যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি, জ্বালানি ও ডিজিটাল অবকাঠামোর সংযোগ এবং তথ্যকেন্দ্র বা ডেটা সেন্টার নিয়ে আলোচনা করেছেন ভারতের ধনকুবের মুকেশ আম্বানি ও তাঁর ছেলে অনন্ত আম্বানি। বুধবার (২১ অক্টোবর) আম্বানিদের পরিচালিত রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ এ তথ্য জানিয়েছে।
রুবিও দুই দিনের সফরে ভারতের মুম্বাই ও পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জামনগর সফর করেন। এ সময় তিনি দেশটির সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি। জামনগরে রিলায়েন্স পরিচালনা করে বিশ্বের বৃহত্তম তেল পরিশোধন কমপ্লেক্স।
রিলায়েন্সের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে প্রচলিত ও নতুন জ্বালানি খাতে বাণিজ্যিক অংশীদারত্বের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির পাশাপাশি জ্বালানি অবকাঠামোর সঙ্গে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও তথ্যকেন্দ্রের ক্রমবর্ধমান সম্পর্কও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন আম্বানিরা।
আলোচনায় ভেনেজুয়েলার তেল
ভারতের জ্বালানি খাতে রিলায়েন্সের অবস্থানের কারণে বৈঠকে ভেনেজুয়েলার তেলের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের রুবিও জানিয়েছিলেন, তিনি ভারতীয় প্রতিষ্ঠানটিকে দেশটির নিজস্ব পরিশোধনাগারে আরও বেশি ভেনেজুয়েলীয় অপরিশোধিত তেল পরিশোধনে উৎসাহিত করতে চান। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলায় সরাসরি তেল উৎপাদন শুরু করার সম্ভাবনা নিয়েও রিলায়েন্সের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।
জামনগরে রিলায়েন্সের দুটি বৃহৎ তেল শোধনাগারের সম্মিলিত দৈনিক অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল। এসব শোধনাগারে ভেনেজুয়েলার ভারী ও অতি ভারী অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণের সক্ষমতা রয়েছে। ভেনেজুয়েলার কিছু তেল এতটাই ঘন যে এর ঘনত্ব কাদার মতো বলে বর্ণনা করা হয়। এ ধরনের তেল পরিশোধনের জন্য বিশেষ প্রযুক্তি ও অবকাঠামো প্রয়োজন।
ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশটির অপরিশোধিত তেলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমদানিকারক হয়ে উঠেছে রিলায়েন্স। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য এবং ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ নিয়ে সম্ভাব্য নতুন উদ্যোগ ভারতের এই শিল্পগোষ্ঠীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে, তথ্যকেন্দ্র ও ডিজিটাল অবকাঠামো নিয়ে আলোচনাও তাৎপর্যপূর্ণ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং বিপুল পরিমাণ তথ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য তথ্যকেন্দ্রে প্রচুর বিদ্যুৎ ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ প্রয়োজন। ফলে জ্বালানি খাতের সঙ্গে ডিজিটাল অবকাঠামোর সমন্বয় ভবিষ্যতে নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তবে বৈঠকে আলোচিত বিষয়গুলোর ভিত্তিতে কোনো নির্দিষ্ট চুক্তি বা বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। রিলায়েন্সের বিবৃতিতে মূলত দুই পক্ষের আলোচনার বিষয়বস্তু এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়েছে।












