সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। তিন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডির চুক্তির বাকি মেয়াদ আর থাকছে না। সোমবার (১৯ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ আলাদা চিঠি দিয়ে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। চিঠিগুলো পাঠানো হয়েছে তিন ব্যাংকের চেয়ারম্যানের কাছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডিরা নির্দিষ্ট মেয়াদের চুক্তিতে নিয়োগ পান। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই চুক্তি বাতিল হলে বাকি সময় তাঁরা আর দায়িত্বে থাকেন না। এবার একসঙ্গে তিন ব্যাংকের ক্ষেত্রে সেটিই ঘটল।
সোনালী ব্যাংকের এমডি ছিলেন শওকত আলী খান। তিনি ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর তিন বছরের জন্য নিয়োগ পান। এর আগে তিনি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এমডি ছিলেন। সেই হিসাবে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৭ সালের অক্টোবরে। জনতা ব্যাংকের এমডি মো. মজিবুর রহমান নিয়োগ পান ২০২৪ সালের নভেম্বরে। রূপালী ব্যাংকের এমডি কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম নিয়োগ পান একই বছরের ডিসেম্বরে। তিনজনই দায়িত্ব নিয়েছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে। নিয়োগের তারিখ ধরলে শওকত আলী খান প্রায় দুই বছর দায়িত্বে ছিলেন। বাকি দুজন ছিলেন দুই বছরের কিছু কম সময়। অর্থাৎ তিনজনের চুক্তিরই উল্লেখযোগ্য সময় বাকি ছিল।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, তাঁদের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলে সরকার সম্মতি বা সুপারিশ দিয়েছে। তবে কেন এই সিদ্ধান্ত, চিঠিতে তার কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যাও পাওয়া যায়নি। নতুন এমডি কারা হবেন, কবে দায়িত্ব নেবেন, সে বিষয়েও কিছু জানানো হয়নি। ফলে ব্যাংকগুলোর পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডি পদটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এমডি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী। ঋণ দেওয়া, খেলাপি ঋণ আদায়, শাখা পরিচালনা ও দৈনন্দিন বড় সিদ্ধান্ত তাঁর হাত ধরেই আসে। পর্ষদ নীতি ঠিক করে, আর এমডি সেই নীতি বাস্তবে রূপ দেন। ব্যাংকের কর্মীদের নেতৃত্বও দেন তিনি। তাই এই পদে কে বসছেন, তার ওপর ব্যাংকের অনেক কিছু নির্ভর করে। সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের শাখা ছড়িয়ে আছে সারা দেশে। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত বহু মানুষের সঞ্চয়, বেতন ও ভাতার লেনদেন হয় এসব ব্যাংকে। তাই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডি পদে হঠাৎ শূন্যতা তৈরি হলে ব্যাংকের কাজের গতিতে প্রভাব পড়ার ঝুঁকি থাকে।
সাধারণ গ্রাহকের জন্য এখনই চিন্তার কিছু নেই। এমডি বদলের সঙ্গে আমানত বা হিসাবের নিয়মের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। গ্রাহকেরা আগের মতোই শাখায় লেনদেন করতে পারবেন। শাখার কাজের সময় বা গ্রাহকসেবায় কোনো পরিবর্তনের ঘোষণাও আসেনি। তবে যেকোনো ব্যাংকের জন্য নেতৃত্বে স্থিরতা জরুরি। শীর্ষ পদ দীর্ঘদিন ফাঁকা থাকলে বড় সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হতে পারে। ঋণ অনুমোদন ও আদায়ের কাজেও এর প্রভাব পড়ে। কাকে কোন যোগ্যতায় এমডি করা হচ্ছে, সেটি স্বচ্ছ হলে ব্যাংকের ওপর মানুষের আস্থা বাড়ে। তাই সামনে কারা এই তিন ব্যাংকের হাল ধরবেন, সে দিকেই এখন নজর থাকবে আমানতকারী ও ব্যবসায়ীদের।












