০৬:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শার্শায় বেওয়ারিশ কুকুরের আতঙ্ক, এক সপ্তাহে আক্রান্ত ১১০ জন প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বাকবিতণ্ডা, এজলাস ছাড়লেন পুরো আপিল বিভাগ ধ্বংসস্তূপের নিচে ৯ দিন, তারপর অলৌকিক উদ্ধার—নেপালের বন্যায় দুই শ্রমিকের বেঁচে থাকার গল্প যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে মুসলিম ইস্যু, বাড়ছে ইসলামবিদ্বেষী রাজনীতি ৯/১১-এর ২৫ বছর পর বিদেশি হামলার চেয়ে নিজ দেশের উগ্রপন্থীদের ভয় বেশি মার্কিনদের ডনবাসে রাশিয়ার অগ্রযাত্রা, ইউক্রেনের নতুন সামরিক নেতৃত্বের বড় পরীক্ষা কারাগারে বসেই আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন, এবার বার পরীক্ষার কঠিন চ্যালেঞ্জ কানাডার পাল্টা শুল্কে নতুন উত্তেজনা, থমকে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ট্রাম্পের কড়া বার্তা: যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিক্রি করতে হলে আমেরিকাতেই উৎপাদন করতে হবে বোম্বার্ডিয়ারকে সরবরাহ সংকটের পরও কেন ১০০ ডলার ছাড়াচ্ছে না তেলের দাম?

ময়মনসিংহে নিখোঁজ যুবকের বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার, মাটি খুঁড়ে মিলল মাথাবিহীন মরদেহ

ময়মনসিংহে উৎকট দুর্গন্ধের উৎস অনুসন্ধান করতে গিয়ে সাত দিন ধরে নিখোঁজ এক যুবকের বিচ্ছিন্ন মাথা ও পরে মাটি খুঁড়ে মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আঙুলের ছাপ মিলিয়ে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। এ ঘটনায় হত্যার কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

নিহত সোহেল মিয়া (২৬) ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পরানগঞ্জ ইউনিয়নের মীরকান্দাপাড়া এলাকার নূরুল ইসলাম ও জুলেখা বেগমের ছেলে। তিনি পেশায় গাছ কাটার শ্রমিক ছিলেন।

নিখোঁজের পর জিডি

সকাল থেকে ঘরের দরজা বন্ধ, ভেতরে পড়ে ছিল স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৬ জুলাই রাত ৮টার দিকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সোহেল মিয়া নিখোঁজ হন। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিত বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পাওয়ায় বুধবার সকালে তার বাবা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

দুর্গন্ধের উৎসে ভয়াবহ আবিষ্কার

এদিকে সোহেলের বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে অম্বিকাগঞ্জ কলেজে নতুন একাডেমিক ভবনের স্থান নির্ধারণের কাজ চলছিল। জায়গা পরিদর্শনের সময় কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীরা আশপাশে তীব্র দুর্গন্ধ অনুভব করেন। দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে ঘাসের ওপর একটি বিচ্ছিন্ন মানুষের মাথা দেখতে পান তারা। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রথমে বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করে। এরপর পাশের নরম মাটি খুঁড়ে কয়েক ফুট গভীর থেকে একটি মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে দুটি গ্লাভসও জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মরদেহ মাটিতে চাপা দেওয়া ছিল। পরে শিয়াল, কুকুর বা অন্য কোনো প্রাণী মাথাটি টেনে বাইরে নিয়ে আসায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।

পিবিআইয়ের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত

উদ্ধার করা মাথা ও মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত করতে পিবিআই আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করে এবং ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করে।

অম্বিকাগঞ্জ কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. মাহবুবুল আলম জানান, জায়গা পরিদর্শনের সময় দুর্গন্ধের উৎস অনুসন্ধান করতে গিয়ে তারা একটি মানুষের মাথা দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দিলে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আশরাফুল করিম বলেন, পিবিআইয়ের আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে উদ্ধার হওয়া মাথা ও মরদেহ নিখোঁজ সোহেল মিয়ার। পরিবারের সদস্যরাও পোশাক দেখে মরদেহ শনাক্ত করেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পরিবারের অভিযোগ

