ফিটনেস উন্নয়নের জন্য নিজের শক্তি, সহনশীলতা এবং সহগতি পরিমাপ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমাদের বর্তমান সক্ষমতার একটি স্পষ্ট চিত্র দেয়, যার মাধ্যমে আমরা বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ করতে এবং উন্নতির গতিপথ পর্যবেক্ষণ করতে পারি। তবে, এই মূল্যায়নের জন্য কোনও ব্যয়বহুল সরঞ্জাম বা বিশেষ ল্যাবের প্রয়োজন নেই। ঘরে বা জিমে সহজেই কিছু পরীক্ষার মাধ্যমে নিজের শারীরিক সক্ষমতা যাচাই করা যায়।
শক্তি ও সহনশীলতা যাচাই
প্রেস-আপ পরীক্ষার মাধ্যমে বাহু এবং বুকের শক্তি মাপা যায়। মাটিতে হাত ও পা রাখে উপরের অবস্থান থেকে শুরু করে, বাহু ৯০ ডিগ্রিতে বাঁকানো পর্যন্ত শরীর নামানো হয় এবং পুনরায় উপরের অবস্থানে ফিরে আসা হয়। এক মিনিটে সম্পন্ন হওয়া প্রেস-আপের সংখ্যা নথিভুক্ত করা হয়। সিট-আপ পরীক্ষায় পেট ও পিঠের শক্তি পরিমাপ করা হয়। মাটিতে বসে হাঁটু ৯০ ডিগ্রিতে বাঁকানো অবস্থায়, বাহু বুকের ওপর রাখার পর শারীরিক গতিবিধি সম্পন্ন করতে হয়। এক মিনিটে সম্পন্ন হওয়া সিট-আপের সংখ্যা রেকর্ড করা হয়।
সর্বোচ্চ শক্তি নির্ণয়
বেঞ্চ প্রেস, স্কোয়াট ও ডেডলিফট পরীক্ষার মাধ্যমে সর্বোচ্চ শক্তি নির্ণয় করা যায়। ওজনের লাইট লোড দিয়ে গরম হওয়ার পর ধীরে ধীরে ভার বৃদ্ধি করে সঠিক প্রক্রিয়ায় উত্তোলন করা হয়। যদি সঠিকভাবে ভার উত্তোলন করা সম্ভব না হয়, তবে সামান্য কম ভার ব্যবহার করে পুনরায় চেষ্টা করা হয়। প্রতিটি সঠিক উত্তোলনের পর বিশ্রাম নেওয়া এবং পরবর্তী লেভেলে যাওয়া জরুরি।
শ্বাসপ্রশ্বাস ও ধৈর্য যাচাই
কুপার রান এবং মাল্টি-স্টেজ ফিটনেস টেস্টের মাধ্যমে কার্ডিওভাসকুলার সক্ষমতা এবং ধৈর্য নির্ণয় করা যায়। ১২ মিনিট ধরে ট্রেডমিলে বা উন্মুক্ত স্থানে দৌড়ে বা হাঁটলে মোট দূরত্ব রেকর্ড করা হয়। মাল্টি-স্টেজ বা ব্লিপ টেস্টে দুইটি ২০ মিটার দূরের কন ব্যবহৃত হয়। নির্দিষ্ট সাউন্ড সিগনালে দৌড় শুরু ও শেষ করতে হয় এবং শেষ পর্যায় পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়।

ক্ষমতা, নমনীয়তা ও চমক
ভার্চুয়াল জাম্প বা সার্জেন্ট টেস্টে নিম্নাঙ্গের শক্তি পরিমাপ করা হয়। দেওয়ালের পাশে দাঁড়িয়ে হাত দিয়ে উচ্চতম স্পর্শ করার পর, উভয় হাতের সাহায্যে লাফ দিয়ে দেওয়ালের সর্বোচ্চ পয়েন্টে স্পর্শ করতে হবে। সিট অ্যান্ড রিচ পরীক্ষায় পায়ের নখ পর্যন্ত পৌঁছানোর ক্ষমতা পরিমাপ করা হয়। শাটল রান এবং এক পায়ে দাঁড়ানোর মাধ্যমে দ্রুততা, দিক পরিবর্তন এবং ভারসাম্য যাচাই করা যায়।
নিয়মিত এই সহজ পরীক্ষাগুলো মাসে একবার করে করলে শরীরের উন্নতি স্পষ্টভাবে দেখা যায় এবং ব্যক্তিগত ফিটনেস লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















