০৫:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চীনে মিলল অতি বিশুদ্ধ কোয়ার্টজের নতুন ভাণ্ডার, মার্কিন সরবরাহে কমতে পারে নির্ভরতা এআইয়ে আস্থা বাড়ালেও ওষুধ তৈরিতে সাফল্য নিয়ে মার্কিন নির্বাহীদের সংশয় ২৫ বছর পরও থামেনি ৯/১১-এর মৃত্যুর মিছিল, একে একে হারাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা সিলেট সীমান্তে দেড় কোটি টাকার মাদক-চোরাচালানি পণ্য জব্দ গাজীপুর থেকে চুরি যাওয়া লেমুর ভারতে আম্বানিদের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রে? আক্কেল দাঁত কেন ওঠে, আর উঠলেই কেন এত ব্যথা? ধ্বংসের পর পুরোনো পথে নয়, নিরাপদ ভবিষ্যতের দিকে এগোতে হবে নেপালকে চীনা পণ্য কিনতে বিনিময় কৌশলে নিষেধাজ্ঞা এড়াচ্ছে ইরান দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে চিরকুট বিতর্কে চীন ফিলিপাইন শি জিনপিংয়ের দিল্লি সফরেও কাটছে না বাণিজ্য জট

৯/১১-এর ২৫ বছর পরও স্বজন হারানোর যন্ত্রণা কাটেনি, বিচারের অপেক্ষাও শেষ হয়নি

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু হামলায় স্বজন হারানো বহু পরিবারের কাছে সেই দিনটির ক্ষত আজও শুকায়নি। তাঁদের কাছে ৯/১১ শুধু ইতিহাসের একটি ভয়াবহ অধ্যায় নয়; এটি প্রতিদিনের জীবনের সঙ্গে মিশে থাকা এক গভীর শোক।

হামলার প্রায় তিন হাজার নিহতের পরিবারের জন্য আরেকটি প্রশ্নও এখনো অমীমাংসিত—এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্ত মূল পরিকল্পনাকারীদের বিচার কবে শেষ হবে?

২৫ বছর পরও স্মৃতিতে জীবন্ত সেই দিন

টম রেস্তার ভাই জন রেসতা ও তাঁর স্ত্রী সিলভিয়া ছিলেন ৯/১১ হামলায় নিহতদের মধ্যে। সিলভিয়া তখন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

হামলার কয়েক দিন আগেই তাঁরা তাঁদের অনাগত সন্তানের জন্য ঘর সাজাচ্ছিলেন। শিশুদের জনপ্রিয় একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের চরিত্র দিয়ে ঘরটির দেয়াল রাঙাচ্ছিলেন তাঁরা। বহুদিনের স্বপ্ন ছিল একটি সন্তান নেওয়ার। পরিবার ও বন্ধুদের সন্তানদেরও তাঁরা খুব আদর করতেন।

১১ সেপ্টেম্বর সকালে দুজনেই নিউইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের উত্তর টাওয়ারের ৯২ তলায় কর্মরত ছিলেন। তাঁরা দুজনই শেয়ারবাজারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

ভাইয়ের কথা বলতে গিয়ে টম রেসতা আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। ২৫ বছর পরও তাঁর কাছে ৯/১১ যেন গতকালের ঘটনা।

তিনি বলেন, এত বছর পেরিয়ে গেলেও ঘটনাটি তাঁকে এখনো ভেতর থেকে নাড়া দেয় এবং প্রায় সব সময়ই তাঁর মনে ৯/১১-এর কথা ঘুরতে থাকে।

In the 20 years since the September 11, 2001, terrorist attacks, Americans  have gathered on the anniversary to remember the nearly 3,000 people who  died in New York, Virginia and Pennsylvania, as

বিচার দেখতে গুয়ানতানামোতে বারবার যাত্রা

৯/১১ হামলার কথিত মূল পরিকল্পনাকারী খালিদ শেখ মোহাম্মদ এবং তাঁর সহযোগীদের বিচার শুরুর আগের আইনি কার্যক্রম দেখতে রেসতা চারবার কিউবার গুয়ানতানামো বে নৌঘাঁটিতে গেছেন।

২০০১ সালের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের সময় সেখানে একটি সামরিক কারাগার প্রতিষ্ঠা করা হয়। খালিদ শেখ মোহাম্মদ সেখানে প্রায় ২০ বছর ধরে আটক রয়েছেন, অথচ এখনো কোনো অপরাধে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হননি।

