প্যারিসের রাজপথে সাম্প্রতিক সহিংসতার চিহ্নগুলো ফ্রান্সের গভীর সংকটের প্রতিচ্ছবি। ভাঙা দোকানের কাচ, তক্তা দিয়ে বন্ধ জানালা, আগুনে পোড়া অস্থায়ী ব্যারিকেড আর সাঁজোয়া পুলিশের উপস্থিতি—সব মিলিয়ে ফুটে উঠেছে এক অস্থির দেশের ছবি। এক রাতেই রাজধানীতে পাঁচ শতাধিক মানুষকে আটক করা হয়েছে। সারা দেশে প্রায় দেড় হাজার দোকান লুটপাটের শিকার হয়েছে। এই ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেই একজন সাধারণ মানুষকে ঝাড়ু দিয়ে কাচের টুকরো পরিষ্কার করতে দেখা গেছে। বিশৃঙ্খলার মধ্যে তাঁর এই নীরব উপস্থিতি যেন রাষ্ট্র ও সমাজের ভাঙন সামলে নেওয়ার এক ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ পরিস্থিতি নিয়ে লজ্জা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বারবার কেন এমন পরিস্থিতিতে পড়ছে ইউরোপের অন্যতম সমৃদ্ধ দেশটি? বিপুল সরকারি ব্যয়, বিস্তৃত সামাজিক সুরক্ষা এবং সম্পদ পুনর্বণ্টনভিত্তিক অর্থনীতি থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও অসন্তোষ এত তীব্র কেন?
এর উত্তর শুধু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ভুল কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে খুঁজলে চলবে না। ফ্রান্সের সংকটের গভীরে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আয়ের স্থবিরতা, সামাজিক ব্যয়ের অসম বণ্টন এবং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ। রাষ্ট্র বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও সেই ব্যয়ের সুফল সমাজের সব অংশে সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে না। এই বৈষম্যই অর্থনৈতিক অসন্তোষকে রাজনৈতিক বিস্ফোরণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
রাজপথের আগুনের পেছনে জমে থাকা ক্ষোভ

ফ্রান্স একা নয়। জ্বালানি থেকে আবাসন—জীবনযাত্রার বিভিন্ন খাতে ব্যয় বৃদ্ধি ইতালি ও পর্তুগালেও সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রেও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংকটের কারণে তেলের দাম বেড়ে যাওয়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানকে চাপে ফেলতে পারে। একই সময়ে ট্রাম্প ফ্রান্সের দিকে আঙুল তুলে নিজের সমালোচনা অন্যদিকে সরানোর চেষ্টা করছেন।
তবে ফ্রান্সে অস্থিরতা যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ২০১৮ সালের ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের স্মৃতি এখনো প্রাসঙ্গিক। এবারের সহিংসতার আগে কর্তৃপক্ষ যে জনরোষের ব্যাপকতা যথাযথভাবে বুঝতে পারেনি, তার প্রমাণ মিলেছে সারা দেশে পাঁচ লাখের বেশি মানুষের রাস্তায় নামা এবং মার্সেইয়ের মতো শহরে ব্যাপক লুটপাটের ঘটনায়।
লিমোজ শহরের সিটি হল ভাঙচুরের পর আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরটির মেয়র পুলিশের জন্য আরও সম্পদ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, বামপন্থী চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর মোকাবিলায় পুলিশ পর্যাপ্ত সক্ষমতা নিয়ে মাঠে ছিল না। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আগের প্রতিবাদগুলো নিয়ে সরকারের কার্যকর সংলাপ ও সমাধানের অভাবও উত্তেজনা বাড়িয়েছে। সরকারি ঋণের সুদ ও অর্থায়ন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে অর্থ ব্যয় করে অসন্তোষ প্রশমনের সুযোগও সংকুচিত হয়েছে।
এসব তাৎক্ষণিক ব্যর্থতা সহিংসতার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, কিন্তু মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জমে ওঠার কারণ আরও গভীরে। অর্থনৈতিক চাপ দীর্ঘদিনের, আর সামাজিক অসন্তোষের ভিত্তিও তৈরি হয়েছে বহু বছর ধরে।
বিপুল সরকারি ব্যয়, তবু মানুষের স্বস্তি কোথায়?
