০৬:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল প্রধান: হরমুজ প্রণালী খোলা হয়নি, নিয়ন্ত্রিত ও শর্তসাপেক্ষ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ধাক্কা: নিরাপত্তার ভাঙন, নতুন বাস্তবতায় উপসাগরীয় দেশগুলো বাগদাদ বিমানবন্দরে ইরানপন্থী মিলিশিয়ার হামলা, যুদ্ধবিরতির মধ্যেই উত্তেজনা ইসলামাবাদ বৈঠকের আগে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অনিশ্চয়তার ছায়া ইরান হরমুজ প্রণালীতে মাইন ম্যাপ প্রকাশ করেছে, স্বাভাবিক শিপিং রুটকে বিপদ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত পাকিস্তানের কূটনৈতিক দৌড়: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনায় ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ জর্জিয়ায় মার্জোরি টেলর গ্রিনের আসনে রিপাবলিকানের জয় কিন্তু ব্যবধান উদ্বেগজনকভাবে কমেছে সৌদির তেল অবকাঠামোয় হামলা, উৎপাদন কমে বিশ্ববাজারে নতুন চাপ ফিফা ইসরায়েলকে জরিমানা করেছে কিন্তু ফিলিস্তিনের সাসপেনশন দাবি প্রত্যাখ্যান সুপার মাইক্রো কম্পিউটারের শেয়ার ২৮ শতাংশ ধস, চীনে চিপ রপ্তানিতে অভিযোগ

চীনকে পাশে সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নজর, ইউরোপীয় কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কে অগ্রাধিকার পেল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সংকটের কারণে চীনকে ঘিরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহু প্রতীক্ষিত কৌশলগত আলোচনা আপাতত পিছিয়ে গেছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে, অর্থনৈতিক চাপ ও নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়লেও বেইজিংকে এখনো ইউরোপ সর্বোচ্চ কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে দেখাতে পারছে না।

চীন ইস্যুতে বিশেষ সপ্তাহের পরিকল্পনা

ইউরোপীয় কমিশনের নিরাপত্তাবিষয়ক কলেজের বৈঠক আগামী সোমবার হওয়ার কথা ছিল। সেখানে চীনকে ঘিরে ইউরোপের সামনে থাকা নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কমিশনের ভেতরে এই আয়োজনকে অনেকে “চীন সপ্তাহ” হিসেবেও উল্লেখ করছিলেন।

এই বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল কয়েকটি কারণে। এটি হতো উরসুলা ফন ডার লাইয়েনের দ্বিতীয় মেয়াদে ২৭ কমিশনারকে নিয়ে প্রথম বড় কৌশলগত আলোচনা। একই সঙ্গে নতুন নিরাপত্তাবিষয়ক কলেজ কাঠামোর অধীনে চীন নিয়ে এটিই হতো প্রথম আনুষ্ঠানিক বিতর্ক।

Stunned, sidelined and disunited': how war in the Middle East paralysed the  EU | World news | The Guardian

একসঙ্গে চলার কথা ছিল আরও কয়েকটি আলোচনা

এই আলোচনা শুধু একটি বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা ছিল না। সোমবারই ইউরোপীয় কমিশনের শীর্ষ বাণিজ্য কর্মকর্তা সাবিনে ভেইয়ান্ডের সঙ্গে ইউরোপ-সংশ্লিষ্ট চীনা বাণিজ্য উপমন্ত্রী লিং জির একটি ফোনালাপ হওয়ার কথা ছিল।

এ ছাড়া আগামী বৃহস্পতিবার চীনকে ঘিরে ইউরোপের বাণিজ্য কূটনীতিকদের মধ্যেও আরেক দফা আলোচনা হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সূত্রগুলোর মতে, এসব বৈঠক এখনো হওয়ার কথা রয়েছে।

ইউরোপ কী ধরনের অবস্থান নিতে চেয়েছিল

পুরো উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল চীনকে ঘিরে একটি সমন্বিত, সর্বস্তরের নীতিগত প্রতিক্রিয়া তৈরি করা। ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের একাংশের দৃষ্টিতে, চীন এখন শুধু বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং অর্থনীতি, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও কূটনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি এবং বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ।

অর্থাৎ, ইউরোপ চীনকে নিয়ে আলাদা আলাদা খাতে নয়, বরং পুরো রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গিতে নতুন কৌশল ঠিক করতে চাইছিল।

EU press for more balanced relationship at scaled-back EU-China summit in  Beijing | Euronews

শেষ মুহূর্তে বদলে গেল অগ্রাধিকার

তবে শেষ পর্যন্ত সেই বিতর্কের বিষয় বদলে দেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় কমিশন নিশ্চিত করেছে, চীনের বদলে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে ইরান।

মূল কারণ হলো উপসাগরীয় অঞ্চলের সংকট থেকে সম্ভাব্য জ্বালানি ধাক্কা সামাল দেওয়ার চাপ। ইউরোপ এখন আশঙ্কা করছে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা জ্বালানি সরবরাহ ও বাজারে নতুন ধাক্কা তৈরি করতে পারে। তাই তাৎক্ষণিক ঝুঁকি মোকাবিলায় ইরান ও উপসাগরীয় পরিস্থিতিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

কী বার্তা মিলল এই পরিবর্তনে

এই সিদ্ধান্ত দেখাচ্ছে, ইউরোপ একদিকে চীনকে দীর্ঘমেয়াদি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে, কিন্তু অন্যদিকে তাৎক্ষণিক সংকট দেখা দিলে সেই আলোচনাকে পিছিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে বেইজিংকে নিয়ে কৌশলগত ঐক্য গড়া এখনো ইউরোপের জন্য কঠিন হয়ে আছে।

