জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে পানি ব্যবহারের মাধ্যমে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে পাকিস্তান। দেশটির অভিযোগ, সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারতের সাম্প্রতিক অবস্থান আন্তঃসীমান্ত পানিসম্পদকে রাজনৈতিক চাপ ও প্রভাব বিস্তারের উপকরণে পরিণত করার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ৬৩তম অধিবেশনে নিরাপদ পানীয় পানি ও স্যানিটেশনের মানবাধিকার নিয়ে একটি প্রস্তাব বিবেচনার সময় এ অবস্থান তুলে ধরেন পাকিস্তানের ফার্স্ট সেক্রেটারি আদিল মুমতাজ খোখার।
জার্মানি ও স্পেনের উপস্থাপিত প্রস্তাবটি কোনো ভোট ছাড়াই গৃহীত হয়। এতে আন্তঃসীমান্ত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও সহযোগিতার বিষয়টি রাখার ক্ষেত্রে পাকিস্তান সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে বলে জানায় ইসলামাবাদ।
পাকিস্তানের দাবি, প্রস্তাবের চূড়ান্ত পাঠ থেকে আন্তঃসীমান্ত পানি সহযোগিতার উল্লেখ বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল ভারত। নয়াদিল্লির যুক্তি ছিল, মানবাধিকারের নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনবিষয়ক প্রস্তাবে আন্তঃসীমান্ত পানি সহযোগিতার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা এর পরিধির বাইরে।
তবে পাকিস্তান এর সঙ্গে একমত হয়নি। ইসলামাবাদের বক্তব্য, অভিন্ন নদী ও পানিসম্পদের ওপর একাধিক দেশের নির্ভরতা থাকায় পানি ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা সরাসরি নিরাপদ পানি পাওয়ার মানবাধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত।
প্রস্তাবটি বিবেচনার সময় খোখার বলেন, কোনো নদী বা পানিসম্পদ যখন একাধিক দেশের মধ্যে ভাগাভাগি হয়, তখন সেই পানির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে ভাগাভাগি থাকে। তাঁর ভাষায়, অভিন্ন পানির ক্ষেত্রে দায়িত্বও অভিন্ন।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে অভিন্ন পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা কোনো পক্ষের অনুগ্রহ বা ছাড়ের বিষয় নয়; বরং এটি পারস্পরিক দায়িত্বের অংশ।
পাকিস্তানের প্রতিনিধি আরও বলেন, উজানের কোনো দেশ পানিকে রাজনৈতিক চাপ বা প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে না। পানি ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা ও পারস্পরিক দায়িত্বের নীতি অনুসরণ করা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারতের একতরফা পদক্ষেপের প্রসঙ্গ তুলে পাকিস্তান একে ‘পানির অস্ত্রায়ন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ইসলামাবাদ বলেছে, পানি যেন কোনোভাবেই চাপ প্রয়োগ, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার বা যুদ্ধের উপকরণে পরিণত না হয়।
প্রস্তাবের চূড়ান্ত পাঠে আন্তঃসীমান্ত পানি সহযোগিতার উল্লেখ বহাল থাকায় পাকিস্তান সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।
জাতিসংঘের নথিতে প্রস্তাবটি এ/এইচআরসি/৬৩/এল.৩৪ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর শিরোনাম ‘নিরাপদ পানীয় পানি ও স্যানিটেশনের মানবাধিকার’। জার্মানি ও স্পেন প্রস্তাবটি উত্থাপন করে। আলোচনায় পাকিস্তানের প্রতিনিধি খোখারও বক্তব্য দেন।
প্রস্তাবটি গৃহীত হওয়ার আগে দুটি সংশোধনী—এল.৩৯ ও এল.৪০—নিয়ে ভোট হয়। দুটিই ১০টি ভোট পক্ষে, ১৭টি বিপক্ষে এবং ৯টি ভোটদানে বিরত থাকার ফলে প্রত্যাখ্যাত হয়। এরপর মূল প্রস্তাবটি কোনো ভোট ছাড়াই গ্রহণ করা হয়।
জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ৬৩তম অধিবেশন ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত জেনেভায় অনুষ্ঠিত হয়। এই অধিবেশনে পানি ও স্যানিটেশনকে মানবাধিকার হিসেবে নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।












