১০:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চীনের বিশাল বাজারকে এক কণ্ঠে কথা বলাতে বেইজিংয়ের নতুন কৌশল ট্রাম্পের ক্ষমতার প্রয়োগে যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চাপে ভারতে আদানির গোড্ডা কেন্দ্রের ইউনিট বন্ধ, বাংলাদেশে বাড়ছে লোডশেডিং পাকিস্তানে নতুন প্রদেশ গঠনে গণভোট, আগে সংসদের অনুমোদন: রানা সানাউল্লাহ উপকূলীয় শহরে গ্রিজলির হানা, স্কুলে আশ্রয় নির্দেশ; ‘সহাবস্থান’ নাকি সরিয়ে নেওয়া—দ্বিধায় বাসিন্দারা মূল্যস্ফীতি ৩.৪%-এ অনড়, সুদ বাড়ানোর পথে ফেড চীনা স্যাটেলাইটের ছবি ব্যবহার করেই কি ইরান হামলা চালিয়েছিল মার্কিন ঘাঁটিতে? শান্তির দূত হতে চায় ব্রিকস, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নিয়ে শির সঙ্গে মোদির বৈঠক পদ্মার পানি বাড়ছে, দৌলতপুরে ৩৫ গ্রামের ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি রাজধানীর আদাবরে ১০ টুকরো মরদেহ উদ্ধার, পরিচয় মেলেনি

ডায়ানার আলোচিত ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ উঠছে নিলামে, দাম উঠতে পারে ৩ লাখ ডলার

প্রিন্সেস ডায়ানার বিখ্যাত কালো পোশাক, যা বিশ্বজুড়ে ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ নামে পরিচিত, এবার নিলামে উঠতে যাচ্ছে। ১৯৯৪ সালে লন্ডনের সার্পেন্টাইন গ্যালারিতে একটি অনুষ্ঠানে এই পোশাক পরে হাজির হয়েছিলেন প্রয়াত প্রিন্সেস অব ওয়েলস। সেই রাতেই তৎকালীন স্বামী প্রিন্স চার্লস বিবাহিত জীবনে পরকীয়ার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিলেন।

ডায়ানার সেই নাটকীয় উপস্থিতি পরবর্তী সময়ে জনপ্রিয় সংস্কৃতির অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্তে পরিণত হয়। কালো রঙের, কাঁধখোলা, রেশমের এই পোশাকটি তৈরি করেছিলেন গ্রিক ডিজাইনার ক্রিস্টিনা স্ট্যাম্বোলিয়ান। পোশাকটির অসমান হেমলাইন এবং শিফনের লম্বা ট্রেন সেই সময়ের ফ্যাশনে ডায়ানার সাহসী উপস্থিতিকে আরও দৃশ্যমান করে তুলেছিল।

নিলামকারী প্রতিষ্ঠান সোথবিজের ধারণা, আগামী ৯ ডিসেম্বর নিলামে পোশাকটির দাম সর্বোচ্চ ২ লাখ ২০ হাজার পাউন্ড বা প্রায় ৩ লাখ মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ১৯৯৭ সালে ডায়ানা নিজে তাঁর বেশ কিছু পোশাক নিলামে বিক্রি করার পর এই প্রথম পোশাকটি আবার নিলামে উঠছে। সে সময় ক্যানসার ও এইডসসহ বিভিন্ন দাতব্য কাজে অর্থ সংগ্রহের জন্য তিনি ৭৯টি পোশাক বিক্রি করেছিলেন।

সোথবিজের বৈশ্বিক ফ্যাশন ও হ্যান্ডব্যাগ বিভাগের প্রধান মরগান হালিমি বলেন, ডায়ানা স্বাভাবিকভাবেই বুঝতে পেরেছিলেন যে পোশাকও নিজের বক্তব্য প্রকাশের একটি শক্তিশালী ভাষা হতে পারে। তাঁর ভাষায়, জীবনের অত্যন্ত আবেগঘন ও কঠোরভাবে পর্যবেক্ষিত একটি সময়ে ডায়ানা নিজের পছন্দের পোশাকের মাধ্যমে নিজের গল্পের নিয়ন্ত্রণ আবার নিজের হাতে নিয়েছিলেন।

