পাহাড়ি অঞ্চলে পাখিদের ঋতুভিত্তিক চলাচল শুধু তাপমাত্রা অনুসরণের কারণে নয়, বরং খাদ্য এবং অন্যান্য প্রজাতির সঙ্গে প্রতিযোগিতা এড়ানোর জন্য ঘটে। নতুন এক গবেষণা এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে। এই গবেষণার ফলাফল পরিবেশ ও প্রজাতি সংরক্ষণ নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পাহাড়ে ঋতুভিত্তিক চলাচন
পাখির অভিবাসন মানে হলো শীতকালে এবং গ্রীষ্মকালে দীর্ঘ দূরত্বে চলাচন করা, যেখানে তারা খাদ্য এবং অনুকূল আবহাওয়ার সন্ধান করে। এছাড়া, অনেক পাখি ছোট দূরত্বের জন্যও পাহাড়ের উচ্চতায় ওঠানামা করে। আগের প্রচলিত মত ছিল, পাখিরা ঠাণ্ডা অঞ্চলের দিকে চলে আসে। কিন্তু নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, এই তত্ত্বটি সবসময় প্রযোজ্য নয়।

তাপমাত্রার বিপরীতে চলাচন
যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাইওয়ানের গবেষকরা ৩৪টি পাহাড়ি অঞ্চলের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন এবং দেখেছেন যে পাখির ঋতুভিত্তিক উচ্চতার পরিবর্তন এমনকি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলেও ঘটে, যেখানে তাপমাত্রার পার্থক্য খুব কম। তথ্য অনুযায়ী, ৩৬.৫% পাখি যদি একই স্থানে থাকত, তারা তাপমাত্রার উপযুক্ত অঞ্চলে থাকত। অনেক পাখি শীতকালে উর্ধ্বমুখী যায়, যা তাপমাত্রার বিপরীতমুখী।
শক্তি ব্যবস্থাপনা মূল চালিকা শক্তি
গবেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, পাহাড়ে ঋতুভিত্তিক চলাচন মূলত পাখির শক্তি ব্যয় কমানো এবং খাদ্য সহজলভ্যতা অনুসারে ঘটে। উহা শক্তি ব্যয় সীমিত যা বিভিন্ন কাজ যেমন তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য খোঁজা, সন্তান পালন ইত্যাদিতে ব্যয় হয়। ৩৪টি পাহাড়ি অঞ্চলের ২,৬৮৪ প্রজাতির ১০,৯৯৮টি পাখি জনসংখ্যার তথ্য নিয়ে গবেষকরা পরীক্ষা করেছেন।
গবেষকরা ‘সিজনালি এক্সপ্লিসিট ডিসট্রিবিউশন সিমুলেটর’ (SEDS) মডেল ব্যবহার করে বাস্তব তথ্যের সঙ্গে শক্তি ব্যবস্থাপনার ভিত্তিতে পাখির সম্ভাব্য অবস্থান তুলনা করেছেন। মডেলটি দেখিয়েছে যে, উর্বর উদ্ভিদসমৃদ্ধ পরিবেশে পাখিরা খাদ্য এবং শক্তি ব্যবস্থাপনার জন্য কিভাবে অবস্থান পরিবর্তন করে।
গ্লোবাল প্যাটার্ন প্রকাশ
মডেল অনুযায়ী, প্রথমে পাহাড়ে পাখি জনসংখ্যা সর্বাধিক সম্পদযুক্ত অঞ্চলে অবস্থান করে। তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলে খাদ্যের জন্য প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়, ফলে পাখিরা অন্যত্র চলে আসে এবং ঋতুভিত্তিকভাবে অভিবাসন শুরু করে। এই সিমুলেশন বাস্তব পৃথিবীর তথ্যের সঙ্গে তুলনা করা হলে ৩৪টির মধ্যে ২৮টি পাহাড়ের অবস্থান প্যাটার্ন মিলে গেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের প্রাপ্যতা এবং প্রজাতির মধ্যে প্রতিযোগিতা পাখির ঋতুভিত্তিক চলাচনের মূল কারণ। হিমালয়ের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে শীতকালে নিম্ন উচ্চতায় বেশি কীটপতঙ্গ এবং গ্রীষ্মকালে উচ্চতায় বেশি, যা পাখির চলাচনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ভবিষ্যতের প্রভাব
মডেল ব্যবহার করে ২১০০ সালের worst-case জলবায়ু পরিস্থিতি অনুযায়ী দেখা গেছে, পাখির চলাচনের মূল প্যাটার্ন বড় পরিমাণে অপরিবর্তিত থাকবে। তবে শক্তি ব্যবস্থাপনার কারণে কিছুটা উর্ধ্বমুখী অভিবাসন ঘটবে, যা গড়ে প্রায় ১২৯ মিটার উচ্চতায় হবে।
গবেষকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে এই মডেল নির্দিষ্ট প্রজাতির ক্ষেত্রে আরও প্রয়োগ করা যাবে, যেমন ফল বা কীটের ঘনত্ব নির্ণয় করে দেখানো যাবে কোন পাখি গোষ্ঠী মানবীয় পরিবর্তন বা ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে।
শেষ কথায়, গবেষকরা উল্লেখ করেছেন যে পাহাড়ে পাখির বিতরণে খাদ্য ও সম্পদ তাপমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি প্রভাব ফেলে। মানুষের কার্যক্রম হোক বা জলবায়ু পরিবর্তন, সম্পদের বিতরণ কিভাবে পাখিকে প্রভাবিত করবে তা বোঝা প্রয়োজন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