ফ্রান্সের অর্থনীতি ও রাজনীতির একটি বড় বৈপরীত্য হলো, দেশটি উন্নত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সরকারি ব্যয়কারী রাষ্ট্র হলেও সাধারণ মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। ২০১৯ সালের পর থেকে দেশটির সরকারি ঋণ আরও এক ট্রিলিয়ন ইউরো বেড়েছে। অথচ বিভিন্ন জরিপে দেখা যাচ্ছে, গড়ে একজন ফরাসি নাগরিকের মাসিক আয়ে প্রয়োজনীয় ব্যয় স্বচ্ছন্দে মেটানোর জন্য প্রায় ৫০০ ইউরোর ঘাটতি রয়েছে।
এই ব্যবধান মানুষের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে নাজুক করে তুলছে। আয় ও ব্যয়ের মধ্যে সামান্য পরিবর্তন ঘটলেও অনেক পরিবার দ্রুত আর্থিক চাপে পড়ছে। ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ শুধু নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; সমাজের আরও বিস্তৃত অংশে তা ছড়িয়ে পড়ছে।

সমস্যাটি বুঝতে হলে সরকারি ব্যয়ের ধরন পরীক্ষা করা জরুরি। ১৯৭৪ সালের সঙ্গে ২০২৪ সালের তুলনা করলে দেখা যায়, মোট দেশজ উৎপাদনের অনুপাতে নিরাপত্তা, বিচারব্যবস্থা ও শিক্ষার মতো সরকারি পরিষেবায় ব্যয়ের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। সাবেক সরকারি উপদেষ্টা আন্তোয়ান ফুশের হিসাব অনুযায়ী, এসব খাতে ব্যয় বেড়েছে মাত্র ০.১ থেকে ০.৩ শতাংশ পয়েন্ট।
অন্যদিকে, পেনশন খাতে ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৬.৫ শতাংশ পয়েন্ট। অর্থাৎ, কয়েক দশক ধরে একের পর এক সরকার অবসরপ্রাপ্তদের জন্য তুলনামূলক উদার সুবিধা বজায় রাখলেও শিক্ষা ও কর্মজীবনে প্রবেশ করতে থাকা তরুণদের ভবিষ্যৎ সমান গুরুত্ব পায়নি।
ফ্রান্সের শিক্ষা বাজেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পেনশন বাবদ ব্যয় হয়। এর সঙ্গে শিক্ষকদের তুলনামূলক কম বেতনের সম্পর্ক থাকতে পারে। ফলে সরকারি ব্যয় বেশি হলেই যে শিক্ষা, নিরাপত্তা ও অন্যান্য নাগরিক পরিষেবার মান সেই অনুপাতে বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
এখানেই ফ্রান্সের কল্যাণরাষ্ট্রের মৌলিক প্রশ্নটি সামনে আসে। সামাজিক সুরক্ষা বজায় রাখা জরুরি, কিন্তু সেই ব্যবস্থার অর্থায়ন ও বণ্টন যদি নতুন প্রজন্মের সুযোগ সংকুচিত করে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এর স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।
চাকরি আছে, কিন্তু জীবনযাত্রার নিশ্চয়তা নেই
প্রেসিডেন্ট মাখোঁর শ্রমবাজার সংস্কারের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান বাড়ানো। কিন্তু শুধু নতুন চাকরি তৈরি করলেই মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়া, শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ এবং উদ্ভাবনে পিছিয়ে থাকার কারণে মজুরি বৃদ্ধির গতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে উচ্চ হারে অবদান ও অন্যান্য ব্যয় কর্মীদের হাতে পাওয়া আয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
ফ্রান্সের জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ইনসির হিসাব অনুযায়ী, কোনো নিয়োগকর্তা ন্যূনতম মজুরিতে কর্মরত একজন কর্মীর বেতন প্রায় ৪৪০ ইউরো বাড়ালে ওই কর্মীর হাতে আসা অর্থ বাড়ে মাত্র ১০০ ইউরো। অর্থাৎ, নিয়োগকর্তার অতিরিক্ত ব্যয় এবং কর্মীর প্রকৃত আয় বৃদ্ধির মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে।
