কিউবার রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন চান, এমন ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সঙ্গে গোপনে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান-সংক্রান্ত বিষয় সামাল দেওয়ার পর কিউবার ব্যাপারেও পদক্ষেপ নেবে ওয়াশিংটন। সমঝোতার কাজ শেষ করতে রুবিওকে পাঠানোর কথাও বলেছেন তিনি।
ফ্লোরিডায় এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান থেকে ফেরার পথে আমরা কিউবার বিষয়টি সামলে নেব। এরপর সমঝোতা চূড়ান্ত করতে মার্কো রুবিওকে পাঠাব।’
সিআইএর সঙ্গে গোপন অংশীদারত্বের আহ্বান
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় রুবিও বলেন, ‘কিউবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চান যাঁরা, তাঁদের জন্য এখনই উপযুক্ত সময়।’ মার্কো রুবিওর কিউবা নীতি ট্রাম্প প্রশাসনের কিউবা-কৌশলের কেন্দ্রে রয়েছে।
কিউবা সরকারের ওপর অসন্তুষ্ট ব্যক্তিদের উদ্দেশে রুবিও আরও বলেন, তাঁরা যেন সিআইএর সঙ্গে গোপন অংশীদারত্বের মাধ্যমে নিজেদের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনার সুযোগ কাজে লাগান। তবে এ ধরনের অংশীদারত্ব কীভাবে গড়ে তোলা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
তেল অবরোধ ও জ্বালানি সংকট
ট্রাম্প প্রশাসন আগেই জানিয়েছে, কিউবার কমিউনিস্ট সরকারে পরিবর্তন আনাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য। চলতি বছরের শুরুতে আরোপ করা যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধ কিউবার জ্বালানি সংকটকে আরও তীব্র করেছে। জ্বালানির অভাবে দেশটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘন ঘন বিঘ্ন ঘটছে। পুরোনো ও দুর্বল অবকাঠামোর কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার ইতিহাস ছয় দশকেরও বেশি পুরোনো। গত জানুয়ারিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী এক প্রাণঘাতী অভিযানে ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর হাভানার ওপর চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ জোরদার করে ট্রাম্প প্রশাসন। ভেনেজুয়েলা কিউবার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহকারীদের একটি হওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে কিউবার অর্থনীতিতে।
আলোচনার দরজা খোলা রেখেছে হাভানা
ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেনি হাভানা। গত মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপের জন্য তাঁর দেশ সব সময় প্রস্তুত থাকবে। অন্যদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা কিউবার ওপর তেল অবরোধকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছেন।
গত মাসে ট্রাম্প পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে একটি সমঝোতা হতে পারে। তখন তিনি আরও বলেছিলেন, এ জন্য সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজন হবে বলে তিনি মনে করেন না।
রুবিওর সর্বশেষ আহ্বান এবং ট্রাম্পের বক্তব্যে নতুন করে চাপ সৃষ্টির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার পথে এগোবে, নাকি চাপ আরও বাড়াবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। মার্কো রুবিওর কিউবা নীতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।












