০৬:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ চালালে বেসামরিক স্থাপনায় হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি: সময়সীমা ঘনিয়ে আসছে, কূটনৈতিক সমাধানের কোনো অগ্রগতি নেই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর ইসরায়েল-ইরানের নতুন হামলা, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের হুমকি কোচেলার সময়সূচি প্রকাশ, উৎসবের কাউন্টডাউন এখন সত্যিকারের পরিকল্পনার লড়াই এল নিনোর ছায়ায় ভারতের মৌসুমি বৃষ্টির পূর্বাভাস কম, দুশ্চিন্তায় কৃষি ও বাজার ইরান সংকট নতুন মোড়ে, সৌদির সড়কপথে চাপ আর তেলের বাজারে স্নায়ুচাপ জ্বালানি সংকটের ঝড়: যুদ্ধের প্রভাবে বদলে যাচ্ছে বিশ্বের শক্তির ভবিষ্যৎ আসিসিতে সেন্ট ফ্রান্সিস: সন্তের পবিত্রতা ঘোষণা ও আধুনিক ধর্মীয় প্রবণতা জেনারেশন জেডের নতুন শখ ,বুমারের সময়ের শখে মগ্ন নতুন প্রজন্ম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বনাম মানব সৃজনশীলতা: “শাই গার্ল” কাণ্ডের শিক্ষা

কার্বনমুক্ত ইস্পাতের পথে নতুন দিগন্ত, তিন প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবনে বদলে যেতে পারে বিশ্বশিল্প

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের চাপ ক্রমশ তীব্রতর হওয়ায় ভারী শিল্পখাত, বিশেষ করে ইস্পাত উৎপাদন, এখন গভীরভাবে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। কারণ, মানবসৃষ্ট মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের প্রায় ৮ শতাংশই আসে ইস্পাত শিল্প থেকে, যা বেসামরিক বিমান চলাচলের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি। ফলে এই খাতকে পরিবেশবান্ধব করার উদ্যোগ এখন শুধু প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ নয়, বরং বৈশ্বিক প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রচলিত ইস্পাত উৎপাদনের জটিলতা ও দূষণ
বর্তমান ইস্পাত উৎপাদন পদ্ধতিতে লৌহ আকরিক থেকে অক্সিজেন আলাদা করতে কার্বন মনোক্সাইড বা হাইড্রোজেনভিত্তিক রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়, যা জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ। শুধু তাই নয়, উৎপাদিত লোহায় সিলিকা, অ্যালুমিনা ও ফসফরাসের মতো অমিশ্রণ থেকে যায়, যা দূর করতে অতিরিক্ত ধাপ ও শক্তি ব্যয় প্রয়োজন হয়। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ, ব্যয়বহুল এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

এই প্রেক্ষাপটে বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তারা এমন একটি পদ্ধতি খুঁজছেন, যেখানে কম ধাপে, কম দূষণে এবং কম খরচে ইস্পাত উৎপাদন সম্ভব হবে।

The green steel firms looking to revive US steel making

বিদ্যুৎনির্ভর সরাসরি লোহা উৎপাদনের উদ্ভাবন
এই লক্ষ্যেই একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎভিত্তিক এক নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। তাদের পদ্ধতিতে লৌহ আকরিককে প্রথমে সালফিউরিক অ্যাসিডে দ্রবীভূত করা হয়, যাতে অমিশ্রণগুলো আলাদা হয়ে যায়। এরপর বিদ্যুৎ প্রবাহ প্রয়োগের মাধ্যমে ইলেক্ট্রোলাইসিস প্রক্রিয়ায় বিশুদ্ধ লোহা ইলেক্ট্রোডের উপর জমা হয়। এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এক ধাপেই উচ্চমানের বিশুদ্ধ লোহা পাওয়া সম্ভব, যা পরবর্তী প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমিয়ে দেয়।

প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে পরীক্ষাগারে সফলতা পেয়েছে এবং এখন শিল্প পর্যায়ে উৎপাদনের দিকে এগোচ্ছে। প্রাথমিকভাবে বছরে প্রায় ৫০০ টন উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও, ভবিষ্যতে মডিউলভিত্তিক কারখানার মাধ্যমে উৎপাদন কয়েক লাখ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই মডিউলভিত্তিক পদ্ধতি প্রাথমিক বিনিয়োগ কমানোর পাশাপাশি দ্রুত সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করবে।

উচ্চ তাপমাত্রার চ্যালেঞ্জে আরেক উদ্যোগ
অন্য একটি প্রতিষ্ঠানও বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ইস্পাত উৎপাদনের পথে এগিয়েছে, তবে তাদের পদ্ধতিতে অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা প্রয়োজন হয়। তারা গলিত ধাতব অক্সাইডের মধ্যে লৌহ আকরিক দ্রবীভূত করে বিদ্যুৎ প্রয়োগের মাধ্যমে বিশুদ্ধ লোহা আলাদা করে। এতে লোহা তরল অবস্থায় নিচে জমা হয় এবং অমিশ্রণ উপরের স্তরে থেকে যায়।

