রির মূল্য প্রতি গ্রাম ১১ হাজার ৬০৩ রুপিতে পৌঁছায়। আগের অর্থবছরে যা ছিল ৭ হাজার ৬৪৫ রুপি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রতি গ্রামে দাম বেড়েছে প্রায় ৩ হাজার ৯৫৮ রুপি।

সোনার দাম বৃদ্ধিতে বড় লাভ

বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম টানা বাড়তে থাকে। এর প্রভাব ভারতীয় বাজারেও পড়ে। খুচরা বাজারে প্রতি গ্রাম সোনার দাম ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার রুপির মধ্যে ওঠানামা করেছে।

এই মূল্যবৃদ্ধির সুযোগে হুত্তি গোল্ড মাইনস অতিরিক্ত ৬৩৩ কোটি রুপির বেশি আয় করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মোট রাজস্ব আগের বছরের ১ হাজার ৩৪২ কোটি রুপি থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯১০ কোটি রুপিতে। অর্থাৎ এক বছরে রাজস্ব বেড়েছে ৪২ শতাংশেরও বেশি।

একই সঙ্গে কর-পরবর্তী মুনাফা পৌঁছেছে ৮৪৪ কোটি ৭১ লাখ রুপিতে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

উৎপাদনেও ইতিবাচক অগ্রগতি

শুধু বাজারদর নয়, উৎপাদন দক্ষতাও প্রতিষ্ঠানটির সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতি টন আকরিক থেকে গড়ে ২ দশমিক ৬১ গ্রাম সোনা উদ্ধার করা হয়েছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি মোট ১ হাজার ৬৯১ কেজির বেশি সোনা উৎপাদন করেছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫২১ কেজির বেশি সোনা বিক্রি করে বিপুল আয় আসে।

এছাড়া সোনা প্রক্রিয়াজাত করার সময় উপজাত হিসেবে প্রায় ১৪৬ কেজি রুপাও উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৩১ কেজির বেশি রুপা বিক্রি করা হয়েছে প্রতি কেজি গড়ে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫০ রুপিতে।

ভারতের চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম

ভারতে বছরে ৭০০ টনের বেশি সোনার চাহিদা থাকলেও হুত্তি গোল্ড মাইনস সেই চাহিদার ১ শতাংশেরও কম পূরণ করতে পারে। তবু দেশটির একমাত্র কার্যকর স্বর্ণখনি হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্ব অনেক বেশি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম যদি আরও বাড়তে থাকে, তাহলে আগামী বছরগুলোতেও প্রতিষ্ঠানটি একইভাবে শক্তিশালী মুনাফা ধরে রাখতে পারবে।