হংকংয়ের জাতিগত সংখ্যালঘু তরুণদের সমাজের মূলধারায় যুক্ত করতে শিক্ষা, আবাসন ও কর্মসংস্থানে আরও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এক লেখক। তাঁর মতে, ভাষা শিক্ষা, চাকরির সহায়তা ও কমিউনিটিভিত্তিক সেবায় সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ স্বাগত জানানোর মতো। তবে শিক্ষা ও আবাসনে বৈষম্য এবং ভাষাগত যোগ্যতার শর্তের কারণে অনেক সংখ্যালঘু এখনো সমান সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
হংকংয়ের সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টে প্রকাশিত পাঠকের চিঠিতে আহমেদ আশফাক বলেছেন, শহরটিতে জন্ম নেওয়া ও বেড়ে ওঠা বহু সংখ্যালঘু তরুণ স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন এবং সেখানেই ভবিষ্যৎ গড়তে চান। তাঁদের সমাজে কার্যকরভাবে যুক্ত করা কেবল ন্যায্যতার প্রশ্ন নয়; এটি সামাজিক সংহতি, অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ এবং হংকংয়ের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতার সক্ষমতার সঙ্গেও সম্পর্কিত।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৈচিত্র্য বাড়ানোর প্রস্তাব
চিঠিতে বলা হয়েছে, চীনা ভাষায় কথা বলতে পারেন না বা চীনা ভাষাভাষী নন, এমন অনেক শিক্ষার্থী এখনো অল্প কয়েকটি স্কুলে কেন্দ্রীভূত। ফলে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁদের নিয়মিত মেলামেশার সুযোগ সীমিত থাকে। একই সঙ্গে ক্যান্টনিজ ভাষা শেখার ক্ষেত্রেও তাঁরা পিছিয়ে পড়তে পারেন।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় হংকংয়ের শিক্ষা ব্যুরোকে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত স্কুলগুলোতে সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের জন্য সীমিতসংখ্যক নমনীয় আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এসব আসন ব্যবহার না হলে সেগুলো সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এতে কঠোর কোটা চালু না করেই বিভিন্ন পটভূমির শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো সম্ভব হতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষার্থীদের সুযোগ ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কাও কমবে।
আবাসনে বৈষম্য কমানোর উদ্যোগ
সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর জন্য আরেকটি বড় বাধা হলো বাসস্থান। বেসরকারি বাড়িভাড়ার বাজারে বৈষম্যমূলক আচরণ এবং আবাসনের উচ্চ ব্যয়ের কারণে অনেক পরিবার পুরোনো, তুলনামূলক কম ভাড়ার এলাকায় কিংবা ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত বাসায় থাকতে বাধ্য হয়। এর ফলে নির্দিষ্ট এলাকায় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বসবাস আরও কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ে।
এ সমস্যা কমাতে আবাসন কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন সরকারি আবাসন এলাকায় সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর বসবাসে উৎসাহ দিতে বরাদ্দসংক্রান্ত প্রণোদনা এবং দ্বিভাষিক যোগাযোগব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সমান সুযোগ কমিশনের মাধ্যমে বেসরকারি ভাড়াবাজারে বৈষম্যমূলক আচরণ প্রতিরোধে নজরদারি ও উদ্যোগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
চাকরিতে ভাষার শর্ত আরও নমনীয় করার আহ্বান
কর্মসংস্থানেও ভাষাগত যোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ বাধা হয়ে উঠতে পারে। হংকংয়ের অনেক চাকরিতে, এমনকি সরকারি খাতের কিছু পদেও, ক্যান্টনিজ, মান্দারিন ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা চাওয়া হয়। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকার কিছু সরকারি পদের ক্ষেত্রে চীনা ভাষার যোগ্যতা শিথিল করেছে বা নমনীয়ভাবে প্রয়োগ করেছে, বাস্তবে এই শর্ত কিছু চাকরিপ্রার্থীর সুযোগ সীমিত করতে পারে।
এ কারণে বিভিন্ন সরকারি বিভাগ ও সংস্থাকে কাজের ধরন অনুযায়ী চীনা ভাষার দক্ষতা যাচাইয়ের পদ্ধতি চালু করা, দ্বিভাষিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং এসব বিকল্প সম্পর্কে স্পষ্টভাবে তথ্য জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
আহমেদ আশফাকের মতে, বড় ধরনের সংস্কার ছাড়াও এ ধরনের ছোট পদক্ষেপ বিদ্যমান উদ্যোগগুলোকে আরও কার্যকর করতে পারে। স্কুল, নিয়োগদাতা, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় এলাকার সম্মিলিত দায়িত্বের মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে হংকংয়ের সামাজিক সংহতি আরও শক্তিশালী হবে।
চীনের সঞ্চয় সংস্কৃতি বোঝার তাগিদ
একই পাতায় প্রকাশিত আরেক পাঠকের চিঠিতে এডওয়ার্ড শেন চীনের অর্থনীতি ও মানুষের সঞ্চয়প্রবণতা নিয়ে ভিন্ন একটি দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বা সংঘাতের বিষয়টি বিবেচনার সময় পশ্চিমা দেশগুলোর উচিত দেশটির ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ বোঝা।
শেনের যুক্তি, বিদেশি শোষণ, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দীর্ঘদিনের সংঘাতের অভিজ্ঞতা চীনকে দ্রুত অর্থনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে উৎসাহিত করেছে। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, চীনা সরকার অভ্যন্তরীণ ভোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে চীনের মানুষের মধ্যে ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার জন্য অর্থ সঞ্চয় করে রাখার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে এসেছে।
তাঁর মতে, চীনের সঞ্চয়প্রবণতাকে শুধু সরকারের ভোগ বাড়ানোর নীতির ব্যর্থতা হিসেবে দেখা ঠিক নয়। দেশটির ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিলেই এ প্রবণতা যথাযথভাবে বোঝা সম্ভব।
হংকংয়ে সংখ্যালঘুদের একীভূত করা এবং চীনের অর্থনৈতিক আচরণ বোঝার এই দুই চিঠিতে একটি সাধারণ বিষয় উঠে এসেছে: সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বুঝতে নীতির পাশাপাশি মানুষের অভিজ্ঞতা, সংস্কৃতি এবং সুযোগের সীমাবদ্ধতাও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।