২০১৮ সালের ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের সময় প্রায় ৫০০ ইউরোর করমুক্ত বোনাস দিয়ে ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা করা হয়েছিল। ঘটনাটি দেখায়, সাধারণ কর্মজীবী মানুষের কাছে অতিরিক্ত আয়ের গুরুত্ব কতটা। তবে এককালীন অর্থ দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী আয়সংকটের সমাধান করা যায় না।

২০১৭ সালের পর থেকে ফ্রান্সের মধ্যম মজুরি বেড়েছে ২২.৮ শতাংশ। কিন্তু একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ছিল ২৩.৪ শতাংশ—লে মঁদের হিসাব অনুযায়ী। অর্থাৎ, নামমাত্র বেতন বাড়লেও মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলাতে না পারায় মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা চাপে পড়েছে।
তবে এই পরিস্থিতিকে অর্থনীতির সম্পূর্ণ পতন হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। ফরাসি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির গতি কমেছে, কিন্তু তা পুরোপুরি উল্টো দিকে ঘুরে যায়নি। সমস্যাটি হলো, মানুষের প্রত্যাশা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যে ব্যবধান ক্রমেই বাড়ছে। কাজ করেও স্বচ্ছলতা অর্জন করা কঠিন হলে এবং ভবিষ্যৎ আগের চেয়ে অনিশ্চিত মনে হলে অর্থনৈতিক অসন্তোষ রাজনৈতিক ক্ষোভে রূপ নেওয়া স্বাভাবিক।
এই বাস্তবতা সহিংসতা কিংবা লুটপাটকে বৈধতা দেয় না। কিন্তু সহিংসতার নিন্দা জানিয়েই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। অর্থনৈতিক হতাশা, প্রজন্মগত বৈষম্য এবং সামাজিক অবনতির অনুভূতি কীভাবে একসঙ্গে কাজ করছে, তা বুঝতে হবে।
২০২৭ সালের নির্বাচন এবং চরমপন্থার সুযোগ
মাখোঁর রাজনৈতিক প্রভাব এখন ক্ষয়িষ্ণু। ফলে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হচ্ছে। শহর ও জনপদে আগুন, ভাঙচুর এবং নিরাপত্তাহীনতার দৃশ্য উগ্র ডানপন্থী নেতা মেরিন লে পেনের সমর্থন বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, তাঁর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী উগ্র বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁকে রাজপথের অস্থিরতার উসকানিদাতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জীবনযাত্রার ব্যয় ও নিরাপত্তা যখন ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ, তখন উগ্র ডানপন্থীরা নিজেদের বিকল্প হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পায়। ইউরোপীয় ইউনিয়নে অর্থ প্রদান কমিয়ে নাগরিকদের পকেটে কয়েক শ ইউরো ফেরত দেওয়ার মতো প্রতিশ্রুতি এই রাজনৈতিক কৌশলের অংশ।
কিন্তু ব্যয় কমানোর বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া সহজ, বাস্তবায়ন কঠিন। লে পেনের পরিকল্পনায় কয়েক বিলিয়ন ইউরোর নতুন ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে, যার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে ব্লুমবার্গ ইকোনমিকস প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, ভোটারদের একাংশও ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করেছেন যে সরকারি ঋণের ক্রমবৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে।

এদিকে মধ্য-বামপন্থী রাজনীতিক রাফায়েল গ্লুকসম্যানের জনসমর্থনও বাড়ছে। তিনি মেলঁশোঁর সঙ্গে জোটে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে আগামী নির্বাচনের ফলাফল এখনই নিশ্চিত করে বলা যায় না। রাজনীতিতে ছয় মাসও দীর্ঘ সময়, আর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জনমতের পরিবর্তন নির্বাচনের হিসাব বদলে দিতে পারে।