অর্থনৈতিক চাপ বাড়লেও এবং নিরাপত্তা উদ্বেগ স্পষ্ট হলেও, বাস্তবে ইউরোপ এখনো একসঙ্গে বসে চীন প্রশ্নে দৃঢ় ও সুস্পষ্ট অবস্থান নিতে পারেনি। মধ্যপ্রাচ্যের সংকট আবারও সেই সীমাবদ্ধতাকেই সামনে এনে দিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল প্রধান: হরমুজ প্রণালী খোলা হয়নি, নিয়ন্ত্রিত ও শর্তসাপেক্ষ

চীনকে পাশে সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নজর, ইউরোপীয় কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কে অগ্রাধিকার পেল ইরান

০৪:২৪:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সংকটের কারণে চীনকে ঘিরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহু প্রতীক্ষিত কৌশলগত আলোচনা আপাতত পিছিয়ে গেছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে, অর্থনৈতিক চাপ ও নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়লেও বেইজিংকে এখনো ইউরোপ সর্বোচ্চ কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে দেখাতে পারছে না।

চীন ইস্যুতে বিশেষ সপ্তাহের পরিকল্পনা

ইউরোপীয় কমিশনের নিরাপত্তাবিষয়ক কলেজের বৈঠক আগামী সোমবার হওয়ার কথা ছিল। সেখানে চীনকে ঘিরে ইউরোপের সামনে থাকা নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কমিশনের ভেতরে এই আয়োজনকে অনেকে “চীন সপ্তাহ” হিসেবেও উল্লেখ করছিলেন।

এই বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল কয়েকটি কারণে। এটি হতো উরসুলা ফন ডার লাইয়েনের দ্বিতীয় মেয়াদে ২৭ কমিশনারকে নিয়ে প্রথম বড় কৌশলগত আলোচনা। একই সঙ্গে নতুন নিরাপত্তাবিষয়ক কলেজ কাঠামোর অধীনে চীন নিয়ে এটিই হতো প্রথম আনুষ্ঠানিক বিতর্ক।

Stunned, sidelined and disunited': how war in the Middle East paralysed the  EU | World news | The Guardian

একসঙ্গে চলার কথা ছিল আরও কয়েকটি আলোচনা

এই আলোচনা শুধু একটি বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা ছিল না। সোমবারই ইউরোপীয় কমিশনের শীর্ষ বাণিজ্য কর্মকর্তা সাবিনে ভেইয়ান্ডের সঙ্গে ইউরোপ-সংশ্লিষ্ট চীনা বাণিজ্য উপমন্ত্রী লিং জির একটি ফোনালাপ হওয়ার কথা ছিল।

এ ছাড়া আগামী বৃহস্পতিবার চীনকে ঘিরে ইউরোপের বাণিজ্য কূটনীতিকদের মধ্যেও আরেক দফা আলোচনা হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সূত্রগুলোর মতে, এসব বৈঠক এখনো হওয়ার কথা রয়েছে।

ইউরোপ কী ধরনের অবস্থান নিতে চেয়েছিল

পুরো উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল চীনকে ঘিরে একটি সমন্বিত, সর্বস্তরের নীতিগত প্রতিক্রিয়া তৈরি করা। ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের একাংশের দৃষ্টিতে, চীন এখন শুধু বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং অর্থনীতি, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও কূটনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি এবং বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ।

অর্থাৎ, ইউরোপ চীনকে নিয়ে আলাদা আলাদা খাতে নয়, বরং পুরো রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গিতে নতুন কৌশল ঠিক করতে চাইছিল।

EU press for more balanced relationship at scaled-back EU-China summit in  Beijing | Euronews

শেষ মুহূর্তে বদলে গেল অগ্রাধিকার

তবে শেষ পর্যন্ত সেই বিতর্কের বিষয় বদলে দেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় কমিশন নিশ্চিত করেছে, চীনের বদলে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে ইরান।

মূল কারণ হলো উপসাগরীয় অঞ্চলের সংকট থেকে সম্ভাব্য জ্বালানি ধাক্কা সামাল দেওয়ার চাপ। ইউরোপ এখন আশঙ্কা করছে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা জ্বালানি সরবরাহ ও বাজারে নতুন ধাক্কা তৈরি করতে পারে। তাই তাৎক্ষণিক ঝুঁকি মোকাবিলায় ইরান ও উপসাগরীয় পরিস্থিতিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

কী বার্তা মিলল এই পরিবর্তনে

এই সিদ্ধান্ত দেখাচ্ছে, ইউরোপ একদিকে চীনকে দীর্ঘমেয়াদি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে, কিন্তু অন্যদিকে তাৎক্ষণিক সংকট দেখা দিলে সেই আলোচনাকে পিছিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে বেইজিংকে নিয়ে কৌশলগত ঐক্য গড়া এখনো ইউরোপের জন্য কঠিন হয়ে আছে।

অর্থনৈতিক চাপ বাড়লেও এবং নিরাপত্তা উদ্বেগ স্পষ্ট হলেও, বাস্তবে ইউরোপ এখনো একসঙ্গে বসে চীন প্রশ্নে দৃঢ় ও সুস্পষ্ট অবস্থান নিতে পারেনি। মধ্যপ্রাচ্যের সংকট আবারও সেই সীমাবদ্ধতাকেই সামনে এনে দিল।