সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের চারটি প্রদেশে শুক্রবার ‘সম্ভাব্য বিপদ’ সম্পর্কে সতর্কবার্তা জারি করেছে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। সতর্কতার আওতায় ছিল পবিত্র নগরী মক্কা, গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী জেদ্দা, তায়েফ এবং লোহিত সাগর উপকূলের তেলশিল্পকেন্দ্র ইয়ানবু। তবে সতর্কবার্তা জারির কারণ জানানো হয়নি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সতর্কতাগুলো প্রত্যাহার করা হয়।
সতর্কবার্তায় বাসিন্দাদের নিকটবর্তী নিরাপদ স্থানে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার কার্যক্রমসংক্রান্ত ছবি বা তথ্য প্রকাশ ও প্রচারের বিরুদ্ধে আইনি সতর্কতাও পুনর্ব্যক্ত করে কর্তৃপক্ষ।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর হামলার মুখে রয়েছে সৌদি আরব। ইয়েমেনে নতুন করে তীব্র হয়ে ওঠা গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এসব হামলা চালানো হচ্ছে। সৌদি-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারবিরোধী এই গোষ্ঠী এর আগে সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো ও বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে রিয়াদ বিমানবন্দরে একটি হামলায় ১৩ জন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শুক্রবারের সতর্কবার্তার সঙ্গে ওই হামলার কোনো সরাসরি যোগসূত্রের কথা সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়নি।
২০১৫ সালে ইয়েমেনের সংঘাতে হস্তক্ষেপ করে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন একটি সামরিক জোট। দীর্ঘদিনের এই যুদ্ধে দেশটির অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সৃষ্টি হয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুতর মানবিক সংকট।
২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির পর সংঘাত অনেকটা স্তিমিত হয়ে এসেছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বৃহত্তর যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে চলতি বছরের জুলাইয়ে ইয়েমেনে সংঘাত আবারও তীব্র হয়ে ওঠে। এর পর থেকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
মক্কা মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে পবিত্র নগরী হওয়ায় এবং জেদ্দা সৌদি আরবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও পরিবহনকেন্দ্র হওয়ায় এসব এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তবে সতর্কতা প্রত্যাহারের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নতুন কোনো ব্যাখ্যা দিয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।












