বাংলাদেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৪৯টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৯ হাজারেরও বেশি সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫৬টিতে।
পরিস্থিতি কতটা গুরুতর
স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) হালিমুর রশিদ জানিয়েছেন, আগের বছরগুলোর তুলনায় এবার আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যু দুটোই বেশি। ঢাকার মহাখালীর সংক্রামক রোগ হাসপাতালে একটানা রোগীর চাপ বাড়ছে। মৃতদের প্রায় ৮২ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মোট আক্রান্তের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি শিশুর বয়স নয় মাসের কম — যে বয়সে এখনও রুটিন টিকা দেওয়ার নিয়ম নেই।
প্রাদুর্ভাবের শুরু হয়েছিল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির থেকে, পরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেটসহ বিভিন্ন বিভাগে।

কে দায়ী, কে জবাব দেবে
প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের সরকার দায় চাপিয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর, যারা ২০২৪-২৫ সময়কালে টিকা কর্মসূচির অর্থায়ন বন্ধ রেখেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২০ সালের পর থেকে দেশে আর কোনো ব্যাপকভিত্তিক হাম-রুবেলা প্রচারাভিযান হয়নি।
জরুরি পদক্ষেপ
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ৫ এপ্রিল থেকে জরুরি হাম-রুবেলা টিকা প্রচারাভিযান শুরু হয়েছে। ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় প্রথম পর্যায়ে ১২ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী ২ কোটি শিশুকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















