মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সংকটের কারণে চীনকে ঘিরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহু প্রতীক্ষিত কৌশলগত আলোচনা আপাতত পিছিয়ে গেছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে, অর্থনৈতিক চাপ ও নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়লেও বেইজিংকে এখনো ইউরোপ সর্বোচ্চ কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে দেখাতে পারছে না।
চীন ইস্যুতে বিশেষ সপ্তাহের পরিকল্পনা
ইউরোপীয় কমিশনের নিরাপত্তাবিষয়ক কলেজের বৈঠক আগামী সোমবার হওয়ার কথা ছিল। সেখানে চীনকে ঘিরে ইউরোপের সামনে থাকা নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কমিশনের ভেতরে এই আয়োজনকে অনেকে “চীন সপ্তাহ” হিসেবেও উল্লেখ করছিলেন।
এই বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল কয়েকটি কারণে। এটি হতো উরসুলা ফন ডার লাইয়েনের দ্বিতীয় মেয়াদে ২৭ কমিশনারকে নিয়ে প্রথম বড় কৌশলগত আলোচনা। একই সঙ্গে নতুন নিরাপত্তাবিষয়ক কলেজ কাঠামোর অধীনে চীন নিয়ে এটিই হতো প্রথম আনুষ্ঠানিক বিতর্ক।

একসঙ্গে চলার কথা ছিল আরও কয়েকটি আলোচনা
এই আলোচনা শুধু একটি বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা ছিল না। সোমবারই ইউরোপীয় কমিশনের শীর্ষ বাণিজ্য কর্মকর্তা সাবিনে ভেইয়ান্ডের সঙ্গে ইউরোপ-সংশ্লিষ্ট চীনা বাণিজ্য উপমন্ত্রী লিং জির একটি ফোনালাপ হওয়ার কথা ছিল।
এ ছাড়া আগামী বৃহস্পতিবার চীনকে ঘিরে ইউরোপের বাণিজ্য কূটনীতিকদের মধ্যেও আরেক দফা আলোচনা হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সূত্রগুলোর মতে, এসব বৈঠক এখনো হওয়ার কথা রয়েছে।
ইউরোপ কী ধরনের অবস্থান নিতে চেয়েছিল
পুরো উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল চীনকে ঘিরে একটি সমন্বিত, সর্বস্তরের নীতিগত প্রতিক্রিয়া তৈরি করা। ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের একাংশের দৃষ্টিতে, চীন এখন শুধু বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং অর্থনীতি, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও কূটনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি এবং বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ।
অর্থাৎ, ইউরোপ চীনকে নিয়ে আলাদা আলাদা খাতে নয়, বরং পুরো রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গিতে নতুন কৌশল ঠিক করতে চাইছিল।

শেষ মুহূর্তে বদলে গেল অগ্রাধিকার
তবে শেষ পর্যন্ত সেই বিতর্কের বিষয় বদলে দেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় কমিশন নিশ্চিত করেছে, চীনের বদলে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে ইরান।
মূল কারণ হলো উপসাগরীয় অঞ্চলের সংকট থেকে সম্ভাব্য জ্বালানি ধাক্কা সামাল দেওয়ার চাপ। ইউরোপ এখন আশঙ্কা করছে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা জ্বালানি সরবরাহ ও বাজারে নতুন ধাক্কা তৈরি করতে পারে। তাই তাৎক্ষণিক ঝুঁকি মোকাবিলায় ইরান ও উপসাগরীয় পরিস্থিতিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
কী বার্তা মিলল এই পরিবর্তনে
এই সিদ্ধান্ত দেখাচ্ছে, ইউরোপ একদিকে চীনকে দীর্ঘমেয়াদি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে, কিন্তু অন্যদিকে তাৎক্ষণিক সংকট দেখা দিলে সেই আলোচনাকে পিছিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে বেইজিংকে নিয়ে কৌশলগত ঐক্য গড়া এখনো ইউরোপের জন্য কঠিন হয়ে আছে।
অর্থনৈতিক চাপ বাড়লেও এবং নিরাপত্তা উদ্বেগ স্পষ্ট হলেও, বাস্তবে ইউরোপ এখনো একসঙ্গে বসে চীন প্রশ্নে দৃঢ় ও সুস্পষ্ট অবস্থান নিতে পারেনি। মধ্যপ্রাচ্যের সংকট আবারও সেই সীমাবদ্ধতাকেই সামনে এনে দিল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