নিহতদের স্বজনদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে নির্ধারিত ব্যক্তিরাই উচ্চনিরাপত্তার আদালতকক্ষে গিয়ে বিচার-পূর্ব কার্যক্রম দেখতে পারেন। সেখানে স্বজন ও সাংবাদিকদের কাছ থেকে অভিযুক্তদের আলাদা রাখতে মোটা কাচের দেয়াল ব্যবহার করা হয়।

বিচার শুরুর আগের আইনি প্রক্রিয়া এত দীর্ঘ হয়েছে যে এরই মধ্যে পাঁচজন সামরিক বিচারক মামলাটির দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০২৮ সালে বিচার শুরুর তারিখ, তবু স্বজনদের দুশ্চিন্তা

গত মাসে ৯/১১-এর ২৫তম বার্ষিকীর আগে মামলায় কিছুটা অগ্রগতি দেখা যায়। খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিচার ২০২৮ সালের জুনে শুরু করার তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

কিন্তু রেসতা এখনো আশাবাদী হতে পারছেন না। তাঁর আশঙ্কা, আবারও কোনো না কোনো কারণে বিচার পিছিয়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, তাঁর বাবা আগামী নভেম্বরে ৯৮ বছরে পা দেবেন। তাই বিচার শুরুর দিনটি দেখার মতো সময় তাঁর বাবার হাতে থাকবে কি না, তা নিয়ে তিনি আশাবাদী নন। পরিবারের আরও অনেক বয়স্ক সদস্যও বিচার শেষ হওয়ার আগেই মারা যেতে পারেন বলে তাঁর ভয়।

রেসতার আরেকটি দুশ্চিন্তা হলো, বিচার শুরু হওয়ার সময় অভিযুক্তরা আদৌ জীবিত থাকবেন কি না।

স্বজনদের কাছে শাস্তির চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ দোষী সাব্যস্ত হওয়া

US marks anniversary of 9/11 terrorist attacks

৯/১১ হামলায় ছোট ভাই রালফকে হারানো স্টিফান গেরহার্টও বহু বছর ধরে এই বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। এ বছর তিনি ষষ্ঠবারের মতো গুয়ানতানামো গেছেন।

তিনি বলেন, ভাইয়ের হত্যার জন্য অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত হতে দেখা তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি চান, একসময় যেন তাঁকে আর এই বিচার নিয়ে ভাবতে না হয়।

তিনি এখন তাঁর ভাইয়ের স্মৃতিগুলো আঁকড়ে ধরে থাকতে চান। রালফের গাড়িটি এখনো তাঁর কাছে রয়েছে। সেটিকে পুরোনো অবস্থার মতো করে সাজানোর চেষ্টা করছেন তিনি। সম্প্রতি বাবা-মায়ের বাড়িতে গিয়ে ভাইয়ের কিছু পুরোনো জিনিসও খুঁজে পেয়েছেন।

এসব জিনিস হয়তো দেখতে সাধারণ পুরোনো সামগ্রী, কিন্তু সেগুলো যে তাঁর ছোট ভাইয়ের ছিল—এই উপলব্ধিই তাঁর মধ্যে গভীর আবেগ তৈরি করে।

গেরহার্টের সবচেয়ে বড় ভয়, অভিযুক্তরা বৃদ্ধ হয়ে যাচ্ছেন। তিনি চান না তাঁরা দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই মারা যান। তাঁর মতে, হামলার জন্য এসব মানুষকে আটক করার পরও যদি তাঁদের বিচার না হয়, তাহলে নিহতদের পরিবারের প্রতি সেটি হবে আরেকটি অবিচার।

নির্যাতনের অভিযোগেই আটকে আছে বিচার

খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগপত্রে ২ হাজার ৯৭৬ জন নিহতের নাম রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, তিনিই বাণিজ্যিক বিমানের চালকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিমান ভবনের ওপর আছড়ে ফেলার পরিকল্পনা করেন এবং সেই পরিকল্পনা আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেনের কাছে নিয়ে যান।

খালিদ শেখ মোহাম্মদ এর আগে দাবি করেছিলেন, তিনি ৯/১১-এর পুরো পরিকল্পনা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত করেছিলেন।

তবে মামলার সবচেয়ে বড় জটিলতা তৈরি হয়েছে তাঁকে এবং তাঁর সহযোগীদের আটক ও জিজ্ঞাসাবাদের পদ্ধতি নিয়ে।

Why 9/11 and its many griefs land differently 25 years later | AP News

বিচার শুরুর তারিখ ঘোষণার কয়েক দিন পর সামরিক বিচারক যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার গোপন কারাগারে আটকে থাকার পর গুয়ানতানামোতে এফবিআই কর্মকর্তাদের কাছে দেওয়া মোহাম্মদের স্বীকারোক্তি বাতিল করে দেন।

