সবুজ প্রকল্পে অর্থায়ন বাড়াতে ১ হাজার কোটি টাকার বন্ড ছাড়ছে বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ব্যাংক। ব্যাংকটি বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সবুজ বন্ড অর্থায়ন নীতিমালা মেনে কোনো ব্যাংকের এটিই দেশে প্রথম সবুজ বন্ড। রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে উদ্যোগটি ঘোষণা করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রেফাত উল্লাহ খান। ব্র্যাক ব্যাংকের সবুজ বন্ড থেকে তোলা অর্থ যাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব ভবন আর কারখানায় জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির মতো প্রকল্পে।
বন্ডটির মেয়াদ তিন বছর। এটি জিরো কুপন বন্ড, অর্থাৎ মেয়াদের মধ্যে নিয়মিত সুদ দেওয়া হবে না। বিনিয়োগকারী কম দামে কিনে মেয়াদ শেষে পুরো অভিহিত মূল্য ফেরত পাবেন। বন্ডটি জামানতবিহীন, শেয়ারে রূপান্তরযোগ্য নয় এবং পুরোপুরি পরিশোধযোগ্য। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গত ২৯ সেপ্টেম্বর এর অনুমোদন দেয়। ব্যক্তিগত প্রস্তাবের মাধ্যমে করপোরেট প্রতিষ্ঠান, প্রভিডেন্ট ও গ্র্যাচুইটি তহবিল এবং উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তিরা এটি কিনতে পারবেন। প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১০ লাখ টাকা। বিএসইসির শর্ত অনুযায়ী বন্ডটি শেয়ারবাজারের মূল বোর্ডে তালিকাভুক্ত হবে।
ব্যাংক জানিয়েছে, বন্ডের কাঠামো ইন্টারন্যাশনাল ক্যাপিটাল মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের (আইসিএমএ) গ্রিন বন্ড প্রিন্সিপলস মেনে তৈরি। স্বাধীন মূল্যায়ন হিসেবে এস অ্যান্ড পি গ্লোবাল রেটিংস এ বিষয়ে দ্বিতীয় পক্ষের মতামত দিয়েছে। তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, এই বন্ড ব্যাংকের টেকসই অর্থায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তাঁর মতে, দেশের পুঁজিবাজারকে আরও গভীর করার পথেও এটি অর্থবহ পদক্ষেপ। এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে ১ হাজার কোটি টাকার সামাজিক বন্ডের অনুমোদন পেয়েছিল ব্র্যাক ব্যাংক, যা ছিল দেশে এ ধরনের প্রথম বন্ড। বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ টেকসই ব্যাংকের তালিকায় টানা পাঁচ বছর জায়গা পাওয়ার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলাদেশের জন্য বিষয়টির গুরুত্ব অন্য জায়গায়। দেশের ব্যাংক খাত দীর্ঘদিন ধরে দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের ঘাটতিতে ভুগছে। বেশির ভাগ ব্যাংক স্বল্পমেয়াদি আমানত দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে ঋণ দেয়, এতে ঝুঁকি বাড়ে। ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ব্র্যাক ব্যাংকের সবুজ বন্ড তাই এখনো অগভীর করপোরেট বন্ড বাজারের জন্যও একটি পরীক্ষা। বিএসইসির একই সভায় আরও চারটি ব্যাংক মোট ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বন্ডের অনুমোদন পায়। এর মধ্যে ব্যাংক এশিয়ার ৮০০ কোটি টাকার টেকসই বন্ডের অর্থও সবুজ ও টেকসই প্রকল্পে যাওয়ার কথা।
সৌরবিদ্যুৎ, জ্বালানি সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি বা পরিবেশবান্ধব ভবনে বিনিয়োগ সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি হয়। এমন প্রকল্পে কম খরচে টাকা পাওয়া গেলে কারখানা ও ব্যবসায়ীরা সবুজ পথে যেতে বেশি আগ্রহী হতে পারেন। এখন দেখার বিষয়, ব্র্যাক ব্যাংকের সবুজ বন্ডে বিনিয়োগকারীরা কতটা সাড়া দেন। সংগৃহীত অর্থ কত দ্রুত মাঠের প্রকল্পে পৌঁছায়, সেটিই ঠিক করবে দেশের সবুজ বন্ড বাজার কতদূর এগোবে।












