০৮:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬
বরিশালে হামের সংক্রমণ অব্যাহত, সিটি করপোরেশন চিহ্নিত হটস্পট হিসেবে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ছড়ানো হামের প্রকোপে দেশজুড়ে শিশুমৃত্যু অব্যাহত চট্টগ্রামে কর্ণফুলী এলাকায় বিশাল মাদকের চালান জব্দ, বাস আটক কেরানীগঞ্জে গ্যাস লাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যু সাভারের বিরুলিয়ায় ৬৫ বছর বয়সী বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রবৃদ্ধি নেমে যেতে পারে ৩.৯ শতাংশে , চাপে বিনিয়োগ ও মূল্যস্ফীতি: বাংলাদেশের অর্থনীতিকে কী বার্তা দিল বিশ্বব্যাংক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি: কী শর্তে এলো সমঝোতা, সামনে কী হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি: কী জানা জরুরি উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন হামলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি চলাকালে অঞ্চলে থাকবে মার্কিন বাহিনী: হেগসেথ

ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শুরু, কিন্তু অনিশ্চয়তা কাটেনি

বিরতির ভেতরেও টানাপোড়েন

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ৮ এপ্রিল একটি সাময়িক দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে প্রবেশ করেছে। কয়েক দিনের দ্রুত উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি হুমকি এবং আঞ্চলিক অস্থিরতার পর এই বিরতি এসেছে। ঘোষণাটি তাৎক্ষণিকভাবে কূটনৈতিক চাপ কিছুটা কমিয়েছে, কিন্তু মাঠের বাস্তবতা বদলে যায়নি। নতুন হামলার খবর, পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং সীমান্ত ঘিরে উদ্বেগ দেখিয়ে দিয়েছে—এটি এমন একটি বিরতি, যা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখনো স্থিতিশীল নয়।

এই যুদ্ধবিরতির গুরুত্ব কেবল তিনটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উপসাগরীয় অঞ্চল, ইউরোপ ও এশিয়ার সরকারগুলো গত কয়েক দিনে তেল, জ্বালানি পরিবহন, জাহাজ চলাচল এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল। সেই জায়গা থেকে দুই সপ্তাহের বিরতি কূটনীতির জন্য একটি ছোট জানালা খুলে দিয়েছে। প্রশ্ন হলো, এই সময় কি আলোচনার দিকে যাবে, নাকি কেবল আরও বড় সংঘাতের আগে সাময়িক শ্বাস নেওয়ার পর্যায় হিসেবেই থেকে যাবে।

অস্পষ্টতার বড় জায়গা হলো চুক্তির শর্ত। ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর নিজের প্রভাব পুরোপুরি ছাড়তে রাজি নয়। একই সঙ্গে তাদের ইউরেনিয়াম মজুত, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও পরিষ্কার ছবি মেলেনি। ওয়াশিংটনের ভাষ্য হলো, এই যুদ্ধবিরতি বড় ধরনের আরও আঘাত থেকে সরে আসার সুযোগ। ইসরায়েলের অবস্থানও এমন যে, যুদ্ধবিরতি মানেই তাদের নিরাপত্তা-লক্ষ্য শেষ হয়ে গেছে—এমন নয়।

The US-Israel ceasefire with Iran presses pause on a costly war, but can  peace last?

এখানেই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। সব পক্ষই নিজেদের অবস্থানকে সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে পারে, কিন্তু যদি সবাই যুদ্ধবিরতির অর্থ আলাদা ভাবে ব্যাখ্যা করে, তাহলে বিরতিটাই পরবর্তী সংঘাতের প্রস্তুতি মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে। সীমিত হামলা, সীমান্তে সংঘর্ষ বা কোনো ভুল বার্তা খুব দ্রুত নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। এমন নাজুক মুহূর্তে সামরিক ঘটনার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতীকও বড় হয়ে ওঠে।

পরের দুই সপ্তাহ কী দেখাবে

এই বিরতির ভবিষ্যৎ মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। প্রথমত, বিভিন্ন ফ্রন্টে বাস্তবেই কি সহিংসতা ধারাবাহিকভাবে কমে? দ্বিতীয়ত, জাহাজ চলাচল, পারমাণবিক ইস্যু ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে কি স্লোগানের বাইরে গিয়ে নির্দিষ্ট আলোচনা শুরু হয়? তৃতীয়ত, মাঝখানে আরেকটি হামলা বা উত্তেজনা দেখা দিলে মধ্যস্থতাকারীরা কি প্রক্রিয়াটি টিকিয়ে রাখতে পারে? এই তিনটির একটিও ব্যর্থ হলে যুদ্ধবিরতি কাগজে থাকবে, বাস্তবে নয়।

তবু এই বিরতির মূল্য আছে, কারণ বিকল্প পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ ছিল। বাজারে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি-ধাক্কার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সাধারণ মানুষ আরও বড় অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছিল। মিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রগুলোও হিসাব করছিল—এই সংঘাত কত দূর গড়াতে পারে। সে তুলনায় যুদ্ধবিরতি অন্তত কিছু সময় দিয়েছে, যাতে সরকার, বাণিজ্যিক খাত এবং সাধারণ নাগরিক সবাই পরিস্থিতি নতুন করে বিচার করতে পারে।

