দেশজুড়ে আবারও বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীর চাপ বাড়ছে, যা স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করছে। চিকিৎসকরা বলছেন, বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে, তাই এখনই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।
পরিস্থিতির বর্তমান চিত্র
সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিদিনই নতুন করে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হচ্ছে। রাজধানীর বড় হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকট দেখা দিচ্ছে। অনেক রোগীকে মেঝেতে বা অতিরিক্ত বেডে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, এ বছর ডেঙ্গুর ধরন কিছুটা ভিন্ন হওয়ায় রোগীরা দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ছেন।
ঝুঁকিতে কোন এলাকাগুলো
শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং যেখানে পানি জমে থাকে, সেসব জায়গায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি। বিশেষ করে নির্মাণাধীন ভবন, ফেলে রাখা টায়ার, ফুলের টব বা ছাদে জমে থাকা পানি মশার বংশবিস্তার বাড়িয়ে দিচ্ছে। এসব জায়গায় নিয়মিত পরিষ্কার না রাখলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা বা শরীর ব্যথা হলে দ্রুত পরীক্ষা করানো উচিত। দেরি করলে জটিলতা বাড়তে পারে। রোগীদের পর্যাপ্ত পানি পান, বিশ্রাম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিরোধই প্রধান উপায়
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মশার বংশবিস্তার বন্ধ করা। আশপাশে কোথাও পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। বাড়ির ভেতর ও বাইরে নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। পাশাপাশি মশারি ব্যবহার এবং সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
সরকারি উদ্যোগ
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা হয়েছে। মশা নিধনে নিয়মিত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, ব্যক্তিগত সচেতনতাও সমানভাবে জরুরি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















