বিশ্ব অর্থনীতির ভারকেন্দ্র এশিয়ার দিকে সরছে, আর এটি বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ, বলেছেন অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান। শনিবার ঢাকায় বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের বিকেলের এক অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন। তার মতে, এশিয়ার উত্থান কাজে লাগাতে দেশে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার দরকার।
রেহমান সোবহান বলেন, চীন ও ভারতের উত্থানে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি বিনিময় বাড়ছে। পশ্চিমা দেশগুলোর দীর্ঘদিনের প্রভাব কমছে, বাড়ছে এশিয়ার রপ্তানি সক্ষমতা। চীন এআই, গবেষণা ও মেধাস্বত্বে দ্রুত এগোচ্ছে। ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে চীনের জিডিপি ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়েছে, ভবিষ্যতে নামমাত্র জিডিপিতেও ছাড়াতে পারে।
তার পর্যবেক্ষণ, যুক্তরাষ্ট্র শুল্ককে চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। কিছু দেশকে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বেশি মার্কিন পণ্য কেনার কথাও বলছে। কিছু ইউরোপীয় দেশও একই পথে হাঁটছে। বিশ্বায়ন থেকে সরে আসায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মতো প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়েছে। তবু এশিয়ার উত্থান থামানো কঠিন বলে মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো হাতে গোনা কয়েকটি বাজারের ওপর নির্ভরশীল, অথচ আমদানির বড় অংশ ও ক্রমবর্ধমান পুঁজিপ্রবাহ আসছে এশিয়া থেকে। চীন ও ভারতের প্রতিবেশী হওয়াকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সুবিধা বলছেন রেহমান সোবহান। আগামী এক দশকে চীন বিশ্বের বৃহত্তম এবং ভারত তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হতে পারে। কিন্তু এই দুই বিশাল বাজারে রপ্তানির সুযোগ বাংলাদেশ এখনো পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি।
সেপ্টেম্বরে রপ্তানি সাড়ে ৮ শতাংশ বাড়লেও তার প্রায় ৭৮ শতাংশই এসেছে পোশাক খাত থেকে। এলডিসি উত্তরণের আগে বাজার ও পণ্যে বৈচিত্র্যের তাগিদ তাই আরও জোরালো। এশিয়ার উত্থান থেকে লাভবান হতে আঞ্চলিক সরবরাহ শৃঙ্খলে যুক্ত হওয়া এবং এশীয় বাজারের সঙ্গে গভীর সংযোগ গড়াই এখন বড় কাজ। ৩ থেকে ৫ অক্টোবর চলা এ সম্মেলনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ বক্তা অংশ নিচ্ছেন।