১৯৯৪ সালের সেই সন্ধ্যায় সার্পেন্টাইন গ্যালারিতে একটি তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে ডায়ানা শেষ মুহূর্তে তাঁর পোশাক বদলে ফেলেন। শুরুতে তিনি ভ্যালেন্তিনোর একটি তুলনামূলকভাবে কম নজরকাড়া গাউন পরার পরিকল্পনা করেছিলেন। পরে সেটি বাদ দিয়ে স্ট্যাম্বোলিয়ানের তৈরি কালো পোশাকটি বেছে নেন।

পোশাকটির সঙ্গে ডায়ানা পরেছিলেন একটি রাজকীয় নেকলেস, কালো ক্লাচ এবং কালো হিল। তাঁর এই সাজ ছিল একই সঙ্গে মার্জিত, সাহসী এবং নজরকাড়া।

সেই রাতে ডায়ানার উপস্থিতির গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় কারণ কয়েক বছর ধরে চার্লস ও ডায়ানার দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছিল। এর মধ্যে একটি তথ্যচিত্রে প্রিন্স চার্লস তাঁর বিবাহিত জীবনে অবিশ্বস্ত হওয়ার কথা স্বীকার করেন। অনুষ্ঠানটির কয়েক দিন আগেই সাক্ষাৎকারের বিষয়বস্তু সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। ফলে ওই সাক্ষাৎকার প্রচারের পর ডায়ানার প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতিকে অনেকেই তাঁর স্বামীর স্বীকারোক্তির জবাব হিসেবে দেখেছিলেন।

ডায়ানার তৎকালীন স্টাইলিস্ট আনা হার্ভেকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছিল, রাজকুমারী সেদিন এমনভাবে উপস্থিত হতে চেয়েছিলেন যেন তাঁকে দেখে মনে হয় তিনি ‘এক মিলিয়ন ডলারের মতো’ দেখাচ্ছেন।

পরে এই পোশাকই ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ নামে পরিচিতি পায়। নামটির সঙ্গে ডায়ানার ব্যক্তিগত জীবনের সেই কঠিন সময়ের যোগ থাকলেও পোশাকটি ধীরে ধীরে তাঁর ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার প্রতীক হয়ে ওঠে।Princess Diana's iconic 'revenge dress' could fetch $300,000 at auction |  National | times-georgian.com

১৯৯৭ সালের নিলামে পোশাকটি কিনেছিলেন তৎকালীন গ্লাসগোর বাসিন্দা ব্রিজ ম্যাকেঞ্জি ও তাঁর স্বামী গ্রেম। তাঁরা এর জন্য ৩৯ হাজার ৯৮ পাউন্ড দিয়েছিলেন। তখন ম্যাকেঞ্জি জানিয়েছিলেন, পোশাকটি পরার জন্য তাঁরা কেনেননি। বরং এর বিক্রির অর্থ দাতব্য কাজে যাওয়ায় তাঁরা এটি কিনেছিলেন।

সোথবিজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ম্যাকেঞ্জি বলেন, তিনি ও তাঁর প্রয়াত স্বামী দুজনেই জানতেন যে পোশাকটি বিশেষ কিছু। তাঁর ভাষায়, ডায়ানা যেন জীবনের সবচেয়ে কঠিন রাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, অথচ তাঁকে দেখে তা বোঝার কোনো উপায় ছিল না। ছবি তোলার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই একটি সাধারণ ককটেল পোশাক যেন শক্তিশালী এক বক্তব্যে পরিণত হয়েছিল।

ম্যাকেঞ্জি আরও বলেন, ৩০ বছর পরও পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় শুধু ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ বললেই মানুষ বুঝতে পারে কোন পোশাকটির কথা বলা হচ্ছে।

স্বামীর মৃত্যুর পর পোশাকটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ম্যাকেঞ্জি। তিনি জানান, তাঁর স্বামীর সঙ্গে পোশাকটি কেনার নিলামে অংশ নেওয়া তাঁদের জীবনের অন্যতম স্মরণীয় দিন ছিল।

