ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হবে পাঁচ ধাপে। সারা দেশে প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদে এই ভোট নেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথম ধাপের ভোট হবে আগামী বছরের ২১ জানুয়ারি, শেষ ধাপের ভোট ২৭ মে। সোমবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে কমিশনের সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।
সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের ভোটের তারিখ জানান। দ্বিতীয় ধাপের ভোট হবে ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপ ২৯ এপ্রিল আর চতুর্থ ধাপ ১৩ মে। পাঁচটি ভোটের দিনই পড়েছে বৃহস্পতিবার। প্রথম ধাপে ভোট হবে ৮০টি উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদে। উপজেলা সদরের ইউনিয়ন এবং আইন অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়া পরিষদগুলো অগ্রাধিকার পাবে।
সোমবারের সভায় কমিশনের অন্য চার নির্বাচন কমিশনার ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে ভোটারেরা একজন চেয়ারম্যান, নয়টি ওয়ার্ডের নয়জন সাধারণ সদস্য এবং তিনজন সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য নির্বাচন করবেন। ফলে একজন ভোটারকে একই দিনে তিনটি আলাদা ব্যালটে ভোট দিতে হবে।
প্রতিটি ধাপের তফসিল ঘোষণা করবেন সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা। সানাউল্লাহ জানান, সাধারণত ভোটের ৪২ দিন আগে তফসিল দেওয়া হয়। তবে এই সময় ৩৮ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে কমবেশি হতে পারে। অর্থাৎ প্রথম ধাপের তফসিল আসতে পারে ডিসেম্বরের শুরুতে।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রথমে সাত ধাপে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল ইসির। গত মাসে ঘোষিত সম্ভাব্য সময়সূচিতে ১২ নভেম্বর থেকে ভোট শুরুর কথা বলা হয়েছিল। পরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সঙ্গে বৈঠকে জানানো হয়, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে স্কুলে পরীক্ষা থাকবে। তাই ওই দুই মাসে ভোট না করার পরামর্শ আসে। সানাউল্লাহ বলেন, সময় কম থাকায় ধাপের সংখ্যা সাত থেকে কমিয়ে পাঁচ করা হয়েছে।
কমিশন ২১ জানুয়ারির আগেই ভোট শুরুর চেষ্টা করেছিল বলে জানান এই নির্বাচন কমিশনার। কিন্তু বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতের তারিখ নিয়ে আয়োজকদের অনুরোধে পরিকল্পনা বদলাতে হয়। সামনের ছয়-সাত মাসে দুটি ঈদ, দুটি পরীক্ষা ও বিশ্ব ইজতেমা রয়েছে। ফলে কমিশনের হাতে সময় খুব কম। ভোটের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলো নভেম্বরের মধ্যে প্রশিক্ষণ শেষ করবে বলে কমিশনকে জানিয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে কাছের স্তর। জন্মনিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদ, ভিজিএফ কার্ডসহ নানা সেবা গ্রামের মানুষ এখান থেকেই পান। তাই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। জানুয়ারির শেষভাগ থেকে মে মাসের শেষ পর্যন্ত, প্রায় চার মাস ধরে চলবে এই ভোটের পর্ব। ধাপে ধাপে ভোট হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভোটকর্মীদের এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় সরিয়ে কাজে লাগানো সহজ হবে।
ভোটের আগে ভোটার তালিকায় নিজের নাম ও ভোটকেন্দ্র ঠিক আছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া ভালো। কোনো সমস্যা থাকলে স্থানীয় উপজেলা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করা যায়। প্রার্থী হতে আগ্রহীদের জন্যও তফসিল ঘোষণার আগের সময়টুকু গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মনোনয়নপত্র জমার সময় সাধারণত খুব কম থাকে।












