জাপানে ধারাবাহিক সাইবার হামলায় অনলাইন সেবা ব্যাহত হওয়া এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে বিভিন্ন কোম্পানি। দেশটির আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান জিএমও ইন্টারনেট সাইবার হামলার পর গ্রাহকদের সম্ভাব্য ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সব গ্রাহককে প্রাথমিক সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে ৫ হাজার ইয়েন করে দেওয়া হবে, যা প্রায় ৩২ মার্কিন ডলারের সমান।
সাম্প্রতিক হামলাগুলো জাপানের পাশাপাশি ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবাকে বিপর্যস্ত করেছে। প্রযুক্তি ব্যবস্থার দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে সাইবার অপরাধীরা দ্রুত আক্রমণ চালাতে পারায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোম্পানি ও সরকার নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে।
জিএমও ইন্টারনেটের গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ

জিএমও ইন্টারনেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসাতোশি কুমাগাই রোববার এক ব্লগ পোস্টে জানান, প্রতিষ্ঠানটির বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন সেবায় সাইবার হামলার মাধ্যমে অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনায় গ্রাহকদের যে ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি সব গ্রাহককে প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার ইয়েন করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, হামলার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা একটি পক্ষ তাদের কাছে অর্থ দাবি করেছে। দাবি পূরণ না করলে কোম্পানি ও গ্রাহকদের তথ্য প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
তবে অর্থদাবিতে সাড়া না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জিএমও ইন্টারনেট। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে। সাইবার হামলার পর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে জাপান সরকারের কাছেও আবেদন করেছে কোম্পানিটি।
হামলার প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারেও। শুক্রবারের লেনদেন শেষে জিএমও ইন্টারনেটের বাজারমূল্য ছিল প্রায় ২৬০ কোটি ডলার। সোমবার টোকিওতে সকালে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম ১১ শতাংশ কমে যায়। একই সময়ে জাপানের বেঞ্চমার্ক শেয়ারসূচকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি।
পার্ক২৪-ও দিচ্ছে গ্রাহকদের অর্থ

জাপানে সাইবার হামলার পর গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে আরেক প্রতিষ্ঠান পার্ক২৪। টাইমস কার-শেয়ারিং সেবা পরিচালনাকারী কোম্পানিটি ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের ঘটনার পর গ্রাহকদের প্রত্যেককে ৩ হাজার ইয়েন করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
পরপর এমন ঘটনায় গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা এবং অনলাইনভিত্তিক সেবার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সাইবার হামলার কারণে শুধু প্রযুক্তিগত সেবা ব্যাহত হচ্ছে না, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা ও বাজারমূল্যেও প্রভাব পড়ছে।
এআইয়ের কারণে বাড়ছে সাইবার হামলার ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের ফলে সাইবার অপরাধীরা সফটওয়্যারের দুর্বলতা খুঁজে বের করা থেকে শুরু করে ফিশিং হামলার বার্তা তৈরির কাজও স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে পারছে। এতে সাইবার অপরাধ পরিচালনা আগের তুলনায় দ্রুত, কম ব্যয়বহুল এবং শনাক্ত করা কঠিন হয়ে উঠছে।

গত সপ্তাহে পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ হ্যাকিং প্রচেষ্টার ঘটনা ঘটে। ইন্টারনেটের বড় অংশে ব্যবহৃত এই প্রোগ্রামিং ভাষার দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে জাপান, ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট বন্ধ হয়ে যায়।
এই পরিস্থিতিতে জাপান সরকার শুক্রবার এআই ব্যবহার করে সাইবার হামলার অনুকরণমূলক পরীক্ষা চালানোর জন্য একটি দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। প্রযুক্তি ব্যবস্থার দুর্বলতা শনাক্ত করে আগেভাগে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়াই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
বিশ্বজুড়ে অনলাইন সেবার ওপর নির্ভরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার হামলার অর্থনৈতিক প্রভাবও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জাপানি কোম্পানিগুলোর ক্ষতিপূরণ দেওয়ার উদ্যোগ সেই ঝুঁকিরই প্রতিফলন।