বিচারকের ভাষ্য অনুযায়ী, গোপন কারাগারগুলোতে মোহাম্মদের ওপর যে আচরণ করা হয়েছিল, তা ছিল ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পর্যায়ে। ফলে তাঁর স্বীকারোক্তিগুলো স্বেচ্ছায় দেওয়া হয়নি এবং সেগুলো বিচারে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

নির্যাতনই দীর্ঘসূত্রতার প্রধান কারণ

এডিনবরার একজন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ কেসি ম্যাককল-স্মিথের মতে, মামলাটি এত দীর্ঘ হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ অভিযুক্তদের ওপর চালানো নির্যাতন।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পানিতে ডুবিয়ে রাখার মতো নির্যাতন এবং দীর্ঘ সময় অস্বস্তিকর অবস্থানে আটকে রাখাসহ বছরের পর বছর ধরে তাঁদের ওপর বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন চালানো হয়েছিল।

ফলে বিচারের আগে প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে একের পর এক আইনি লড়াই হয়েছে। কোন প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা যাবে আর কোনটি যাবে না—সেটিই মামলার দীর্ঘসূত্রতার কেন্দ্রীয় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকারের হাতে অন্য প্রমাণও আছে

আমেরিকার ট্রায়াল: গুয়ানতানামো বে-তে নির্যাতন ও ৯/১১ মামলা বইয়ের লেখক জন রায়ানের মতে, সাম্প্রতিক রায়ের কারণে মোহাম্মদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণগুলোর একটি বাদ পড়েছে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে মামলাটি শেষ হয়ে গেছে।

তদন্তকারীদের হাতে ফোনে আড়ি পেতে পাওয়া তথ্য এবং গোপনে ধারণ করা কথোপকথনসহ আরও কিছু প্রমাণ রয়েছে। যদিও এসব প্রমাণও বিচারে ব্যবহার করা যাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। প্রতিরক্ষা আইনজীবীরা এসব প্রমাণ বাদ দেওয়ার দাবিতেও নতুন আবেদন করতে পারেন।

On Friday, join us as we remember and honor the lives lost 25 years ago. 📍  New York City: Live coverage from Ground Zero as family members and loved  ones read the

নির্যাতনের দায় নিয়ে পুরোনো বিতর্ক

জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রেসিডেন্ট থাকার সময় যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করেছিল যে সন্দেহভাজনদের কাছ থেকে তথ্য আদায়ের জন্য কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে সে সময় সরকার দাবি করেছিল, এসব পদ্ধতির মাধ্যমে জীবন রক্ষা করা হয়েছে এবং এগুলো নির্যাতনের পর্যায়ে পড়েনি।

পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দায়িত্ব নেওয়ার দ্বিতীয় দিনেই এসব পদ্ধতি নিষিদ্ধ করেন।

৯/১১ হামলায় স্বজন হারানো অনেকেই মনে করেন, অভিযুক্তদের ওপর চালানো নির্যাতনের কারণেই আজ বিচার এত জটিল হয়ে পড়েছে।

গেরহার্টের ভাষায়, তাঁদের যদি নির্যাতন না করা হতো, তাহলে আইনি জটিলতা অনেক কম থাকত এবং হয়তো অনেক আগেই তাঁদের সাজা হয়ে যেত। কিন্তু সরকারের অতীত সিদ্ধান্তের ওপর তাঁর কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না—এখন পরিবারগুলোকে সেই সিদ্ধান্তের পরিণতি নিয়েই বাঁচতে হচ্ছে।

মৃত্যুদণ্ড নাকি সমঝোতা—স্বজনদের মধ্যেও মতভেদ

২০২৫ সালের শুরুতে রেসতা ও গেরহার্ট দুজনেই গুয়ানতানামো গিয়েছিলেন। তখন খালিদ শেখ মোহাম্মদ ও তাঁর দুই সহযোগীর অপরাধ স্বীকার করে নেওয়ার মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তির একটি চুক্তি হওয়ার কথা ছিল।

এই সমঝোতায় তাঁদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের বিচার না করার পরিকল্পনা ছিল।

কিন্তু শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র সরকার আপত্তি জানালে সেই প্রক্রিয়া থেমে যায়। সরকারের যুক্তি ছিল, অভিযুক্তদের অপরাধের বিষয়ে প্রকাশ্য বিচার এবং মৃত্যুদণ্ডের সম্ভাবনা থেকে সরকার ও আমেরিকান জনগণকে বঞ্চিত করা হলে অপূরণীয় ক্ষতি হবে।