তবু নির্বাচনী প্রতিযোগিতার ভিড়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি অনুপস্থিত: কোন সংস্কারগুলো অপরিহার্য, সেগুলোর ব্যয় কে বহন করবে এবং বর্তমান সুবিধাব্যবস্থায় কী পরিবর্তন আনতে হবে—এসব নিয়ে স্পষ্ট আলোচনা। শুধু রাজনীতিকেরাই নন, বয়স্ক ভোটারদের মধ্যেও পরিবর্তনের বিরোধিতা রয়েছে। অথচ জনসংখ্যার বয়সগত পরিবর্তন এবং সরকারি অর্থের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ ক্রমেই কমছে।
কল্যাণরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ন্যায্য সংস্কারের ওপর
ফ্রান্সের সংকটের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, বিপুল সরকারি ব্যয় নিজে থেকে সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে না। ব্যয়ের বণ্টন, কর্মসংস্থানের মান, প্রকৃত আয়, শিক্ষা এবং বিভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে সুযোগের ভারসাম্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে দুর্বলতা তৈরি হলে শক্তিশালী অর্থনীতি ও বিস্তৃত সামাজিক সুরক্ষা থাকা সত্ত্বেও অসন্তোষ জমতে পারে।
একই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব হলো, জনরোষকে কেবল আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে না দেখা এবং প্রতিটি সংকটে সাময়িক আর্থিক সুবিধা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ওপর নির্ভর না করা। কোথায় ব্যয় বাড়াতে হবে, কোথায় বিদ্যমান সম্পদ আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব এবং কীভাবে কাজের বিনিময়ে মানুষের প্রকৃত আয় বাড়ানো যায়—এসব প্রশ্নের বাস্তবসম্মত উত্তর দরকার।

ফ্রান্সের সামনে তাই দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ। একদিকে সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতা মোকাবিলা করে নাগরিকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। অন্যদিকে, সামাজিক সুরক্ষার মৌলিক উদ্দেশ্য অক্ষুণ্ণ রেখেই সরকারি ব্যয় ও অর্থনৈতিক সুযোগের বণ্টনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে। এই সংস্কার যদি কেবল তরুণদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে কিংবা অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মজীবীদের মধ্যে সংঘাত বাড়ায়, তবে তা নতুন বিভাজন তৈরি করবে। পরিবর্তনের লক্ষ্য হওয়া উচিত বিভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যতের জন্য অর্থনৈতিক সক্ষমতা রক্ষা করা।
ফ্রান্স এখনো পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থা, উন্নত প্রকৌশল দক্ষতা এবং উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সক্ষমতার অধিকারী। তাই দেশটির বর্তমান অস্থিরতাকে অনিবার্য পতন হিসেবে দেখার কারণ নেই। কিন্তু এসব শক্তিকে কাজে লাগাতে হলে স্বীকার করতে হবে যে পুরোনো ব্যবস্থার সব সুবিধা একইভাবে ধরে রাখা সম্ভব নয়।
রাজপথের আগুন হয়তো একসময় নিভে যাবে। কিন্তু মানুষের আয়, সামাজিক সুযোগ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের সমাধান না হলে ক্ষোভ আবারও ফিরে আসবে। ফ্রান্সের রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য আসল পরীক্ষা তাই শুধু সহিংসতা থামানো নয়; বরং এমন একটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো গড়ে তোলা, যেখানে নাগরিকেরা রাষ্ট্রের ব্যয়কে নিজেদের জীবনে বাস্তব উন্নতি হিসেবে অনুভব করতে পারেন। সেই পরিবর্তন ছাড়া কল্যাণরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি ও মানুষের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার মধ্যকার ব্যবধান আরও গভীর হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাবে।