এবারের নিলামে পোশাকটির সঙ্গে ১৯৯৭ সালের বিরল নিলাম ক্যাটালগের একটি কপিও বিক্রি হবে। ক্যাটালগটিতে ডায়ানা ও ক্রিস্টিনা স্ট্যাম্বোলিয়ানের স্বাক্ষর রয়েছে। এতে পোশাকটি নিলামে তোলার ধারণার সঙ্গে ডায়ানার বড় ছেলে প্রিন্স উইলিয়ামের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন নিলাম থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ রয়্যাল এডিনবার্গ হাসপাতালের জন্য এনএইচএস লোথিয়ান চ্যারিটিতে দেওয়া হবে।

নিলামের আগে পোশাকটি বিশ্বের বিভিন্ন শহরে প্রদর্শন করা হবে। ১৮ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এটি সোথবিজের লন্ডন শোরুমে থাকবে। এরপর অক্টোবরের শুরুতে হংকং, নভেম্বরের শুরুতে জেনেভা এবং পরে নিউইয়র্কে নেওয়া হবে। শেষ পর্যন্ত নিউইয়র্ক থেকেই ৯ ডিসেম্বর নিলামটি অনুষ্ঠিত হবে।

ডায়ানার পোশাকের প্রতি সংগ্রাহকদের আগ্রহ নতুন নয়। ২০২৩ সালে সোথবিজের নিউইয়র্ক নিলামে সাদা ভেড়ার সারির মধ্যে একটি কালো ভেড়ার নকশা থাকা তাঁর বিখ্যাত সোয়েটার ৯ লাখ ২০ হাজার পাউন্ডে বিক্রি হয়েছিল।

ডায়ানা যে গাড়িতে করে সেই ঐতিহাসিক রাতে সার্পেন্টাইন গ্যালারিতে গিয়েছিলেন, সেই ভিনটেজ জাগুয়ার এক্সজে৪০-ও চলতি বছরের শুরুতে নিলামে বিক্রি হয়েছে। গাড়িটির দাম উঠেছিল ৬৬ হাজার ২৫০ পাউন্ড। তবে এবার ডায়ানার ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ যে দামে বিক্রি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তা গাড়িটির দামের তুলনায় অনেক বেশি।

একটি পোশাক কীভাবে ব্যক্তিগত জীবনের একটি মুহূর্তকে ইতিহাস ও জনপ্রিয় সংস্কৃতির অংশে পরিণত করতে পারে, ডায়ানার এই কালো পোশাক তার অন্যতম উদাহরণ। তিন দশক পরও পোশাকটি শুধু একটি ফ্যাশন সামগ্রী নয়; এটি ডায়ানার জনসম্মুখে নিজের অবস্থান প্রকাশের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবেই রয়ে গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের বিশাল বাজারকে এক কণ্ঠে কথা বলাতে বেইজিংয়ের নতুন কৌশল

ডায়ানার আলোচিত ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ উঠছে নিলামে, দাম উঠতে পারে ৩ লাখ ডলার

০৭:১২:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রিন্সেস ডায়ানার বিখ্যাত কালো পোশাক, যা বিশ্বজুড়ে ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ নামে পরিচিত, এবার নিলামে উঠতে যাচ্ছে। ১৯৯৪ সালে লন্ডনের সার্পেন্টাইন গ্যালারিতে একটি অনুষ্ঠানে এই পোশাক পরে হাজির হয়েছিলেন প্রয়াত প্রিন্সেস অব ওয়েলস। সেই রাতেই তৎকালীন স্বামী প্রিন্স চার্লস বিবাহিত জীবনে পরকীয়ার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিলেন।

ডায়ানার সেই নাটকীয় উপস্থিতি পরবর্তী সময়ে জনপ্রিয় সংস্কৃতির অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্তে পরিণত হয়। কালো রঙের, কাঁধখোলা, রেশমের এই পোশাকটি তৈরি করেছিলেন গ্রিক ডিজাইনার ক্রিস্টিনা স্ট্যাম্বোলিয়ান। পোশাকটির অসমান হেমলাইন এবং শিফনের লম্বা ট্রেন সেই সময়ের ফ্যাশনে ডায়ানার সাহসী উপস্থিতিকে আরও দৃশ্যমান করে তুলেছিল।

