আয়েশমুকাম মাজারে বছরের এই বিশেষ জুল উৎসব কাশ্মীরের দক্ষিণাঞ্চলে সুফি সংস্কৃতির এক অনন্য প্রতিফলন। সূর্যাস্তের সাথে সাথে ভক্তরা হাতে হাতে কাঠের মশাল বা ফ্রভ নিয়ে মাজারের দিকে যাত্রা শুরু করেন। এই প্রদীপ উৎসব, যা আলোর উৎসব নামেও পরিচিত, শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বরং প্রকৃতির কঠোর শীত শেষে বসন্তের আগমন ও আলোর অন্ধকার জয়ের চিরন্তন প্রতীক। অনন্তনাগ জেলার এই মাজার পাহালগামের দর্শনীয় পথের উপর একটি উঁচু টিলার কোণে অবস্থিত, যা উৎসবকে আরও মনোমুগ্ধকর করে তোলে।
ভক্তদের মিলন ও আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি

স্থানীয় মানুষ উৎসবের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নেন। উৎসবের তিন দিন আগে থেকে তারা মাংস গ্রহণ বা বিক্রি থেকে বিরত থাকেন, যা আত্মিক পবিত্রতার নিদর্শন। ভক্তরা মাজারের পাদদেশে জমায়েত হয় এবং হাতে হাতে মশাল নিয়ে পাহাড়ের ওপরের গুহামাজারের দিকে যাত্রা শুরু করেন। এই মশালগুলি বিশেষ কাঠ দিয়ে তৈরি, যা কাছের বন থেকে সংগ্রহ করা হয়। সূর্যাস্তের সাথে সাথে এই আগুনের ধারা সিঁড়ি বরাবর ছড়িয়ে পড়ে এবং হাজার হাজার মানুষের হাতে ধরা মশাল আকাশে যেন এক দীপ্তিময় নদী সৃষ্টি করে। ভক্তরা স্তবক জপ করে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন, এবং এই দৃশ্য কয়েক মাইল দূর থেকে দৃশ্যমান হয়।
ইতিহাস ও ঐতিহাসিক সাফল্যের গল্প
স্থানীয় কাহিনীর মতে, ১৫শ শতাব্দীর সুফি সাধক বাবাজানুদিন ওয়ালী মাজারের গুহায় ধ্যান করতেন। গুহাটি এক সময় সাপ বা শয়তানের আতঙ্কে ভরা ছিল। বাবাজানুদিন ওয়ালীর আধ্যাত্মিক শক্তির কারণে গুহাটি পরিশুদ্ধ হয় এবং স্থানীয় মানুষ এই ঘটনার উদযাপন করতে মশাল প্রজ্জ্বলন শুরু করেন। এই ঐতিহ্য আজও অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর বিজয় এবং ন্যায়ের জয়কে চিহ্নিত করে।

বসন্তের আগমন ও কৃষকের উৎসাহ
জুল উৎসব শুধুমাত্র আধ্যাত্মিকতা ও ধর্মীয় অনুশীলন নয়, এটি কৃষকদের জন্য একটি প্রাচীন সময়সূচকও। উৎসবটি শাব-এ-দোম বা প্রার্থনার দ্বিতীয় রাতে অনুষ্ঠিত হয়, যা কঠোর হিমালয়ের শীত শেষে কৃষকদের ধান বপনের জন্য প্রস্তুত করে। মাজারের এই প্রদীপযাত্রা রিশি-সুফি সংস্কৃতির শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, যা বিভিন্ন ধর্মের মানুষকে একত্রিত করে সামাজিক সম্প্রীতি এবং উদারতার চিরন্তন ঐতিহ্য উদযাপন করতে অনুপ্রাণিত করে।
আলোর দীপ্তিতে ভরা এই উৎসব কাশ্মীরের সৌন্দর্যকে আরও জীবন্ত করে তোলে, ধর্মীয় ভক্তি, প্রাচীন ইতিহাস, এবং বসন্তের আগমনকে একত্রিত করে এক অপূর্ব দৃশ্যরূপ সৃষ্টি করে।







সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















