ভারতে ক্যানসারের চিকিৎসার ব্যয় কমাতে ১৩৭টি ওষুধের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব ওষুধের দাম সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। আগামী ৯ নভেম্বর থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। ক্যানসারের বিভিন্ন ধরন, বিশেষ করে ইমিউনোথেরাপিতে ব্যবহৃত ওষুধও এই মূল্য নিয়ন্ত্রণের আওতায় আসছে।
ভারতের রাসায়নিক ও সার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্যানসারের ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণের আওতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো রোগীদের জন্য চিকিৎসা আরও সাশ্রয়ী করা এবং ওষুধের বাজারে অতিরিক্ত মুনাফা নিয়ন্ত্রণ করা।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন নিয়মে সংশ্লিষ্ট ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের ৩০ শতাংশের মধ্যে বাণিজ্যিক মুনাফার সীমা নির্ধারণ করা হবে। এর ফলে ওষুধের সরবরাহব্যবস্থায় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের মুনাফা সীমিত থাকবে এবং রোগীদের ওষুধ কেনার খরচ কমতে পারে।
নতুন মূল্য নিয়ন্ত্রণের আওতায় থাকা ওষুধের মধ্যে রয়েছে ইমিউনোথেরাপিতে ব্যবহৃত ওষুধ, যা ২০টিরও বেশি ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া স্তন, প্রোস্টেট, কোলন, ডিম্বাশয় ও জরায়ুমুখের ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধও এই সিদ্ধান্তের আওতায় থাকবে।
ক্যানসারের চিকিৎসায় অনেক সময় দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ ব্যবহার করতে হয়। রোগের ধরন ও পর্যায় অনুযায়ী চিকিৎসাপদ্ধতি ভিন্ন হয়। বিশেষ করে আধুনিক কিছু চিকিৎসায় ওষুধের ব্যয় অনেক বেশি হতে পারে। এ কারণে ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের এই উদ্যোগ রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আগের মূল্য নিয়ন্ত্রণের অভিজ্ঞতাও এই সিদ্ধান্তের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০১৯ সালে ভারতের সরকার ৪২টি ক্যানসারের ওষুধের বাণিজ্যিক মুনাফার সীমা নির্ধারণ করেছিল। ওই উদ্যোগের পর ৫২৬টি ব্র্যান্ডের ক্যানসারের ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা দাম সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছিল। এবার আরও বেশি ওষুধকে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার মাধ্যমে সেই উদ্যোগ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য ওষুধ প্রস্তুতকারকদের সংশোধিত দাম নির্ধারণ করে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। পাশাপাশি, খুচরা বিক্রেতা ও হাসপাতালগুলোকে নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর সেই অনুযায়ী ওষুধ বিক্রি করতে হবে। হাসপাতাল ও ওষুধ বিক্রেতাদের কাছে সংশোধিত দাম প্রকাশের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
তবে সব ওষুধের দাম ৭০ শতাংশ কমবে, এমন নয়। ওষুধের ধরন, বিদ্যমান দাম এবং সরবরাহব্যবস্থায় বর্তমানে কতটা বাণিজ্যিক মুনাফা রয়েছে, তার ওপর মূল্যহ্রাসের পরিমাণ নির্ভর করবে। যেসব ওষুধের ক্ষেত্রে বর্তমান মুনাফা নির্ধারিত সীমার নিচে রয়েছে, সেগুলোর দাম কমতেও নাও পারে।
ভারতের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ক্যানসারের চিকিৎসায় ওষুধের অতিরিক্ত মূল্যচাপ কমানো এবং রোগীদের জন্য চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সহজ করা। তবে সিদ্ধান্তটির বাস্তব সুফল কতটা পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে নতুন দাম যথাযথভাবে কার্যকর করা, বাজারে ওষুধের সরবরাহ বজায় রাখা এবং রোগীরা বাস্তবে কতটা কম দামে ওষুধ কিনতে পারছেন, তার ওপর।












