ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর কোলচুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২৬ শিক্ষার্থী ছাড়পত্র নিয়ে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধ, হুমকির অভিযোগ এবং পড়াশোনার অনুকূল পরিবেশ না থাকার কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভাষাণচর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর বাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন অভিভাবকরা। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অভিভাবক মুন্নাফ শেখ।
অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে সাবেক প্রধান শিক্ষক আ. সামাদের মেয়েকে সমর্থন না করায় তাদের ওপর ক্ষোভ তৈরি হয়। এরপর সাবেক প্রধান শিক্ষক ও তার ছেলেরা বিভিন্ন সময়ে অভিভাবকদের হুমকি দিয়েছেন বলে দাবি করেন তারা। এ পরিস্থিতিতে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তারা বিদ্যালয় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন।
মুন্নাফ শেখ বলেন, সাবেক প্রধান শিক্ষক আ. সামাদের মেয়েকে পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে সমর্থন না করায় তিনি ও তার ছেলে বিভিন্ন সময়ে অভিভাবকদের হুমকি দিয়েছেন বলে তাদের অভিযোগ। সন্তানদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই তারা অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করেছেন।
অভিভাবক মো. আকল শেখ জানান, তার ছেলে ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সন্তানের পড়াশোনা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি ছাড়পত্র নিয়ে ছেলেকে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করেছেন।
অভিভাবক মাকসুদা বেগমও বিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তার ভাষ্য, সন্তানদের নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করতেই বিদ্যালয় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অভিভাবকরা আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী খান শিক্ষকতার পাশাপাশি পশু চিকিৎসা, বিবাহ নিবন্ধন এবং স্থানীয় বিভিন্ন কাজে যুক্ত থাকেন। এতে বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রয়োজনীয় মনোযোগ ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আ. সামাদ। তার বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন, পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সত্য নয়।
আ. সামাদ বলেন, অবসর নেওয়ার পর তিনি বিদ্যালয়ে যান না। তার দাবি, একটি মহল নিজেদের স্বার্থে অভিভাবকদের ব্যবহার করছে।
অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী খান বলেন, তিনি অল্প পরিসরে পশু চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বিদ্যালয়ের দায়িত্ব বাদ দিয়ে তা করেন না। তার দাবি, বিদ্যালয়ের সময় তিনি শ্রেণিকক্ষেই থাকেন। তবে বিশেষ প্রয়োজনে মাঝে মধ্যে উপজেলা শিক্ষা অফিসে যেতে হয়।
অভিভাবকরা জানান, তাদের মূল লক্ষ্য সন্তানদের নিরাপত্তা এবং স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা। বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী যেন ভয় বা আতঙ্কের মধ্যে না থাকে এবং সবাই যাতে নিরাপদে বিদ্যালয়ে গিয়ে পড়াশোনা করতে পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ চান তারা।