যদিও এই প্রযুক্তি পরীক্ষাগারে সফল হয়েছিল, বাস্তব প্রয়োগে প্রতিষ্ঠানটি বড় ধাক্কা খেয়েছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির ত্রুটির কারণে তাদের একটি বড় প্রকল্প স্থগিত হয়ে যায়। ফলে তাদের উৎপাদন পরিকল্পনা আপাতত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে। এই ঘটনা নতুন প্রযুক্তির বাণিজ্যিক বাস্তবায়নের ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

Germany opens world's first hydrogen-powered steel plant | David J.  Patterson posted on the topic | LinkedIn

রাসায়নিক পদ্ধতিতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির উত্থান
তৃতীয় একটি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ভিন্ন কৌশল নিয়ে এগিয়েছে। তারা মিথেন গ্যাসকে উত্তপ্ত করে ভেঙে হাইড্রোজেন ও কার্বনে পরিণত করে, যা পরে লৌহ আকরিকের সঙ্গে বিক্রিয়া ঘটিয়ে লোহা উৎপাদন করে। এই প্রক্রিয়ায় একদিকে অক্সিজেন অপসারণ সহজ হয়, অন্যদিকে উৎপাদিত লোহায় কার্বনের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

এই পদ্ধতিতে সিলিকা, অ্যালুমিনা ও ফসফরাসের মতো অমিশ্রণ রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সহজেই পৃথক হয়ে যায়। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি পরীক্ষামূলকভাবে বছরে কয়েকশ টন উৎপাদন করছে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে তা ১০ হাজার টনে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে। পরবর্তী ধাপে তারা বৃহৎ আকারের উৎপাদন ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা করছে, যা বছরে কয়েক লাখ টন উৎপাদনে সক্ষম হবে।

Hydrogen Could Clean Up Iron, Steel, And Chemicals – If It's Truly Clean

প্রতিযোগিতা ও সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত
বর্তমানে বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ-উৎপাদিত হাইড্রোজেনের ওপর নির্ভর করে ইস্পাত উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে। তবে নতুন এই উদ্যোগগুলো সরাসরি বিদ্যুৎ ব্যবহার বা তুলনামূলক সস্তা উপায়ে হাইড্রোজেন উৎপাদনের মাধ্যমে খরচ কমানোর সম্ভাবনা দেখাচ্ছে।

তবে প্রযুক্তিগত সাফল্য পেলেও বাণিজ্যিক উৎপাদনে পৌঁছানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক স্টার্টআপ এই পর্যায়ে এসে ব্যর্থ হয়, যা শিল্পে “মৃত্যুর উপত্যকা” নামে পরিচিত। তবুও বিদ্যমান অগ্রগতি ইঙ্গিত দেয় যে, ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব ইস্পাত উৎপাদন আর কল্পনা নয়, বরং বাস্তবতার খুব কাছাকাছি।

পরিশেষে বলা যায়, বৈদ্যুতিক গাড়ি বা জ্বালানি সাশ্রয়ের মতো আলোচিত বিষয়গুলোর পাশাপাশি ইস্পাত শিল্পের এই পরিবর্তনও জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যদি এই প্রযুক্তিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা বিশ্ব অর্থনীতি ও পরিবেশ—উভয়ের জন্যই এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ চালালে বেসামরিক স্থাপনায় হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের

কার্বনমুক্ত ইস্পাতের পথে নতুন দিগন্ত, তিন প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবনে বদলে যেতে পারে বিশ্বশিল্প

০৪:১৫:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের চাপ ক্রমশ তীব্রতর হওয়ায় ভারী শিল্পখাত, বিশেষ করে ইস্পাত উৎপাদন, এখন গভীরভাবে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। কারণ, মানবসৃষ্ট মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের প্রায় ৮ শতাংশই আসে ইস্পাত শিল্প থেকে, যা বেসামরিক বিমান চলাচলের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি। ফলে এই খাতকে পরিবেশবান্ধব করার উদ্যোগ এখন শুধু প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ নয়, বরং বৈশ্বিক প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রচলিত ইস্পাত উৎপাদনের জটিলতা ও দূষণ
বর্তমান ইস্পাত উৎপাদন পদ্ধতিতে লৌহ আকরিক থেকে অক্সিজেন আলাদা করতে কার্বন মনোক্সাইড বা হাইড্রোজেনভিত্তিক রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়, যা জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ। শুধু তাই নয়, উৎপাদিত লোহায় সিলিকা, অ্যালুমিনা ও ফসফরাসের মতো অমিশ্রণ থেকে যায়, যা দূর করতে অতিরিক্ত ধাপ ও শক্তি ব্যয় প্রয়োজন হয়। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ, ব্যয়বহুল এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

এই প্রেক্ষাপটে বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তারা এমন একটি পদ্ধতি খুঁজছেন, যেখানে কম ধাপে, কম দূষণে এবং কম খরচে ইস্পাত উৎপাদন সম্ভব হবে।