নিলামকারী প্রতিষ্ঠান সোথবিজের ধারণা, আগামী ৯ ডিসেম্বর নিলামে পোশাকটির দাম সর্বোচ্চ ২ লাখ ২০ হাজার পাউন্ড বা প্রায় ৩ লাখ মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ১৯৯৭ সালে ডায়ানা নিজে তাঁর বেশ কিছু পোশাক নিলামে বিক্রি করার পর এই প্রথম পোশাকটি আবার নিলামে উঠছে। সে সময় ক্যানসার ও এইডসসহ বিভিন্ন দাতব্য কাজে অর্থ সংগ্রহের জন্য তিনি ৭৯টি পোশাক বিক্রি করেছিলেন।

সোথবিজের বৈশ্বিক ফ্যাশন ও হ্যান্ডব্যাগ বিভাগের প্রধান মরগান হালিমি বলেন, ডায়ানা স্বাভাবিকভাবেই বুঝতে পেরেছিলেন যে পোশাকও নিজের বক্তব্য প্রকাশের একটি শক্তিশালী ভাষা হতে পারে। তাঁর ভাষায়, জীবনের অত্যন্ত আবেগঘন ও কঠোরভাবে পর্যবেক্ষিত একটি সময়ে ডায়ানা নিজের পছন্দের পোশাকের মাধ্যমে নিজের গল্পের নিয়ন্ত্রণ আবার নিজের হাতে নিয়েছিলেন।

১৯৯৪ সালের সেই সন্ধ্যায় সার্পেন্টাইন গ্যালারিতে একটি তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে ডায়ানা শেষ মুহূর্তে তাঁর পোশাক বদলে ফেলেন। শুরুতে তিনি ভ্যালেন্তিনোর একটি তুলনামূলকভাবে কম নজরকাড়া গাউন পরার পরিকল্পনা করেছিলেন। পরে সেটি বাদ দিয়ে স্ট্যাম্বোলিয়ানের তৈরি কালো পোশাকটি বেছে নেন।

পোশাকটির সঙ্গে ডায়ানা পরেছিলেন একটি রাজকীয় নেকলেস, কালো ক্লাচ এবং কালো হিল। তাঁর এই সাজ ছিল একই সঙ্গে মার্জিত, সাহসী এবং নজরকাড়া।

সেই রাতে ডায়ানার উপস্থিতির গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় কারণ কয়েক বছর ধরে চার্লস ও ডায়ানার দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছিল। এর মধ্যে একটি তথ্যচিত্রে প্রিন্স চার্লস তাঁর বিবাহিত জীবনে অবিশ্বস্ত হওয়ার কথা স্বীকার করেন। অনুষ্ঠানটির কয়েক দিন আগেই সাক্ষাৎকারের বিষয়বস্তু সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। ফলে ওই সাক্ষাৎকার প্রচারের পর ডায়ানার প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতিকে অনেকেই তাঁর স্বামীর স্বীকারোক্তির জবাব হিসেবে দেখেছিলেন।

ডায়ানার তৎকালীন স্টাইলিস্ট আনা হার্ভেকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছিল, রাজকুমারী সেদিন এমনভাবে উপস্থিত হতে চেয়েছিলেন যেন তাঁকে দেখে মনে হয় তিনি ‘এক মিলিয়ন ডলারের মতো’ দেখাচ্ছেন।

পরে এই পোশাকই ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ নামে পরিচিতি পায়। নামটির সঙ্গে ডায়ানার ব্যক্তিগত জীবনের সেই কঠিন সময়ের যোগ থাকলেও পোশাকটি ধীরে ধীরে তাঁর ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার প্রতীক হয়ে ওঠে।Princess Diana's iconic 'revenge dress' could fetch $300,000 at auction |  National | times-georgian.com

