কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ চালকবিহীন বিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাহায্যে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএর বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের মহাকাশ বাহিনীর উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালির আকাশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এমকিউ-৯ ড্রোনটি শনাক্ত, প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়। তবে ড্রোনটি ঠিক কোথায় আঘাত হেনেছে, এর ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার হয়েছে কি না কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য এসেছে কি না, তা সরবরাহ করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে ড্রোন ভূপাতিতের দাবি
ইরানের দাবি অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোরে চালানো প্রতিরক্ষা অভিযানে মার্কিন ড্রোনটি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। আইআরজিসি ঘটনাটিকে শত্রুপক্ষের আরেকটি ড্রোন ধ্বংসের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে ড্রোনটি ভূপাতিত হওয়ার বিষয়ে স্বাধীন কোনো সূত্রের নিশ্চিতকরণ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
এমকিউ-৯ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে ব্যবহৃত একটি চালকবিহীন বিমান। ইরানের বিবৃতিতে এটিকে মার্কিন সামরিক ড্রোন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে ড্রোনটির নির্দিষ্ট মিশন, উড্ডয়নের উদ্দেশ্য কিংবা সেটি কোন সামরিক ইউনিটের অধীনে পরিচালিত হচ্ছিল, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
ফেব্রুয়ারি থেকে একাধিক ড্রোন ধ্বংসের দাবি
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বহু গোয়েন্দা ও যুদ্ধ ড্রোনসহ অন্যান্য প্রতিপক্ষের আকাশযান ধ্বংস করেছে। তবে বিবৃতিতে এসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তালিকা, নির্দিষ্ট সংখ্যা কিংবা প্রতিটি অভিযানের পৃথক বিবরণ তুলে ধরা হয়নি।
ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে আগ্রাসন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলেছে তেহরান। এসব অভিযোগ ইরানের সরকারি বক্তব্যের অংশ; সরবরাহ করা প্রতিবেদনে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া নেই।
আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে নতুন দাবি
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সামরিক ড্রোন ধ্বংসের এই দাবি দুই দেশের সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সামনে এসেছে। তবে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ পরিস্থিতি, ড্রোনের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এবং এর পরবর্তী প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের বিবৃতিতে ড্রোনটি ধ্বংস করার কথা বলা হলেও ঘটনাটির স্বাধীন যাচাই কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ছাড়া দাবিটির সব দিক নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।












