কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে পুরস্কারজয়ী উপন্যাস লেখার অভিযোগে হাইতিয়ান-কানাডীয় লেখক থেলিসন ওরেলিয়েনের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্ক ছিন্ন করেছে কানাডার প্রকাশনা সংস্থা লে জেদিসিওঁ দ্যু বোরেয়াল। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের তদন্তে লেখকের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে অসংগতি পাওয়া গেছে। ফলে উপন্যাসটি পুনর্মুদ্রণ না করার পাশাপাশি তাঁর ভবিষ্যৎ কোনো বইও প্রকাশ করবে না প্রকাশক।
ওরেলিয়েনের প্রথম উপন্যাসের নাম ‘সে তে সা উ মুরির’ (C’était ça ou mourir), যার ইংরেজি অর্থ ‘এটা না হলে মৃত্যু’। বইটি প্রকাশের পর একাধিক সাহিত্য পুরস্কার জেতে। পাশাপাশি বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদের পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। তবে গত মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের একটি স্বল্পপরিচিত অ্যাকাউন্টে দাবি করা হয়, উপন্যাসটি প্রায় সম্পূর্ণভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে লেখা হয়েছে। এরপর বইটির লেখার পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
অভিযোগ ওঠার পর ওরেলিয়েন এআই ব্যবহারের কথা অস্বীকার করেছিলেন। তবে অতীতে অন্যের লেখা নকল করার কিছু ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি স্বীকার করেন। নতুন তদন্তের ফল প্রকাশের পর এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
প্রকাশনা সংস্থা বোরেয়াল জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তারা বাইরের বিশেষজ্ঞদের দিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করিয়েছে। ওই বিশ্লেষণে কিছু নথির মেটাডেটায় এআই ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে।
তবে তদন্তের ফল প্রকাশ করলেও উপন্যাসটি তৈরির ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ঠিক কীভাবে বা কতটা ব্যবহার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি প্রকাশক।
এক বিবৃতিতে বোরেয়াল জানায়, উপন্যাসটি তৈরির সময় এআই কী ভূমিকা পালন করেছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। এ বিষয়ে হয়তো কখনোই চূড়ান্ত উত্তর পাওয়া সম্ভব হবে না।
প্রকাশক আরও জানায়, অভিযোগ ওঠার পরও তারা ওরেলিয়েনের বক্তব্যের ওপর আস্থা রেখেছিল। লেখক তাঁদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে তিনি এ ধরনের কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করেননি। কিন্তু তদন্তের পর তাঁর সেই বক্তব্যকে আর সত্য বলে গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এই সিদ্ধান্তের ফলে শুধু লেখকের সঙ্গে প্রকাশকের বর্তমান সম্পর্কই শেষ হচ্ছে না, তাঁর ভবিষ্যৎ সাহিত্যকর্ম প্রকাশের সম্ভাবনাও আপাতত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে পুরস্কারজয়ী বইটির পুনর্মুদ্রণও করবে না সংস্থাটি।
ঘটনাটি সাহিত্যজগতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, লেখকের মৌলিকত্ব এবং প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের কাছে লেখকের জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তবে তদন্তে এআই ব্যবহারের কিছু চিহ্ন পাওয়া গেলেও উপন্যাসটির কতটা অংশ এই প্রযুক্তির সাহায্যে লেখা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।