এই সমঝোতা বৈধ কি না, তা নিয়ে আইনি লড়াই এখনো চলছে।

নিহতদের স্বজনদের কেউ কেউ সমঝোতাটিকে মামলাটি শেষ করার বাস্তবসম্মত পথ হিসেবে দেখেছিলেন। অন্যরা মনে করেন, সেটি খুবই নমনীয় এবং এতে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা নেই।

রেসতা সমঝোতার পক্ষে ছিলেন। তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করা।

তিনি বলেন, এসব মানুষকে তিনি আর কখনো সাধারণ মানুষের মধ্যে ঘুরে বেড়াতে দেখতে চান না। তাঁরা যেখানে আছেন, সেখানেই থাকুন—তিনি শুধু চান তাঁদের অপরাধের আইনি স্বীকৃতি হোক।

কেউ চান পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ্য বিচার

ব্রুস ঈগলসন ৯/১১ হামলায় তাঁর বাবাকে হারিয়েছিলেন। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর।

তিনি অবশ্য কোনো সমঝোতা চান না। তাঁর দাবি, পুরো বিচারপ্রক্রিয়া প্রকাশ্যে হওয়া উচিত।

তাঁর কাছে বিষয়টি শুধু বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে কি না, তা নয়। তিনি বিচারব্যবস্থার ওপর বিশ্বাস রাখেন এবং মনে করেন, পূর্ণাঙ্গ বিচার, প্রমাণ যাচাই এবং প্রকাশ্য শুনানির মধ্য দিয়েই প্রকৃত সত্য সামনে আসতে পারে।

গুয়ানতানামোর পুরো পরিস্থিতিকে তিনি বিশৃঙ্খল বলে বর্ণনা করেছেন। এ কারণে বিচার-পূর্ব কোনো কার্যক্রমে আর অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তাঁর অনুভূতি এখন মূলত হতাশা ও বিশ্বাসভঙ্গের। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার এই বিচারপ্রক্রিয়ার প্রায় প্রতিটি ধাপেই ব্যর্থ হয়েছে।

Twenty-five years later, we honor the stories of those who experienced  September 11 firsthand., “My mom was just a super woman who certainly  should not have been murdered in that way.”, “I just held ...

নতুন প্রজন্মের কাছে ৯/১১ এখন ইতিহাস

২৫ বছর পর ঈগলসনের মনে হচ্ছে, ৯/১১ তাঁর নিজের জীবনে এখনো প্রতিদিনের বাস্তবতা হলেও বৃহত্তর সমাজের কাছে ঘটনাটি ধীরে ধীরে ইতিহাসে পরিণত হচ্ছে।

তাঁর মতে, অনেক মানুষ এখন ধরে নেন যে যুক্তরাষ্ট্র ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করেছে, ইরাক থেকে বেরিয়ে এসেছে এবং আফগানিস্তানের যুদ্ধও শেষ হয়েছে—তাই ৯/১১-পরবর্তী অধ্যায় বুঝি শেষ হয়ে গেছে।

কিন্তু নিহতদের পরিবারের কাছে সেই অধ্যায় এখনো শেষ হয়নি।

বিচার শুরু হলেও সময় লাগবে আরও এক বছর

গুয়ানতানামোর সামরিক আদালতে বিচার শেষ পর্যন্ত শুরু হলে সেটি প্রায় এক বছর ধরে চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আইন বিশেষজ্ঞ কেসি ম্যাককল-স্মিথ বলেন, বিচার-পূর্ব শুনানির মূল উদ্দেশ্য হলো কোন প্রমাণ আদালতে গ্রহণ করা হবে আর কোন প্রমাণ বাতিল হবে, তা আগে নির্ধারণ করা।

এসব বিষয়ে আগেই সিদ্ধান্ত হয়ে গেলে মূল বিচার তুলনামূলক দ্রুত এগোনোর সুযোগ তৈরি হবে।

কিন্তু নিহতদের স্বজনদের কাছে ২৫ বছরের অপেক্ষা ইতোমধ্যেই অনেক দীর্ঘ।

গেরহার্ট এখন এমন একটি সময়ের অপেক্ষায় আছেন, যখন বিচার শেষ হবে এবং তাঁকে আর গুয়ানতানামো যেতে হবে না, আর প্রতিনিয়ত এই মামলার কথা ভাবতেও হবে না।

তিনি বলেন, গুয়ানতানামো এমন একটি জায়গা যেখানে তিনি আর ফিরে যেতে চান না। তিনি নিজের জীবন উপভোগ করতে চান, নিজের পছন্দের কাজ করতে চান এবং ভাই রালফের স্মৃতিগুলো নিয়েই বাকি জীবন কাটাতে চান।