কিন্তু স্বস্তি আর সমাধান এক জিনিস নয়। যুদ্ধবিরতি অনেক সময় সংঘাতকে থামায়, কিন্তু কারণগুলোকে মুছে দেয় না। যে গভীর বিরোধ, অবিশ্বাস এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই যুদ্ধকে এই পর্যায়ে এনেছে, তা এখনো অমীমাংসিত। উল্টো সব পক্ষের কট্টর অবস্থানধারীরা এখন বলবে—চাপই ফল এনেছে, সমঝোতা নয়। ফলে ৮ এপ্রিলের আসল গল্প শান্তির নয়; বরং এটি এক পরীক্ষা—নাজুক এই বিরতি কি স্থায়ী আলোচনার পথে যাবে, নাকি অঞ্চলটি কেবল আরেকটি নতুন কাউন্টডাউনে ঢুকেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে হামের সংক্রমণ অব্যাহত, সিটি করপোরেশন চিহ্নিত হটস্পট হিসেবে

ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শুরু, কিন্তু অনিশ্চয়তা কাটেনি

০৬:২৫:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

বিরতির ভেতরেও টানাপোড়েন

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ৮ এপ্রিল একটি সাময়িক দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে প্রবেশ করেছে। কয়েক দিনের দ্রুত উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি হুমকি এবং আঞ্চলিক অস্থিরতার পর এই বিরতি এসেছে। ঘোষণাটি তাৎক্ষণিকভাবে কূটনৈতিক চাপ কিছুটা কমিয়েছে, কিন্তু মাঠের বাস্তবতা বদলে যায়নি। নতুন হামলার খবর, পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং সীমান্ত ঘিরে উদ্বেগ দেখিয়ে দিয়েছে—এটি এমন একটি বিরতি, যা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখনো স্থিতিশীল নয়।

এই যুদ্ধবিরতির গুরুত্ব কেবল তিনটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উপসাগরীয় অঞ্চল, ইউরোপ ও এশিয়ার সরকারগুলো গত কয়েক দিনে তেল, জ্বালানি পরিবহন, জাহাজ চলাচল এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল। সেই জায়গা থেকে দুই সপ্তাহের বিরতি কূটনীতির জন্য একটি ছোট জানালা খুলে দিয়েছে। প্রশ্ন হলো, এই সময় কি আলোচনার দিকে যাবে, নাকি কেবল আরও বড় সংঘাতের আগে সাময়িক শ্বাস নেওয়ার পর্যায় হিসেবেই থেকে যাবে।

অস্পষ্টতার বড় জায়গা হলো চুক্তির শর্ত। ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর নিজের প্রভাব পুরোপুরি ছাড়তে রাজি নয়। একই সঙ্গে তাদের ইউরেনিয়াম মজুত, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও পরিষ্কার ছবি মেলেনি। ওয়াশিংটনের ভাষ্য হলো, এই যুদ্ধবিরতি বড় ধরনের আরও আঘাত থেকে সরে আসার সুযোগ। ইসরায়েলের অবস্থানও এমন যে, যুদ্ধবিরতি মানেই তাদের নিরাপত্তা-লক্ষ্য শেষ হয়ে গেছে—এমন নয়।

The US-Israel ceasefire with Iran presses pause on a costly war, but can  peace last?

এখানেই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। সব পক্ষই নিজেদের অবস্থানকে সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে পারে, কিন্তু যদি সবাই যুদ্ধবিরতির অর্থ আলাদা ভাবে ব্যাখ্যা করে, তাহলে বিরতিটাই পরবর্তী সংঘাতের প্রস্তুতি মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে। সীমিত হামলা, সীমান্তে সংঘর্ষ বা কোনো ভুল বার্তা খুব দ্রুত নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। এমন নাজুক মুহূর্তে সামরিক ঘটনার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতীকও বড় হয়ে ওঠে।

পরের দুই সপ্তাহ কী দেখাবে

এই বিরতির ভবিষ্যৎ মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। প্রথমত, বিভিন্ন ফ্রন্টে বাস্তবেই কি সহিংসতা ধারাবাহিকভাবে কমে? দ্বিতীয়ত, জাহাজ চলাচল, পারমাণবিক ইস্যু ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে কি স্লোগানের বাইরে গিয়ে নির্দিষ্ট আলোচনা শুরু হয়? তৃতীয়ত, মাঝখানে আরেকটি হামলা বা উত্তেজনা দেখা দিলে মধ্যস্থতাকারীরা কি প্রক্রিয়াটি টিকিয়ে রাখতে পারে? এই তিনটির একটিও ব্যর্থ হলে যুদ্ধবিরতি কাগজে থাকবে, বাস্তবে নয়।

তবু এই বিরতির মূল্য আছে, কারণ বিকল্প পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ ছিল। বাজারে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি-ধাক্কার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সাধারণ মানুষ আরও বড় অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছিল। মিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রগুলোও হিসাব করছিল—এই সংঘাত কত দূর গড়াতে পারে। সে তুলনায় যুদ্ধবিরতি অন্তত কিছু সময় দিয়েছে, যাতে সরকার, বাণিজ্যিক খাত এবং সাধারণ নাগরিক সবাই পরিস্থিতি নতুন করে বিচার করতে পারে।

কিন্তু স্বস্তি আর সমাধান এক জিনিস নয়। যুদ্ধবিরতি অনেক সময় সংঘাতকে থামায়, কিন্তু কারণগুলোকে মুছে দেয় না। যে গভীর বিরোধ, অবিশ্বাস এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই যুদ্ধকে এই পর্যায়ে এনেছে, তা এখনো অমীমাংসিত। উল্টো সব পক্ষের কট্টর অবস্থানধারীরা এখন বলবে—চাপই ফল এনেছে, সমঝোতা নয়। ফলে ৮ এপ্রিলের আসল গল্প শান্তির নয়; বরং এটি এক পরীক্ষা—নাজুক এই বিরতি কি স্থায়ী আলোচনার পথে যাবে, নাকি অঞ্চলটি কেবল আরেকটি নতুন কাউন্টডাউনে ঢুকেছে।