The green steel firms looking to revive US steel making

বিদ্যুৎনির্ভর সরাসরি লোহা উৎপাদনের উদ্ভাবন
এই লক্ষ্যেই একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎভিত্তিক এক নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। তাদের পদ্ধতিতে লৌহ আকরিককে প্রথমে সালফিউরিক অ্যাসিডে দ্রবীভূত করা হয়, যাতে অমিশ্রণগুলো আলাদা হয়ে যায়। এরপর বিদ্যুৎ প্রবাহ প্রয়োগের মাধ্যমে ইলেক্ট্রোলাইসিস প্রক্রিয়ায় বিশুদ্ধ লোহা ইলেক্ট্রোডের উপর জমা হয়। এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এক ধাপেই উচ্চমানের বিশুদ্ধ লোহা পাওয়া সম্ভব, যা পরবর্তী প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমিয়ে দেয়।

প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে পরীক্ষাগারে সফলতা পেয়েছে এবং এখন শিল্প পর্যায়ে উৎপাদনের দিকে এগোচ্ছে। প্রাথমিকভাবে বছরে প্রায় ৫০০ টন উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও, ভবিষ্যতে মডিউলভিত্তিক কারখানার মাধ্যমে উৎপাদন কয়েক লাখ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই মডিউলভিত্তিক পদ্ধতি প্রাথমিক বিনিয়োগ কমানোর পাশাপাশি দ্রুত সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করবে।

উচ্চ তাপমাত্রার চ্যালেঞ্জে আরেক উদ্যোগ
অন্য একটি প্রতিষ্ঠানও বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ইস্পাত উৎপাদনের পথে এগিয়েছে, তবে তাদের পদ্ধতিতে অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা প্রয়োজন হয়। তারা গলিত ধাতব অক্সাইডের মধ্যে লৌহ আকরিক দ্রবীভূত করে বিদ্যুৎ প্রয়োগের মাধ্যমে বিশুদ্ধ লোহা আলাদা করে। এতে লোহা তরল অবস্থায় নিচে জমা হয় এবং অমিশ্রণ উপরের স্তরে থেকে যায়।

যদিও এই প্রযুক্তি পরীক্ষাগারে সফল হয়েছিল, বাস্তব প্রয়োগে প্রতিষ্ঠানটি বড় ধাক্কা খেয়েছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির ত্রুটির কারণে তাদের একটি বড় প্রকল্প স্থগিত হয়ে যায়। ফলে তাদের উৎপাদন পরিকল্পনা আপাতত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে। এই ঘটনা নতুন প্রযুক্তির বাণিজ্যিক বাস্তবায়নের ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

Germany opens world's first hydrogen-powered steel plant | David J.  Patterson posted on the topic | LinkedIn

রাসায়নিক পদ্ধতিতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির উত্থান
তৃতীয় একটি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ভিন্ন কৌশল নিয়ে এগিয়েছে। তারা মিথেন গ্যাসকে উত্তপ্ত করে ভেঙে হাইড্রোজেন ও কার্বনে পরিণত করে, যা পরে লৌহ আকরিকের সঙ্গে বিক্রিয়া ঘটিয়ে লোহা উৎপাদন করে। এই প্রক্রিয়ায় একদিকে অক্সিজেন অপসারণ সহজ হয়, অন্যদিকে উৎপাদিত লোহায় কার্বনের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

এই পদ্ধতিতে সিলিকা, অ্যালুমিনা ও ফসফরাসের মতো অমিশ্রণ রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সহজেই পৃথক হয়ে যায়। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি পরীক্ষামূলকভাবে বছরে কয়েকশ টন উৎপাদন করছে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে তা ১০ হাজার টনে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে। পরবর্তী ধাপে তারা বৃহৎ আকারের উৎপাদন ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা করছে, যা বছরে কয়েক লাখ টন উৎপাদনে সক্ষম হবে।

Hydrogen Could Clean Up Iron, Steel, And Chemicals – If It's Truly Clean

প্রতিযোগিতা ও সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত
বর্তমানে বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ-উৎপাদিত হাইড্রোজেনের ওপর নির্ভর করে ইস্পাত উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে। তবে নতুন এই উদ্যোগগুলো সরাসরি বিদ্যুৎ ব্যবহার বা তুলনামূলক সস্তা উপায়ে হাইড্রোজেন উৎপাদনের মাধ্যমে খরচ কমানোর সম্ভাবনা দেখাচ্ছে।

তবে প্রযুক্তিগত সাফল্য পেলেও বাণিজ্যিক উৎপাদনে পৌঁছানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক স্টার্টআপ এই পর্যায়ে এসে ব্যর্থ হয়, যা শিল্পে “মৃত্যুর উপত্যকা” নামে পরিচিত। তবুও বিদ্যমান অগ্রগতি ইঙ্গিত দেয় যে, ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব ইস্পাত উৎপাদন আর কল্পনা নয়, বরং বাস্তবতার খুব কাছাকাছি।

পরিশেষে বলা যায়, বৈদ্যুতিক গাড়ি বা জ্বালানি সাশ্রয়ের মতো আলোচিত বিষয়গুলোর পাশাপাশি ইস্পাত শিল্পের এই পরিবর্তনও জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যদি এই প্রযুক্তিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা বিশ্ব অর্থনীতি ও পরিবেশ—উভয়ের জন্যই এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।