২৫ বছর পরও ৯/১১-এর ক্ষত তাই শুধু নিউইয়র্কের আকাশে আলো জ্বালিয়ে স্মরণ করার বিষয় নয়। নিহতদের পরিবারগুলোর কাছে এটি এখনো অপেক্ষা, শোক এবং ন্যায়বিচারের অসমাপ্ত গল্প।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনে মিলল অতি বিশুদ্ধ কোয়ার্টজের নতুন ভাণ্ডার, মার্কিন সরবরাহে কমতে পারে নির্ভরতা

৯/১১-এর ২৫ বছর পরও স্বজন হারানোর যন্ত্রণা কাটেনি, বিচারের অপেক্ষাও শেষ হয়নি

০১:০৩:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু হামলায় স্বজন হারানো বহু পরিবারের কাছে সেই দিনটির ক্ষত আজও শুকায়নি। তাঁদের কাছে ৯/১১ শুধু ইতিহাসের একটি ভয়াবহ অধ্যায় নয়; এটি প্রতিদিনের জীবনের সঙ্গে মিশে থাকা এক গভীর শোক।

হামলার প্রায় তিন হাজার নিহতের পরিবারের জন্য আরেকটি প্রশ্নও এখনো অমীমাংসিত—এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্ত মূল পরিকল্পনাকারীদের বিচার কবে শেষ হবে?

২৫ বছর পরও স্মৃতিতে জীবন্ত সেই দিন

টম রেস্তার ভাই জন রেসতা ও তাঁর স্ত্রী সিলভিয়া ছিলেন ৯/১১ হামলায় নিহতদের মধ্যে। সিলভিয়া তখন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

হামলার কয়েক দিন আগেই তাঁরা তাঁদের অনাগত সন্তানের জন্য ঘর সাজাচ্ছিলেন। শিশুদের জনপ্রিয় একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের চরিত্র দিয়ে ঘরটির দেয়াল রাঙাচ্ছিলেন তাঁরা। বহুদিনের স্বপ্ন ছিল একটি সন্তান নেওয়ার। পরিবার ও বন্ধুদের সন্তানদেরও তাঁরা খুব আদর করতেন।

১১ সেপ্টেম্বর সকালে দুজনেই নিউইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের উত্তর টাওয়ারের ৯২ তলায় কর্মরত ছিলেন। তাঁরা দুজনই শেয়ারবাজারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

ভাইয়ের কথা বলতে গিয়ে টম রেসতা আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। ২৫ বছর পরও তাঁর কাছে ৯/১১ যেন গতকালের ঘটনা।

তিনি বলেন, এত বছর পেরিয়ে গেলেও ঘটনাটি তাঁকে এখনো ভেতর থেকে নাড়া দেয় এবং প্রায় সব সময়ই তাঁর মনে ৯/১১-এর কথা ঘুরতে থাকে।

In the 20 years since the September 11, 2001, terrorist attacks, Americans  have gathered on the anniversary to remember the nearly 3,000 people who  died in New York, Virginia and Pennsylvania, as

বিচার দেখতে গুয়ানতানামোতে বারবার যাত্রা

৯/১১ হামলার কথিত মূল পরিকল্পনাকারী খালিদ শেখ মোহাম্মদ এবং তাঁর সহযোগীদের বিচার শুরুর আগের আইনি কার্যক্রম দেখতে রেসতা চারবার কিউবার গুয়ানতানামো বে নৌঘাঁটিতে গেছেন।

২০০১ সালের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের সময় সেখানে একটি সামরিক কারাগার প্রতিষ্ঠা করা হয়। খালিদ শেখ মোহাম্মদ সেখানে প্রায় ২০ বছর ধরে আটক রয়েছেন, অথচ এখনো কোনো অপরাধে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হননি।

নিহতদের স্বজনদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে নির্ধারিত ব্যক্তিরাই উচ্চনিরাপত্তার আদালতকক্ষে গিয়ে বিচার-পূর্ব কার্যক্রম দেখতে পারেন। সেখানে স্বজন ও সাংবাদিকদের কাছ থেকে অভিযুক্তদের আলাদা রাখতে মোটা কাচের দেয়াল ব্যবহার করা হয়।

বিচার শুরুর আগের আইনি প্রক্রিয়া এত দীর্ঘ হয়েছে যে এরই মধ্যে পাঁচজন সামরিক বিচারক মামলাটির দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০২৮ সালে বিচার শুরুর তারিখ, তবু স্বজনদের দুশ্চিন্তা