১৯৯৭ সালের নিলামে পোশাকটি কিনেছিলেন তৎকালীন গ্লাসগোর বাসিন্দা ব্রিজ ম্যাকেঞ্জি ও তাঁর স্বামী গ্রেম। তাঁরা এর জন্য ৩৯ হাজার ৯৮ পাউন্ড দিয়েছিলেন। তখন ম্যাকেঞ্জি জানিয়েছিলেন, পোশাকটি পরার জন্য তাঁরা কেনেননি। বরং এর বিক্রির অর্থ দাতব্য কাজে যাওয়ায় তাঁরা এটি কিনেছিলেন।

সোথবিজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ম্যাকেঞ্জি বলেন, তিনি ও তাঁর প্রয়াত স্বামী দুজনেই জানতেন যে পোশাকটি বিশেষ কিছু। তাঁর ভাষায়, ডায়ানা যেন জীবনের সবচেয়ে কঠিন রাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, অথচ তাঁকে দেখে তা বোঝার কোনো উপায় ছিল না। ছবি তোলার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই একটি সাধারণ ককটেল পোশাক যেন শক্তিশালী এক বক্তব্যে পরিণত হয়েছিল।

ম্যাকেঞ্জি আরও বলেন, ৩০ বছর পরও পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় শুধু ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ বললেই মানুষ বুঝতে পারে কোন পোশাকটির কথা বলা হচ্ছে।

স্বামীর মৃত্যুর পর পোশাকটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ম্যাকেঞ্জি। তিনি জানান, তাঁর স্বামীর সঙ্গে পোশাকটি কেনার নিলামে অংশ নেওয়া তাঁদের জীবনের অন্যতম স্মরণীয় দিন ছিল।

এবারের নিলামে পোশাকটির সঙ্গে ১৯৯৭ সালের বিরল নিলাম ক্যাটালগের একটি কপিও বিক্রি হবে। ক্যাটালগটিতে ডায়ানা ও ক্রিস্টিনা স্ট্যাম্বোলিয়ানের স্বাক্ষর রয়েছে। এতে পোশাকটি নিলামে তোলার ধারণার সঙ্গে ডায়ানার বড় ছেলে প্রিন্স উইলিয়ামের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন নিলাম থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ রয়্যাল এডিনবার্গ হাসপাতালের জন্য এনএইচএস লোথিয়ান চ্যারিটিতে দেওয়া হবে।

নিলামের আগে পোশাকটি বিশ্বের বিভিন্ন শহরে প্রদর্শন করা হবে। ১৮ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এটি সোথবিজের লন্ডন শোরুমে থাকবে। এরপর অক্টোবরের শুরুতে হংকং, নভেম্বরের শুরুতে জেনেভা এবং পরে নিউইয়র্কে নেওয়া হবে। শেষ পর্যন্ত নিউইয়র্ক থেকেই ৯ ডিসেম্বর নিলামটি অনুষ্ঠিত হবে।

ডায়ানার পোশাকের প্রতি সংগ্রাহকদের আগ্রহ নতুন নয়। ২০২৩ সালে সোথবিজের নিউইয়র্ক নিলামে সাদা ভেড়ার সারির মধ্যে একটি কালো ভেড়ার নকশা থাকা তাঁর বিখ্যাত সোয়েটার ৯ লাখ ২০ হাজার পাউন্ডে বিক্রি হয়েছিল।

ডায়ানা যে গাড়িতে করে সেই ঐতিহাসিক রাতে সার্পেন্টাইন গ্যালারিতে গিয়েছিলেন, সেই ভিনটেজ জাগুয়ার এক্সজে৪০-ও চলতি বছরের শুরুতে নিলামে বিক্রি হয়েছে। গাড়িটির দাম উঠেছিল ৬৬ হাজার ২৫০ পাউন্ড। তবে এবার ডায়ানার ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ যে দামে বিক্রি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তা গাড়িটির দামের তুলনায় অনেক বেশি।

একটি পোশাক কীভাবে ব্যক্তিগত জীবনের একটি মুহূর্তকে ইতিহাস ও জনপ্রিয় সংস্কৃতির অংশে পরিণত করতে পারে, ডায়ানার এই কালো পোশাক তার অন্যতম উদাহরণ। তিন দশক পরও পোশাকটি শুধু একটি ফ্যাশন সামগ্রী নয়; এটি ডায়ানার জনসম্মুখে নিজের অবস্থান প্রকাশের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবেই রয়ে গেছে।