ওষুধ গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এখন প্রায় সর্বজনীন হয়ে উঠেছে। তবে নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, অল্পসংখ্যক মার্কিন ওষুধ কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহী মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করলেই নতুন ওষুধের সাফল্যের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
আবিষ্কারের গতি বাড়লেও সাফল্য অনিশ্চিত
সিটি ব্যাংকের করা সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে, ওষুধ গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে শিল্পখাতের ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও প্রযুক্তিটির বাস্তব বাণিজ্যিক সাফল্য নিয়ে নির্বাহীদের মধ্যে সতর্কতা রয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নতুন ওষুধের সম্ভাব্য উপাদান শনাক্ত করা, গবেষণার সময় কমানো এবং বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণের কাজ দ্রুত করতে পারে। কিন্তু গবেষণার গতি বাড়লেই যে কার্যকর ওষুধ তৈরির সম্ভাবনা বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা এখনো নেই।
মূল চ্যালেঞ্জ গবেষণা থেকে রোগীর উপকারে পৌঁছানো
এশিয়া অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা গবেষণার প্রধান জন ইয়ুংয়ের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ওষুধ আবিষ্কারের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো প্রযুক্তিটি গবেষণার গতি বাড়াতে ব্যর্থ হওয়া নয়। বরং দ্রুত আবিষ্কারের ফলকে আরও কার্যকর ওষুধ এবং চিকিৎসায় বেশি সাফল্যের সম্ভাবনায় রূপান্তর করতে না পারাই বড় উদ্বেগ।
কারণ, গবেষণার সময় কমিয়ে দিলেও নতুন ওষুধ যদি পরীক্ষায় সফল না হয় বা রোগীদের জন্য প্রত্যাশিত সুফল না আনে, তাহলে সেই প্রযুক্তিগত অগ্রগতি শেষ পর্যন্ত কোম্পানির লাভে রূপ নেবে না।
চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ছে
বিশ্বজুড়ে ওষুধশিল্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দিকে এগিয়ে গেলেও বিভিন্ন দেশের কোম্পানিগুলোর দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে চীনে ওষুধ আবিষ্কার ও নতুন চিকিৎসা উদ্ভাবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।
তবে প্রযুক্তি যতই শক্তিশালী হোক, গবেষণাগারে তৈরি সম্ভাবনাকে কার্যকর চিকিৎসায় রূপ দিতে দীর্ঘ পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই এবং মানবদেহে পরীক্ষার মতো ধাপগুলো এখনো অপরিহার্য। ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ওষুধ আবিষ্কারের পথকে দ্রুত করতে পারলেও চূড়ান্ত সাফল্যের নিশ্চয়তা এখনো দিতে পারছে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















