আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার দাম বেড়ে টনপ্রতি ১৫৪ মার্কিন ডলারে পৌঁছানোর পর উৎপাদন কোটা সীমিতভাবে শিথিল করার কথা বিবেচনা করছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। দেশটির জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী এবং সমন্বিত ডাউনস্ট্রিম ও জ্বালানি রূপান্তরবিষয়ক মন্ত্রী বাহলিল লাহাদালিয়া বলেছেন, অনুকূল দাম কাজে লাগিয়ে কয়লা উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য বজায় রাখাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সোমবার জাকার্তায় প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে সীমিত পরিসরের মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর তিনি এ কথা জানান। তাঁর মতে, কয়লার বাড়তি দাম কাজে লাগাতে পারলে খনিজ ও কয়লা খাত থেকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ানো সম্ভব। তবে কোটা কতটা বাড়ানো হবে, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা কী হবে কিংবা নতুন ব্যবস্থা কবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট তথ্য দেননি।
দাম বৃদ্ধিতে উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ
ইন্দোনেশিয়ার প্রতি টনে ৬ হাজার ৩৩০ কিলোক্যালরি তাপমূল্যের কয়লার দাম বেড়ে ১৫৪ ডলারে উঠেছে। এই মূল্যবৃদ্ধিকে উৎপাদন বাড়িয়ে অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখছে সরকার।
বাহলিল জানিয়েছেন, উৎপাদন কোটা শিথিলের পরিকল্পনা হবে সীমিত পরিসরে। এর উদ্দেশ্য শুধু উৎপাদন বাড়ানো নয়, বাজারের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে স্বল্পমেয়াদে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়ানোও।
তবে সরকারের ঘোষণায় এখনো স্পষ্ট হয়নি, এই শিথিলতা সব কয়লা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে, নাকি নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানিকে বাড়তি উৎপাদনের অনুমতি দেওয়া হবে।
নিকেল ও বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারিতেও অগ্রগতি
কয়লার পাশাপাশি খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মূল্য সংযোজনের কর্মসূচিতেও অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন বাহলিল। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট প্রাবোও এর আগে উত্তর মালুকুর ওয়েদা বে এলাকায় কয়েকটি কারখানা উদ্বোধন করেছেন।
এ ছাড়া পশ্চিম জাভার কারাওয়াংয়ে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি উৎপাদনব্যবস্থার একটি স্থাপনা উদ্বোধনের প্রস্তুতি চলছে। চীনের সমসাময়িক অ্যাম্পেরেক্স প্রযুক্তি কোম্পানি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ইন্দোনেশিয়া ব্যাটারি করপোরেশনের সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এই উদ্যোগগুলো ইন্দোনেশিয়ার খনিজসম্পদকে কাঁচামাল হিসেবে রপ্তানির বদলে দেশে প্রক্রিয়াজাত করে অধিক মূল্য সংযোজনের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।
বায়ান রিসোর্সেসকে বাড়তি কোটা দেওয়ার নজির
কয়লা উৎপাদনের কোটা নিয়ে সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের একটি নজিরও রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে ইন্দোনেশিয়া সরকার তালিকাভুক্ত বায়ান রিসোর্সেসের তিনটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে চলতি বছরের জন্য অতিরিক্ত ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি টন কয়লা উৎপাদনের অনুমতি দেয়।
অতিরিক্ত কোটা অনুমোদনে বিলম্ব হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি আগে গ্রাহকদের কাছে সরবরাহের দায়বদ্ধতা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছিল এবং চুক্তিগতভাবে অনিবার্য পরিস্থিতির ঘোষণা দিয়েছিল। নতুন অনুমোদনের মাধ্যমে সেই জটিলতার অবসান ঘটে।
এ ঘটনার সময় বায়ান রিসোর্সেসের ৩০ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণের জন্য ইন্দোনেশিয়ার ব্যবসায়ী হাজি ইসামের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান পিটি জনলিন বারাতামা চুক্তি করে। ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটি বায়ানের নিয়ন্ত্রণকারী শেয়ারধারী লো টাক কং ও তাঁর মেয়ে এলেইন লোর সঙ্গে শর্তসাপেক্ষ শেয়ার ক্রয়চুক্তিতে সই করে।
হাজি ইসাম দেশটির রাজনীতিতেও পরিচিত মুখ। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর ২০১৯ সালের নির্বাচনী প্রচারে উপ-অর্থ কোষাধ্যক্ষ ছিলেন এবং ২০২৪ সালে প্রাবোওর নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ অর্থদাতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কয়লার দাম বৃদ্ধির মধ্যে উৎপাদন কোটা শিথিলের সম্ভাবনা ইন্দোনেশিয়ার জ্বালানি ও খনিজ খাতের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। তবে উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্তে বাজারের ভারসাম্য, বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদার মধ্যে কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।