নিহতের শ্বশুর আলাল উদ্দিনের দাবি, ১৬ জুলাই রাতে সোহেলের ভগ্নিপতি সেলিম মিয়া কাজের কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। তার দাবি, গাছ কাটার কাজের পারিশ্রমিক নিয়ে সোহেলের সঙ্গে সেলিমের বিরোধ ছিল এবং ঘটনার পর থেকে সেলিম এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন।

পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের পারিশ্রমিকসংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এবং কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

শার্শায় বেওয়ারিশ কুকুরের আতঙ্ক, এক সপ্তাহে আক্রান্ত ১১০ জন

ময়মনসিংহে নিখোঁজ যুবকের বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার, মাটি খুঁড়ে মিলল মাথাবিহীন মরদেহ

০১:১৯:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

ময়মনসিংহে উৎকট দুর্গন্ধের উৎস অনুসন্ধান করতে গিয়ে সাত দিন ধরে নিখোঁজ এক যুবকের বিচ্ছিন্ন মাথা ও পরে মাটি খুঁড়ে মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আঙুলের ছাপ মিলিয়ে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। এ ঘটনায় হত্যার কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

নিহত সোহেল মিয়া (২৬) ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পরানগঞ্জ ইউনিয়নের মীরকান্দাপাড়া এলাকার নূরুল ইসলাম ও জুলেখা বেগমের ছেলে। তিনি পেশায় গাছ কাটার শ্রমিক ছিলেন।

নিখোঁজের পর জিডি

সকাল থেকে ঘরের দরজা বন্ধ, ভেতরে পড়ে ছিল স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৬ জুলাই রাত ৮টার দিকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সোহেল মিয়া নিখোঁজ হন। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিত বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পাওয়ায় বুধবার সকালে তার বাবা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

দুর্গন্ধের উৎসে ভয়াবহ আবিষ্কার

এদিকে সোহেলের বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে অম্বিকাগঞ্জ কলেজে নতুন একাডেমিক ভবনের স্থান নির্ধারণের কাজ চলছিল। জায়গা পরিদর্শনের সময় কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীরা আশপাশে তীব্র দুর্গন্ধ অনুভব করেন। দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে ঘাসের ওপর একটি বিচ্ছিন্ন মানুষের মাথা দেখতে পান তারা। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রথমে বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করে। এরপর পাশের নরম মাটি খুঁড়ে কয়েক ফুট গভীর থেকে একটি মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে দুটি গ্লাভসও জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মরদেহ মাটিতে চাপা দেওয়া ছিল। পরে শিয়াল, কুকুর বা অন্য কোনো প্রাণী মাথাটি টেনে বাইরে নিয়ে আসায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।

পিবিআইয়ের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত

উদ্ধার করা মাথা ও মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত করতে পিবিআই আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করে এবং ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করে।

অম্বিকাগঞ্জ কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. মাহবুবুল আলম জানান, জায়গা পরিদর্শনের সময় দুর্গন্ধের উৎস অনুসন্ধান করতে গিয়ে তারা একটি মানুষের মাথা দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দিলে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আশরাফুল করিম বলেন, পিবিআইয়ের আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে উদ্ধার হওয়া মাথা ও মরদেহ নিখোঁজ সোহেল মিয়ার। পরিবারের সদস্যরাও পোশাক দেখে মরদেহ শনাক্ত করেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পরিবারের অভিযোগ

নিহতের শ্বশুর আলাল উদ্দিনের দাবি, ১৬ জুলাই রাতে সোহেলের ভগ্নিপতি সেলিম মিয়া কাজের কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। তার দাবি, গাছ কাটার কাজের পারিশ্রমিক নিয়ে সোহেলের সঙ্গে সেলিমের বিরোধ ছিল এবং ঘটনার পর থেকে সেলিম এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন।

পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের পারিশ্রমিকসংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এবং কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।