যুক্তরাজ্যের ওয়েলসের অ্যাবারফান গ্রামে ভয়াবহ ভূমিধসের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নিহতদের স্মরণ করেছেন রাজা তৃতীয় চার্লস, রানি ক্যামিলা ও প্রিন্স উইলিয়াম। ১৯৬৬ সালের ২১ অক্টোবরের সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ১৪৪ জন, যাঁদের মধ্যে ১১৬ জনই ছিল শিশু। অ্যাবারফান বিপর্যয়ের ৬০ বছর পরও সেই শোকের স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে গ্রামটির মানুষ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দক্ষিণ ওয়েলসের অ্যাবারফান গ্রামে গিয়ে স্মরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন রাজা চার্লস, রানি ক্যামিলা ও প্রিন্স উইলিয়াম। তাঁরা অ্যাবারফান মেমোরিয়াল গার্ডেনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
কয়লার বর্জ্যের স্তূপ ধসে বিপর্যয়
১৯৬৬ সালের অক্টোবরে কয়েক দিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের পর অ্যাবারফান গ্রামে কয়লার বর্জ্য দিয়ে তৈরি একটি বিশাল স্তূপ ধসে পড়ে। সেখান থেকে নেমে আসা ভূমিধস মাটির নিচে চাপা দেয় গ্রামের একটি বিদ্যালয় ও আশপাশের কয়েকটি বাড়ি। নিহত শিশুদের অধিকাংশের বয়স ছিল সাত থেকে দশ বছরের মধ্যে।
এই বিপর্যয় তৎকালীন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলেছিল। দুর্ঘটনার আট দিন পর তিনি অ্যাবারফান সফর করেন। এত দেরিতে সেখানে যাওয়ার কারণে তিনি গভীর অনুশোচনায় ভুগেছিলেন বলে জানা যায়। পরবর্তী বছরগুলোতেও তিনি একাধিকবার গ্রামটি সফর করেন এবং গ্রামবাসীর মানসিক শক্তি ও ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতার প্রশংসা করেছিলেন।
রাজা চার্লসের বক্তব্য
স্মরণ অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে বক্তব্য দেন রাজা চার্লস। তিনি বলেন, একটি সম্প্রদায় হিসেবে অ্যাবারফানের মানুষ যে কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছেন, তা কারও সহ্য করতে হওয়া উচিত নয়। তবে এত বড় বিপর্যয়ের পরও তাঁরা যে শক্তি, সহনশীলতা ও আশাবাদ নিয়ে এগিয়ে গেছেন, তার তুলনা নেই।
দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া জেফ এডওয়ার্ডস রাজপরিবারের নিয়মিত যোগাযোগ ও সফরের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ১৯৬৬ সালে তাঁর বয়স ছিল মাত্র আট বছর। এডওয়ার্ডস বলেন, অ্যাবারফানের সবচেয়ে অন্ধকার সময় থেকে বর্তমান দিন পর্যন্ত রাজপরিবার তাঁদের কথা মনে রেখেছে এবং যাঁদের হারিয়েছেন তাঁদের স্মৃতি যেন কখনো বিস্মৃত না হয়, তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছে।
অ্যাবারফান বিপর্যয়ের ৬০ বছর পরও গ্রামটির মানুষের কাছে দিনটি কেবল অতীতের ঘটনা নয়। স্বজন হারানোর বেদনা, শোকের মধ্য দিয়ে টিকে থাকার সংগ্রাম এবং সম্মিলিতভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দিনটি।