গত মাসে ৯/১১-এর ২৫তম বার্ষিকীর আগে মামলায় কিছুটা অগ্রগতি দেখা যায়। খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিচার ২০২৮ সালের জুনে শুরু করার তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

কিন্তু রেসতা এখনো আশাবাদী হতে পারছেন না। তাঁর আশঙ্কা, আবারও কোনো না কোনো কারণে বিচার পিছিয়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, তাঁর বাবা আগামী নভেম্বরে ৯৮ বছরে পা দেবেন। তাই বিচার শুরুর দিনটি দেখার মতো সময় তাঁর বাবার হাতে থাকবে কি না, তা নিয়ে তিনি আশাবাদী নন। পরিবারের আরও অনেক বয়স্ক সদস্যও বিচার শেষ হওয়ার আগেই মারা যেতে পারেন বলে তাঁর ভয়।

রেসতার আরেকটি দুশ্চিন্তা হলো, বিচার শুরু হওয়ার সময় অভিযুক্তরা আদৌ জীবিত থাকবেন কি না।

স্বজনদের কাছে শাস্তির চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ দোষী সাব্যস্ত হওয়া

US marks anniversary of 9/11 terrorist attacks

৯/১১ হামলায় ছোট ভাই রালফকে হারানো স্টিফান গেরহার্টও বহু বছর ধরে এই বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। এ বছর তিনি ষষ্ঠবারের মতো গুয়ানতানামো গেছেন।

তিনি বলেন, ভাইয়ের হত্যার জন্য অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত হতে দেখা তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি চান, একসময় যেন তাঁকে আর এই বিচার নিয়ে ভাবতে না হয়।

তিনি এখন তাঁর ভাইয়ের স্মৃতিগুলো আঁকড়ে ধরে থাকতে চান। রালফের গাড়িটি এখনো তাঁর কাছে রয়েছে। সেটিকে পুরোনো অবস্থার মতো করে সাজানোর চেষ্টা করছেন তিনি। সম্প্রতি বাবা-মায়ের বাড়িতে গিয়ে ভাইয়ের কিছু পুরোনো জিনিসও খুঁজে পেয়েছেন।

এসব জিনিস হয়তো দেখতে সাধারণ পুরোনো সামগ্রী, কিন্তু সেগুলো যে তাঁর ছোট ভাইয়ের ছিল—এই উপলব্ধিই তাঁর মধ্যে গভীর আবেগ তৈরি করে।

গেরহার্টের সবচেয়ে বড় ভয়, অভিযুক্তরা বৃদ্ধ হয়ে যাচ্ছেন। তিনি চান না তাঁরা দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই মারা যান। তাঁর মতে, হামলার জন্য এসব মানুষকে আটক করার পরও যদি তাঁদের বিচার না হয়, তাহলে নিহতদের পরিবারের প্রতি সেটি হবে আরেকটি অবিচার।

নির্যাতনের অভিযোগেই আটকে আছে বিচার

খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগপত্রে ২ হাজার ৯৭৬ জন নিহতের নাম রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, তিনিই বাণিজ্যিক বিমানের চালকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিমান ভবনের ওপর আছড়ে ফেলার পরিকল্পনা করেন এবং সেই পরিকল্পনা আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেনের কাছে নিয়ে যান।

খালিদ শেখ মোহাম্মদ এর আগে দাবি করেছিলেন, তিনি ৯/১১-এর পুরো পরিকল্পনা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত করেছিলেন।

তবে মামলার সবচেয়ে বড় জটিলতা তৈরি হয়েছে তাঁকে এবং তাঁর সহযোগীদের আটক ও জিজ্ঞাসাবাদের পদ্ধতি নিয়ে।

Why 9/11 and its many griefs land differently 25 years later | AP News

বিচার শুরুর তারিখ ঘোষণার কয়েক দিন পর সামরিক বিচারক যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার গোপন কারাগারে আটকে থাকার পর গুয়ানতানামোতে এফবিআই কর্মকর্তাদের কাছে দেওয়া মোহাম্মদের স্বীকারোক্তি বাতিল করে দেন।

বিচারকের ভাষ্য অনুযায়ী, গোপন কারাগারগুলোতে মোহাম্মদের ওপর যে আচরণ করা হয়েছিল, তা ছিল ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পর্যায়ে। ফলে তাঁর স্বীকারোক্তিগুলো স্বেচ্ছায় দেওয়া হয়নি এবং সেগুলো বিচারে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

