০৭:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক চাপের মাঝে ফেডের সামনে সুদ বাড়ানোর কঠিন সিদ্ধান্ত স্কুলশিশুরা কেন দিন দিন কম মেধাবী হয়ে উঠছে? ডেমোক্র্যাটদের বিভক্তিই কি তাদের শক্তি? ট্রাম্পের ঐক্যবদ্ধ রিপাবলিকানদের নিয়ে নতুন প্রশ্ন মরিয়ম নওয়াজের সমালোচনার জবাব, ‘আসল বিষয় তার জনপ্রিয়তা’: মারিয়ম আওরঙ্গজেব ইচ্ছামৃত্যু বিল নাকচ করল যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট ২০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য টাং চি-হওয়ার করাচিতে ১৪-১৬ সেপ্টেম্বর বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস আদানির বিদ্যুৎ কমার সময়েই তারেকের ভারত সফর বাতিল, কাকতালীয় নাকি অন্য কিছু? ব্রিকসের বিস্তারে গ্লোবাল সাউথে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা মেটা স্মার্ট চশমায় প্রকাশ্যে মানুষকে ধারণ: গোপনীয়তা কতটা নিরাপদ?

ইরাক থেকে ছোড়া ড্রোনে জ্বলল সৌদির তেল পাইপলাইন

লোহিত সাগরের দিকে বয়ে যাওয়া সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ড্রোন হামলার পর তা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে রিয়াদ। ইরাকি ভূখণ্ড থেকে ছোড়া ড্রোনগুলো বৃহস্পতিবার সকালে পাইপলাইনে আঘাত হানার পর আগুন ধরে যায়, উপগ্রহ চিত্রে মদিনার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ধরে কালো ধোঁয়ার দীর্ঘ কুণ্ডলী দেখা গেছে। হামলাস্থল থেকে বহু কিলোমিটার দূর থেকেও সেই ধোঁয়া স্পষ্ট ধরা পড়েছে উপগ্রহ ছবিতে।

আবকাইক থেকে ইয়ানবু বন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত এই পাইপলাইন হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান পথ। চলতি বছরের জুন নাগাদ লোহিত সাগরীয় এই বন্দর দিয়ে দৈনিক ৫০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করছিল সৌদি আরব, ফলে হামলার পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই একক পাইপলাইনের ওপর নির্ভরতা বাড়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যেকোনো হামলার প্রভাব আগের চেয়ে অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে বিশ্ব তেল বাজারে।সৌদির পাইপলাইনে ইরাক থেকে ড্রোন হামলা, বন্ধ তেল সরবরাহ | NTV Online

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরাক থেকে একাধিক ড্রোনের মাধ্যমে চালানো এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এতে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হুথি বাহিনী ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে হামলা পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সহায়তা করেছে। তদন্তে ড্রোনের উৎস নিশ্চিত হওয়ার পর দক্ষিণ ইরাকের মাইসান প্রদেশে দায়িত্বরত এক সামরিক কমান্ডারকে বরখাস্ত করেছে বাগদাদ, যা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনাও কিছুটা প্রশমিত করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই হামলা এমন সময় ঘটল যখন বাব এল-মান্দেব প্রণালির কৌশলগত পেরিম দ্বীপ দখল করে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে বড় ভূখণ্ড অর্জনের রেকর্ড গড়েছে হুথিরা। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই শিপিং লেন ঘিরে অস্থিরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে, আর আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষার তাগিদও আরও বেড়েছে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে সতর্কতা দেখা দিয়েছে, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের একের পর এক অবকাঠামোতে হামলার ঘটনা সরবরাহ শৃঙ্খলে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্যও এই ধরনের অস্থিরতা পরোক্ষভাবে জ্বালানি মূল্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বাজার পর্যবেক্ষকরা।

হরমুজের বিকল্প হিসেবে যে পাইপলাইনকে নিরাপদ ভরসার জায়গা ধরা হচ্ছিল, সেটিই এখন আগুনে পোড়া দাগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় ভরসাকেন্দ্র নিয়ে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক চাপের মাঝে ফেডের সামনে সুদ বাড়ানোর কঠিন সিদ্ধান্ত

ইরাক থেকে ছোড়া ড্রোনে জ্বলল সৌদির তেল পাইপলাইন

০৫:০৩:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লোহিত সাগরের দিকে বয়ে যাওয়া সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ড্রোন হামলার পর তা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে রিয়াদ। ইরাকি ভূখণ্ড থেকে ছোড়া ড্রোনগুলো বৃহস্পতিবার সকালে পাইপলাইনে আঘাত হানার পর আগুন ধরে যায়, উপগ্রহ চিত্রে মদিনার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ধরে কালো ধোঁয়ার দীর্ঘ কুণ্ডলী দেখা গেছে। হামলাস্থল থেকে বহু কিলোমিটার দূর থেকেও সেই ধোঁয়া স্পষ্ট ধরা পড়েছে উপগ্রহ ছবিতে।

আবকাইক থেকে ইয়ানবু বন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত এই পাইপলাইন হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান পথ। চলতি বছরের জুন নাগাদ লোহিত সাগরীয় এই বন্দর দিয়ে দৈনিক ৫০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করছিল সৌদি আরব, ফলে হামলার পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই একক পাইপলাইনের ওপর নির্ভরতা বাড়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যেকোনো হামলার প্রভাব আগের চেয়ে অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে বিশ্ব তেল বাজারে।সৌদির পাইপলাইনে ইরাক থেকে ড্রোন হামলা, বন্ধ তেল সরবরাহ | NTV Online

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরাক থেকে একাধিক ড্রোনের মাধ্যমে চালানো এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এতে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হুথি বাহিনী ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে হামলা পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সহায়তা করেছে। তদন্তে ড্রোনের উৎস নিশ্চিত হওয়ার পর দক্ষিণ ইরাকের মাইসান প্রদেশে দায়িত্বরত এক সামরিক কমান্ডারকে বরখাস্ত করেছে বাগদাদ, যা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনাও কিছুটা প্রশমিত করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই হামলা এমন সময় ঘটল যখন বাব এল-মান্দেব প্রণালির কৌশলগত পেরিম দ্বীপ দখল করে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে বড় ভূখণ্ড অর্জনের রেকর্ড গড়েছে হুথিরা। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই শিপিং লেন ঘিরে অস্থিরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে, আর আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষার তাগিদও আরও বেড়েছে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে সতর্কতা দেখা দিয়েছে, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের একের পর এক অবকাঠামোতে হামলার ঘটনা সরবরাহ শৃঙ্খলে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্যও এই ধরনের অস্থিরতা পরোক্ষভাবে জ্বালানি মূল্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বাজার পর্যবেক্ষকরা।

হরমুজের বিকল্প হিসেবে যে পাইপলাইনকে নিরাপদ ভরসার জায়গা ধরা হচ্ছিল, সেটিই এখন আগুনে পোড়া দাগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় ভরসাকেন্দ্র নিয়ে।