০৭:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক চাপের মাঝে ফেডের সামনে সুদ বাড়ানোর কঠিন সিদ্ধান্ত স্কুলশিশুরা কেন দিন দিন কম মেধাবী হয়ে উঠছে? ডেমোক্র্যাটদের বিভক্তিই কি তাদের শক্তি? ট্রাম্পের ঐক্যবদ্ধ রিপাবলিকানদের নিয়ে নতুন প্রশ্ন মরিয়ম নওয়াজের সমালোচনার জবাব, ‘আসল বিষয় তার জনপ্রিয়তা’: মারিয়ম আওরঙ্গজেব ইচ্ছামৃত্যু বিল নাকচ করল যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট ২০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য টাং চি-হওয়ার করাচিতে ১৪-১৬ সেপ্টেম্বর বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস আদানির বিদ্যুৎ কমার সময়েই তারেকের ভারত সফর বাতিল, কাকতালীয় নাকি অন্য কিছু? ব্রিকসের বিস্তারে গ্লোবাল সাউথে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা মেটা স্মার্ট চশমায় প্রকাশ্যে মানুষকে ধারণ: গোপনীয়তা কতটা নিরাপদ?

মান্দালয়ে সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা প্রতিরোধ বাহিনীর

মিয়ানমারের জাতীয় ঐক্য সরকারের সশস্ত্র শাখা পিপলস ডিফেন্স ফোর্স দাবি করেছে, তারা মান্দালয়ের তাদা-উ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চত্বরে থাকা একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবারের এই হামলায় বিমানবন্দরটি দুই দিনের জন্য বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ, ফলে ব্যাহত হয় শহরটির অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচলও।

জাতীয় ঐক্য সরকারের মুখপাত্র নেই ফোন লাত জানান, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বিমান হামলা চালানো যুদ্ধবিমান যে অংশে রাখা হয়েছিল, শুধু সেই অংশকেই লক্ষ্য করা হয়েছে। বারোটি ইউনিট এই অভিযানে অংশ নেয় বলে জানানো হয়েছে। ভিডিওতে যুদ্ধবিমান রাখা হ্যাঙ্গারের দিকে ড্রোন এগিয়ে যেতে দেখা গেলেও প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি স্পষ্ট নয়। প্রতিরোধ বাহিনীর দাবি, লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনে তারা বেসামরিক এলাকা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছে।

পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের দাবি, হামলায় এক কর্নেলসহ পাঁচজন সেনা সদস্য এবং তাদের নিজস্ব তিনজন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে সেনাবাহিনী ড্রোন অনুপ্রবেশের কথা স্বীকার করলেও দাবি করেছে, সব বিমানকে নিরাপদে সরিয়ে বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে এবং কোনো হতাহত বা অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়নি। সরকারপন্থী গণমাধ্যম এই ঘটনাকে কেবল অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের সাময়িক বিঘ্ন হিসেবেই তুলে ধরেছে। স্বতন্ত্র সূত্রে কোনো দাবিই যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের পর থেকে চলা পাঁচ বছরের এই সংঘাতে প্রচলিত অস্ত্রশক্তিতে সেনাবাহিনীর সুবিধা কাটাতে ক্রমেই উন্নত ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে প্রতিরোধ বাহিনীগুলো। সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের জন্যও প্রতিবেশী দেশের এই দীর্ঘায়িত সংঘাত নিরাপত্তা ও শরণার্থী পরিস্থিতির দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে থাকছে, বিশেষত রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের সঙ্গে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির সম্পর্ক যেভাবে দিনে দিনে জটিল হচ্ছে। সামরিক জান্তা এখনো পশ্চিম মিয়ানমারের বড় অংশে নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারেনি, ফলে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে অস্থিতিশীলতা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিচ্ছে।

দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবির ভিড়ে সত্যিটা যেখানেই থাক, বিমানবন্দরের রানওয়ে দুই দিন বন্ধ থাকার ঘটনাই বলে দিচ্ছে মিয়ানমারের আকাশ এখনো কতটা অনিশ্চিত।

জনপ্রিয় সংবাদ

মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক চাপের মাঝে ফেডের সামনে সুদ বাড়ানোর কঠিন সিদ্ধান্ত

মান্দালয়ে সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা প্রতিরোধ বাহিনীর

০৫:০৬:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মিয়ানমারের জাতীয় ঐক্য সরকারের সশস্ত্র শাখা পিপলস ডিফেন্স ফোর্স দাবি করেছে, তারা মান্দালয়ের তাদা-উ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চত্বরে থাকা একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবারের এই হামলায় বিমানবন্দরটি দুই দিনের জন্য বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ, ফলে ব্যাহত হয় শহরটির অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচলও।

জাতীয় ঐক্য সরকারের মুখপাত্র নেই ফোন লাত জানান, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বিমান হামলা চালানো যুদ্ধবিমান যে অংশে রাখা হয়েছিল, শুধু সেই অংশকেই লক্ষ্য করা হয়েছে। বারোটি ইউনিট এই অভিযানে অংশ নেয় বলে জানানো হয়েছে। ভিডিওতে যুদ্ধবিমান রাখা হ্যাঙ্গারের দিকে ড্রোন এগিয়ে যেতে দেখা গেলেও প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি স্পষ্ট নয়। প্রতিরোধ বাহিনীর দাবি, লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনে তারা বেসামরিক এলাকা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছে।

পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের দাবি, হামলায় এক কর্নেলসহ পাঁচজন সেনা সদস্য এবং তাদের নিজস্ব তিনজন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে সেনাবাহিনী ড্রোন অনুপ্রবেশের কথা স্বীকার করলেও দাবি করেছে, সব বিমানকে নিরাপদে সরিয়ে বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে এবং কোনো হতাহত বা অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়নি। সরকারপন্থী গণমাধ্যম এই ঘটনাকে কেবল অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের সাময়িক বিঘ্ন হিসেবেই তুলে ধরেছে। স্বতন্ত্র সূত্রে কোনো দাবিই যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের পর থেকে চলা পাঁচ বছরের এই সংঘাতে প্রচলিত অস্ত্রশক্তিতে সেনাবাহিনীর সুবিধা কাটাতে ক্রমেই উন্নত ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে প্রতিরোধ বাহিনীগুলো। সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের জন্যও প্রতিবেশী দেশের এই দীর্ঘায়িত সংঘাত নিরাপত্তা ও শরণার্থী পরিস্থিতির দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে থাকছে, বিশেষত রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের সঙ্গে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির সম্পর্ক যেভাবে দিনে দিনে জটিল হচ্ছে। সামরিক জান্তা এখনো পশ্চিম মিয়ানমারের বড় অংশে নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারেনি, ফলে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে অস্থিতিশীলতা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিচ্ছে।

দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবির ভিড়ে সত্যিটা যেখানেই থাক, বিমানবন্দরের রানওয়ে দুই দিন বন্ধ থাকার ঘটনাই বলে দিচ্ছে মিয়ানমারের আকাশ এখনো কতটা অনিশ্চিত।