নির্যাতনই দীর্ঘসূত্রতার প্রধান কারণ

এডিনবরার একজন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ কেসি ম্যাককল-স্মিথের মতে, মামলাটি এত দীর্ঘ হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ অভিযুক্তদের ওপর চালানো নির্যাতন।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পানিতে ডুবিয়ে রাখার মতো নির্যাতন এবং দীর্ঘ সময় অস্বস্তিকর অবস্থানে আটকে রাখাসহ বছরের পর বছর ধরে তাঁদের ওপর বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন চালানো হয়েছিল।

ফলে বিচারের আগে প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে একের পর এক আইনি লড়াই হয়েছে। কোন প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা যাবে আর কোনটি যাবে না—সেটিই মামলার দীর্ঘসূত্রতার কেন্দ্রীয় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকারের হাতে অন্য প্রমাণও আছে

আমেরিকার ট্রায়াল: গুয়ানতানামো বে-তে নির্যাতন ও ৯/১১ মামলা বইয়ের লেখক জন রায়ানের মতে, সাম্প্রতিক রায়ের কারণে মোহাম্মদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণগুলোর একটি বাদ পড়েছে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে মামলাটি শেষ হয়ে গেছে।

তদন্তকারীদের হাতে ফোনে আড়ি পেতে পাওয়া তথ্য এবং গোপনে ধারণ করা কথোপকথনসহ আরও কিছু প্রমাণ রয়েছে। যদিও এসব প্রমাণও বিচারে ব্যবহার করা যাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। প্রতিরক্ষা আইনজীবীরা এসব প্রমাণ বাদ দেওয়ার দাবিতেও নতুন আবেদন করতে পারেন।

On Friday, join us as we remember and honor the lives lost 25 years ago. 📍  New York City: Live coverage from Ground Zero as family members and loved  ones read the

নির্যাতনের দায় নিয়ে পুরোনো বিতর্ক

জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রেসিডেন্ট থাকার সময় যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করেছিল যে সন্দেহভাজনদের কাছ থেকে তথ্য আদায়ের জন্য কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে সে সময় সরকার দাবি করেছিল, এসব পদ্ধতির মাধ্যমে জীবন রক্ষা করা হয়েছে এবং এগুলো নির্যাতনের পর্যায়ে পড়েনি।

পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দায়িত্ব নেওয়ার দ্বিতীয় দিনেই এসব পদ্ধতি নিষিদ্ধ করেন।

৯/১১ হামলায় স্বজন হারানো অনেকেই মনে করেন, অভিযুক্তদের ওপর চালানো নির্যাতনের কারণেই আজ বিচার এত জটিল হয়ে পড়েছে।

গেরহার্টের ভাষায়, তাঁদের যদি নির্যাতন না করা হতো, তাহলে আইনি জটিলতা অনেক কম থাকত এবং হয়তো অনেক আগেই তাঁদের সাজা হয়ে যেত। কিন্তু সরকারের অতীত সিদ্ধান্তের ওপর তাঁর কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না—এখন পরিবারগুলোকে সেই সিদ্ধান্তের পরিণতি নিয়েই বাঁচতে হচ্ছে।

মৃত্যুদণ্ড নাকি সমঝোতা—স্বজনদের মধ্যেও মতভেদ

২০২৫ সালের শুরুতে রেসতা ও গেরহার্ট দুজনেই গুয়ানতানামো গিয়েছিলেন। তখন খালিদ শেখ মোহাম্মদ ও তাঁর দুই সহযোগীর অপরাধ স্বীকার করে নেওয়ার মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তির একটি চুক্তি হওয়ার কথা ছিল।

এই সমঝোতায় তাঁদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের বিচার না করার পরিকল্পনা ছিল।

কিন্তু শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র সরকার আপত্তি জানালে সেই প্রক্রিয়া থেমে যায়। সরকারের যুক্তি ছিল, অভিযুক্তদের অপরাধের বিষয়ে প্রকাশ্য বিচার এবং মৃত্যুদণ্ডের সম্ভাবনা থেকে সরকার ও আমেরিকান জনগণকে বঞ্চিত করা হলে অপূরণীয় ক্ষতি হবে।

এই সমঝোতা বৈধ কি না, তা নিয়ে আইনি লড়াই এখনো চলছে।

নিহতদের স্বজনদের কেউ কেউ সমঝোতাটিকে মামলাটি শেষ করার বাস্তবসম্মত পথ হিসেবে দেখেছিলেন। অন্যরা মনে করেন, সেটি খুবই নমনীয় এবং এতে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা নেই।

রেসতা সমঝোতার পক্ষে ছিলেন। তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করা।

