তাইপেইয়ে রাশিয়ার একটি পুরনো সোভিয়েত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ঘিরে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তাইওয়ানের সরকার এই ঘটনাকে চীন ও রাশিয়ার যৌথ প্রচারণা কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছে।
তাইপেইয়ের একটি ভবনে গত সপ্তাহে ১৯৪৫ সালে নির্মিত সোভিয়েত প্রামাণ্যচিত্র দ্য ডিফিট অব মিলিটারিস্ট জাপান প্রদর্শন করা হয়, যা রাশিয়ার পক্ষ থেকে স্মাশিং মিলিটারিস্ট জাপান নামে অনুবাদ করা হয়েছে। সাদাকালো এই চলচ্চিত্রে মাঞ্চুরিয়া ও কুরিল দ্বীপপুঞ্জে জাপান অধিকৃত এলাকায় সোভিয়েত হামলার দৃশ্য এবং জাপানি সামরিকতন্ত্রের নিন্দাসূচক ধারাভাষ্য রয়েছে, পাশাপাশি চীনা বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নিপীড়নের চিত্রও দেখানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রায় বিশজন তাইওয়ানি শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন। তাইপেইয়ে রাশিয়ার প্রতিনিধি দপ্তরের উপ-প্রতিনিধি সের্গেই চুদোদেয়েভ এবং প্রতিনিধি পাভেল লাপিনও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
তাইওয়ানের প্রতিক্রিয়া
তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, তারা চীন ও রাশিয়ার তথাকথিত জ্ঞানীয় যুদ্ধ কৌশলের সহযোগিতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পরিষদের বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশ নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে প্রচারণা জোরদার করে ঐতিহাসিক সত্য ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে বিকৃত করার চেষ্টা করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তাইওয়ান বৈধ আন্তর্জাতিক আদান-প্রদানকে সম্মান করে, তবে যেকোনো কার্যক্রমে ঐতিহাসিক সত্য এবং গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার মতো সর্বজনীন মূল্যবোধ মেনে চলা উচিত।
চীন-জাপান সমীকরণ
তাইওয়ান মনে করছে, এই প্রদর্শনী চীনের নতুন সামরিকতাবাদ শীর্ষক বয়ানকে শক্তিশালী করার একটি প্রচেষ্টা, যা জাপানকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে। ২০২৫ সালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির এক মন্তব্যের পর এই উত্তেজনা আরও বেড়েছে, যেখানে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন চীন তাইওয়ানে হামলা চালালে জাপান সামরিকভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।
রাশিয়া-চীন সম্পর্কের প্রেক্ষাপট
রাশিয়া ও চীনের যৌথ বিবৃতিতে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পুনঃসামরিকীকরণের বিরুদ্
চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু নিয়ে বিতর্ক
দ্য ডিফিট অব মিলিটারিস্ট জাপান শীর্ষক এই প্রামাণ্যচিত্রে মাঞ্চুরিয়া ও কুরিল দ্বীপপুঞ্জে সোভিয়েত সেনাদের অভিযানের ফুটেজ এবং জাপানি সেনাবাহিনীর হাতে চীনা বেসামরিক নাগরিকদের নিপীড়নের দৃশ্য রয়েছে। রাশিয়ার তাইপেই প্রতিনিধি দপ্তর নিজেই এই আয়োজন করে, যা তাইওয়ানের মতো এলাকায় রুশ কূটনৈতিক তৎপরতার একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ তাইওয়ানের সঙ্গে রাশিয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।
জাপানের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা
এখন পর্যন্ত জাপান সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রদর্শনী নিয়ে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে টোকিও ও মস্কোর মধ্যে কুরিল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দীর্ঘদিনের ভূখণ্ডগত বিরোধ বিবেচনায় নিলে, এই ধরনের প্রচারণামূলক কার্যক্রম জাপানের কূটনৈতিক মহলে বাড়তি সতর্কতা তৈরি করতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
তাইওয়ান প্রণালীতে উত্তেজনার ছায়া
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্তব্যের পর থেকে তাইওয়ান প্রণালী ঘিরে টোকিও, বেইজিং ও তাইপেইয়ের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার মতো তৃতীয় পক্ষের প্রচারণামূলক তৎপরতা এই অঞ্চলের ইতিমধ্যে জটিল কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করছে বলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