তিনি বলেন, এসব মানুষকে তিনি আর কখনো সাধারণ মানুষের মধ্যে ঘুরে বেড়াতে দেখতে চান না। তাঁরা যেখানে আছেন, সেখানেই থাকুন—তিনি শুধু চান তাঁদের অপরাধের আইনি স্বীকৃতি হোক।

কেউ চান পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ্য বিচার

ব্রুস ঈগলসন ৯/১১ হামলায় তাঁর বাবাকে হারিয়েছিলেন। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর।

তিনি অবশ্য কোনো সমঝোতা চান না। তাঁর দাবি, পুরো বিচারপ্রক্রিয়া প্রকাশ্যে হওয়া উচিত।

তাঁর কাছে বিষয়টি শুধু বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে কি না, তা নয়। তিনি বিচারব্যবস্থার ওপর বিশ্বাস রাখেন এবং মনে করেন, পূর্ণাঙ্গ বিচার, প্রমাণ যাচাই এবং প্রকাশ্য শুনানির মধ্য দিয়েই প্রকৃত সত্য সামনে আসতে পারে।

গুয়ানতানামোর পুরো পরিস্থিতিকে তিনি বিশৃঙ্খল বলে বর্ণনা করেছেন। এ কারণে বিচার-পূর্ব কোনো কার্যক্রমে আর অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তাঁর অনুভূতি এখন মূলত হতাশা ও বিশ্বাসভঙ্গের। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার এই বিচারপ্রক্রিয়ার প্রায় প্রতিটি ধাপেই ব্যর্থ হয়েছে।

Twenty-five years later, we honor the stories of those who experienced  September 11 firsthand., “My mom was just a super woman who certainly  should not have been murdered in that way.”, “I just held ...

নতুন প্রজন্মের কাছে ৯/১১ এখন ইতিহাস

২৫ বছর পর ঈগলসনের মনে হচ্ছে, ৯/১১ তাঁর নিজের জীবনে এখনো প্রতিদিনের বাস্তবতা হলেও বৃহত্তর সমাজের কাছে ঘটনাটি ধীরে ধীরে ইতিহাসে পরিণত হচ্ছে।

তাঁর মতে, অনেক মানুষ এখন ধরে নেন যে যুক্তরাষ্ট্র ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করেছে, ইরাক থেকে বেরিয়ে এসেছে এবং আফগানিস্তানের যুদ্ধও শেষ হয়েছে—তাই ৯/১১-পরবর্তী অধ্যায় বুঝি শেষ হয়ে গেছে।

কিন্তু নিহতদের পরিবারের কাছে সেই অধ্যায় এখনো শেষ হয়নি।

বিচার শুরু হলেও সময় লাগবে আরও এক বছর

গুয়ানতানামোর সামরিক আদালতে বিচার শেষ পর্যন্ত শুরু হলে সেটি প্রায় এক বছর ধরে চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আইন বিশেষজ্ঞ কেসি ম্যাককল-স্মিথ বলেন, বিচার-পূর্ব শুনানির মূল উদ্দেশ্য হলো কোন প্রমাণ আদালতে গ্রহণ করা হবে আর কোন প্রমাণ বাতিল হবে, তা আগে নির্ধারণ করা।

এসব বিষয়ে আগেই সিদ্ধান্ত হয়ে গেলে মূল বিচার তুলনামূলক দ্রুত এগোনোর সুযোগ তৈরি হবে।

কিন্তু নিহতদের স্বজনদের কাছে ২৫ বছরের অপেক্ষা ইতোমধ্যেই অনেক দীর্ঘ।

গেরহার্ট এখন এমন একটি সময়ের অপেক্ষায় আছেন, যখন বিচার শেষ হবে এবং তাঁকে আর গুয়ানতানামো যেতে হবে না, আর প্রতিনিয়ত এই মামলার কথা ভাবতেও হবে না।

তিনি বলেন, গুয়ানতানামো এমন একটি জায়গা যেখানে তিনি আর ফিরে যেতে চান না। তিনি নিজের জীবন উপভোগ করতে চান, নিজের পছন্দের কাজ করতে চান এবং ভাই রালফের স্মৃতিগুলো নিয়েই বাকি জীবন কাটাতে চান।

২৫ বছর পরও ৯/১১-এর ক্ষত তাই শুধু নিউইয়র্কের আকাশে আলো জ্বালিয়ে স্মরণ করার বিষয় নয়। নিহতদের পরিবারগুলোর কাছে এটি এখনো অপেক্ষা, শোক এবং ন্যায়বিচারের অসমাপ্ত গল্প।